সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: সকালে ঘুম থেকে ওঠা। তারপরেই বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশুদের সঙ্গে নিয়ে মণ্ডপসজ্জায় হাত লাগানো। মাঝে অতিথিদের নিমন্ত্রণ করতে যাওয়াও আছে। গত কয়েকদিন ধরে এটাই রুটিন ফরাসি নাগরিক জুলিয়েট বাথেলেম এবং তিমতি চপিংয়ের। চার বছর আগে ইউনেস্কো কলকাতার দুর্গাপুজোকে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছিল। ওই স্বীকৃতির মাধ্যমে দুর্গাপুজো বিশ্বে ঐতিহ্যবাহী উৎসবের মর্যাদা পায়। তারপর থেকেই বাংলার দুর্গাপুজো নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল এই দুই ফরাসি তরুণীর মধ্যে। দুর্গাপুজো নিয়ে এখানকার মানুষের মধ্যে উন্মাদনা দেখে নিজেদের ধরে রাখতে পারেনি তাঁরা। জুলিয়েট পেশায় অকুপেশনাল থেরাপিস্ট, আর তিমতি একজন নিউরো সাইকোলজিস্ট। দিন দশেক আগে তাঁরা এসেছিলেন উলুবেড়িয়ার আশা ভবন সেন্টারে।
দুয়ারে দুর্গাপুজো। প্রতি বছরের মতো এবারও এখানকার পিডব্লুডি ফোরামের উদ্যোগে বিশেষভাবে সক্ষম শিশুরা পুজোর আয়োজন করেছে। এবার তাদের থিম সবুজে বাংলা। প্রায় চার হাজার গাছ দিয়ে মণ্ডপ সাজানো হচ্ছে। এই কাজে হাত লাগিয়েছেন দুই ফরাসি তরুণী। এমনকী, কাজের ফাঁকে জেলার বিভিন্ন প্রান্তে গিয়ে অতিথিদের পুজো মণ্ডপে আসার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়ে আসছেন তাঁরা। আমন্ত্রণের সঙ্গে থাকছে পরিবেশকে নির্মল করে তোলার বার্তা। অতিথিদের তাঁরা দিচ্ছেন আশা ভবন সেন্টারের বিশেষভাবে সক্ষম শিশুদের হাতে তৈরি বাঁশের সুদৃশ্য টবে থাকা গাছের চারা।
ইতিমধ্যেই এই দুই ফরাসি তরুণী জেলার বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্তাদের হাতে আমন্ত্রণপত্র তুলে দিয়েছেন। শুক্রবার সকালে আশা ভবন সেন্টারে গিয়ে দেখা গেল, সকলের সঙ্গে হাসিমুখেই মণ্ডপসজ্জায় হাত লাগিয়েছেন দুই বিদেশিনী। কথা প্রসঙ্গে জুলিয়েট বলেন, ‘এটা একটা নতুন অভিজ্ঞতা। ভারতে না এলে দুর্গাপুজো নিয়ে বাঙালির উন্মাদনা জানতেই পারতাম না। মণ্ডপ সাজাচ্ছি, বিভিন্ন জায়গায় নিমন্ত্রণ করতে যাচ্ছি, খুব ভালো লাগছে। পুজোয় পুষ্পাঞ্জলি দেব, ধুনচি নাচ করব, আবার বির্সজনেও যাব।’ পিডব্লুডি ফোরামের সম্পাদক পুতুল মাইতি বলেন, এখানে দুই বিদেশিনী উৎসাহের সঙ্গে পুজোর বিভিন্ন কাজে হাত লাগিয়েছেন। বাংলার সংস্কৃতি দেখে তাঁরা অভিভূত। -নিজস্ব চিত্র