কাঠমাণ্ডু: নেপাল বিপর্যয়ের পর কেটেছে ৯ দিন। এখনও কাদার পুরু আস্তরণ সরালেই বেরিয়ে আসছে মৃতদেহ। বৃহস্পতিবারও বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক দেহ উদ্ধার হওয়ায় মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে,এখনও পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ১২৫৯। নিখোঁজ অন্তত ৫ হাজার। এদিকে লাগাতার বৃষ্টির জেরে ভোটেকোশী নদী তীরবর্তি এলাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস বিভাগের প্রযুক্তিবিদ সরস্বতী বিস্তা জানিয়েছেন, লাগাতার বৃষ্টির ফলে ভোটেকোশী ও ত্রিশূলী নদীর জলস্তর বাড়তে পারে। রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার ছোট ছোট নদী ও জলধারাগুলিতেও জলস্তর বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি টাপলেজুং, পাঁচথর, তেরহাথুম, ধনকুটা, ওখলঢুঙ্গা, এমনকি কাঠমাণ্ডুতেও হড়পা বানের মাঝারি ঝুঁকি রয়েছে। অন্যদিকে, নেপাল সীমান্তের কাছে তিব্বতের গিয়রং কাউন্টিতে হড়পা বানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২১ হয়েছে। এদিন উদ্ধারকাজ চলাকালীন তীব্র ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে তিব্বতের কিছু এলাকা। রিখটার স্কেলে কম্পনের মাত্রা ছিল ৫। জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্সেস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী জানিয়েছেন, ভয়াবহ হড়পা বানের পর তিব্বতে প্রায় ১০০ জন নেপালি নাগরিক নিখোঁজ। নেপালে গিয়ে নিখোঁজ মুকুল রায়ের পুত্রবধূ শর্মিষ্ঠা ভৌমিক রায়। এবার তাঁর মায়ের ডিএনএ স্যাম্পল পাঠানো হল নেপালে। মুকুল-পুত্র শুভ্রাংশু রায় একথা জানিয়েছেন। নেপাল সরকার ওই নমুনা পাঠাতে বলেছিল।
এদিকে, নিখোঁজ আত্মীয়দের মৃত বলে ধরে নিয়ে প্রতীকী শেষকৃত্য করছেন নেপালের অনেকেই। নুয়াকোটেরর বাসিন্দা মুকুন্দ রিজাল জানান, তাঁর কয়েক জন আত্মীয় এবং তাঁদের মেয়েদের খোঁজ মেলেনি। তাই তাঁদের মৃত ধরে নিয়ে পরিবার প্রতীকী শেষকৃত্য করেছে। ত্রিশূলী নদীর তীরে এক পুরোহিত নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের প্রতীক হিসাবে খড়ের পুতুল তৈরি করেন। সেগুলি ছোট ছোট কাঠের স্তূপের উপর রেখে আগুনে পোড়ানো হয়। আত্মীয়রা উপস্থিত থেকে শেষকৃত্যের ধর্মীয় আচার পালন করেন। এরইমধ্যে নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের মুখপাত্র সুনীল শর্মা জানিয়েছেন, নিখোঁজ বলে রিপোর্ট করা আরও অন্তত পাঁচ জন পর্যটক গত কয়েক দিনে ই-মেল বা ফোনের মাধ্যমে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।