কাঠমাণ্ডু, ৪ আগস্ট: নেপাল বিপর্যয়ের পর কেটে গিয়েছে ৯দিন। এখনও পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলকা থেকে উদ্ধার হচ্ছে বহু মানুষের দেহ। তারই মাঝে আশার আলো দেখল রাসুয়া জেলার ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্র। ৯দিন পর জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের সুড়ঙ্গ থেকে জীবিত উদ্ধার হল দুই শ্রমিক। উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন সুড়ঙ্গের ভিতর থেকে আরো মানুষের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে ফলে এখনও ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের জীবিত উদ্ধারের আশা দেখছে তাঁরা।
এদিন নেপালের রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির আইনপ্রণেতা এবং পেশায় ইঞ্জিনিয়ার শ্রী রাম নেউপানে, যিনি উদ্ধার অভিযানের সঙ্গে যুক্ত তিনি ফেসবুক পোস্টে উদ্ধার হওয়া দুই শ্রমিকের পরিচয় প্রকাশ করেছেন। তাঁরা হলেন সঞ্জয় শাহ, এবং কবীর মহার্জন। গত ২৬ আগস্টের বিপর্যয়ের পর ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকেই অন্তত ৪০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। একই সঙ্গে নেপালের অন্তত ছয়টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে ৯০০-র বেশি শ্রমিকের কোনো খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। এর আগে শুক্রবার নেউপানে জানিয়েছিলেন, উদ্ধারকারীরা সুড়ঙ্গের আরও গভীরে এগিয়ে যাওয়ার সময় একাধিক মানুষের গলার আওয়াজ শুনতে পান। তার পরথেকেই উদ্ধার কার্য আরো জোরদার করা হয় বলে জানান তিনি।
তবে উদ্ধারকাজ এখনও অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে চলছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিকাঠামো, খারাপ আবহাওয়ার করণে অভিযান বারবার বাধার মুখে পড়ছে। সুড়ঙ্গের মুখে জমে থাকা কাদা ও ধ্বংসাবশেষ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হচ্ছে।
ত্রিশূলী-৩এ জলবিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে দু'জনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও রাসুয়া লাংটাং খোলা জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে মিলেছে মর্মান্তিক খবর। সেখানে নেপাল সেনার অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল সুড়ঙ্গের ১৫০ মিটার গভীর থেকে দুই ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করেছে। অনুমান করা হচ্ছে ভিতরে আরও মানুষ আটকে আছেন। প্রায় ৪১ জনের সঙ্গে এখনো কোনো যোগাযোগ করা যায়নি।
এদিকে শুক্রবার পর্যন্ত নেপালে বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,২৫৯ জনে। এখনও ৫,০৫৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ধ্বংসস্তূপ ও সুড়ঙ্গের গভীরে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দলগুলি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।