Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

সমাজের বেড়াজাল ভেঙে সাতপাক দুই তরুণীর

দেশে সমলিঙ্গ বিয়ে অবৈধ। পরোয়া নেই। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে জীবন কাটানোই আসল। সেটাই করে দেখালেন সুন্দরবনের প্রান্তিক গ্রামের দুই তরুণী।

সমাজের বেড়াজাল ভেঙে সাতপাক দুই তরুণীর
  • ৬ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও সংবাদদাতা, বারুইপুর: দেশে সমলিঙ্গ বিয়ে অবৈধ। পরোয়া নেই। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে জীবন কাটানোই আসল। সেটাই করে দেখালেন সুন্দরবনের প্রান্তিক গ্রামের দুই তরুণী।

Advertisement

লক্ষ্মীকান্তপুরের রিয়া সর্দার এবং কুলতলির জালাবেড়িয়ার রাখি নস্কর সমাজের সব বাঁধন ভেঙে একে অপরের সঙ্গে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হলেন। সাধারণত গ্রামের মানুষ এধরনের বিষয় ভালো চোখে দেখেন না। কিন্তু এই তরুণীদের ক্ষেত্রে ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন করা হয়। কোনও অংশ থেকেই বাধা দেওয়া হয়নি।
ছোটোবেলায় মা-বাবাকে হারিয়েছেন রিয়া। মাসি-মেসোর কাছে মানুষ হয়েছেন। অন্যদিকে, রাখির শৈশব কেটেছে একান্নবর্তী পরিবারে। দু’জনেই পেশায় নৃত্যশিল্পী। তাঁদের পরিচয় হয়েছিল ফোনে। সেখান থেকে বন্ধুত্ব এবং পরবর্তী সময়ে সেটা প্রেমে পরিণত হয়। দু’বছর ধরে এই সম্পর্কে ছিলেন দুজনে। তারপর রাখি ও রিয়া ঠিক করেন একে অপরের জীবনসঙ্গী হবেন। হার না মানা মনোভাবকে আগলে ধরে এগিয়ে চলেন। অবশেষে মঙ্গলবার রাতে আসে সেই দিন। দুই মেয়ের সিঁদুরদান, সাতপাক আগে দেখেনি কেউই। মঙ্গলবার রাতে সেই মুহূর্তের সাক্ষী থাকলেন গ্রামবাসীরা। 
কুলতলির পালেরচক গ্রামে কালীমন্দিরে যান দুজনে। তাঁরা বিয়ে করতে চান বলে গ্রামবাসীদের জানান। কেউ বাধা দেননি। উল্টে উৎসবের ঢঙে তাঁদের বিয়ের ব্যবস্থা করেন। লক্ষ্মী মিস্ত্রি নামে স্থানীয় এক প্রৌঢ়া উপস্থিত ছিলেন দুই যুবতীর বিয়েতে। তিনি বলেন, ওরা বলল, বিয়ে করবে। আমরা মন্দিরে বিয়ে দিয়েছি। জলধর মণ্ডল নামে স্থানীয় বাসিন্দারা কথায়, এখানকার ক্লাবের ছেলেরা দু’জনকে সহায়তা করেছে। এর আগে এমন বিয়ে হয়নি, আমরা দেখিওনি।
রাখির সিঁথিতে সিঁদুর দিয়ে রিতা সম্পন্ন করলেন নিজেদের সম্পর্ক। কিন্তু তাঁদের ভবিষ্যৎ কি? আইনের গেরোয় ফেঁসে যাবে না তো দুজনে? এরকম নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তাতে অবশ্য গুরুত্ব দিচ্ছেন না নব দম্পতি।
রাখি বলেন, আমাদের সম্পর্ক বাড়ির লোক মেনে নেয়নি। রিয়ার সঙ্গে থাকতে দেবে না বলেছিল বাবা। কিন্তু আমিও আমার সম্পর্কে অনড় ছিলাম। ভালোবাসা বাঁচাতে বাধ্য হয়ে বাড়ি ছাড়ি। গত কয়েক মাস ধরে রিয়ার বাড়িতে গিয়ে থাকতে শুরু করেছিলাম। ওর পরিবার শুরু থেকেই পাশে দাঁড়ায়। এখন সারাজীবন ওর সঙ্গেই থাকব। রিয়ার বক্তব্য, ভালোবাসাটাই আসল। সে পুরুষ হোক বা মহিলা তাতে কিছু যায় আসে না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ