Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

জেলায় পরপর দুই তৃণমূল নেতা খুন ,পুলিসের ভূমিকায় প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী

এক সপ্তাহের ব্যবধানে বীরভূম জেলায় দুই তৃণমূল নেতা খুন হয়েছেন। সাঁইথিয়ার গুলি করে মারার পর রামপুরহাটের মল্লারপুরেও বোমা মেরে তৃণমূল নেতাকে খুন করা হয়েছে।

জেলায় পরপর দুই তৃণমূল নেতা খুন ,পুলিসের ভূমিকায় প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী
  • ২৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বোলপুর: এক সপ্তাহের ব্যবধানে বীরভূম জেলায় দুই তৃণমূল নেতা খুন হয়েছেন। সাঁইথিয়ার গুলি করে মারার পর রামপুরহাটের মল্লারপুরেও বোমা মেরে তৃণমূল নেতাকে খুন করা হয়েছে। পরপর দুই নেতা খুনের ঘটনায় পুলিসের ভূমিকায় প্রশ্ন তুললেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বোলপুরের গীতাঞ্জলি প্রেক্ষাগৃহে প্রশাসনিক পর্যালোচনা বৈঠক চলাকালীন তিনি আইবি-র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, আমি খুব ব্যথিত। এই জেলায় সাতদিনের মধ্যে আমাদের দু’জন কর্মী খুন হয়েছেন। তারপরই তিনি প্রশ্ন তোলেন, আইবি কেন ফেল করবে? সেইসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান, থানার আইসির কি খবর রাখার দায়িত্ব ছিল না? এরপরই এলাকায় পুলিসি টহলদারি বাড়ানোর পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। ডিএম, এসপিদেরও সতর্ক করেন মুখ্যমন্ত্রী।

Advertisement

গত ১২জুলাই গভীর রাতে সাঁইথিয়ার কোনারপুরে শ্রীনিধিপুরের অঞ্চল সভাপতি পীযূষ ঘোষকে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করে খুন করা হয়। তিনি সাঁইথিয়া পঞ্চায়েত সমিতির কৃষি কর্মাধ্যক্ষ পদেও ছিলেন। বাড়ি থেকে মাত্র ৫০০মিটার দূরে তিনমাথার মোড় থেকে তাঁর নিথর দেহ উদ্ধার হয়েছিল। সেই ঘটনায় ত্রিকোণ প্রেমের তত্ত্ব প্রকাশ্যে আসে। পুলিস ইতিমধ্যে এক মহিলা সহ দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। সেই ঘটনার এক সপ্তাহের মধ্যেই মল্লারপুরের বিশিয়া গ্রামে তৃণমূল নেতা বাইতুল্লা শেখকে বোমা মেরে খুন করা হয়। ওই ঘটনায় পুলিস প্রথমে একজনকে গ্রেপ্তার করে। সোমবার মূল অভিযুক্ত সাগর শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিসি তদন্তে বাইতুল্লাকে খুনের নেপথ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের তত্ত্ব উঠে এসেছে। খোদ মুখ্যমন্ত্রী সেই ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করে পুলিসের ভূমিকায় প্রশ্ন তুললেন। শক্ত হাতে জেলার আইনশৃঙ্খলার রাশ ধরার পরামর্শ দিলেন। 
দুই তৃণমূল নেতা খুনের ঘটনায় আইবি-র ব্যর্থতার প্রসঙ্গ তুলে ধরার পাশাপাশি জেলাজুড়ে পুলিসি নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তদন্ত ঠিকমতো করারও নির্দেশ দেন। এদিনের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানতে চান, আইসিরা এলাকা ভিজিট করছেন? নাকা চেকিং চলছে? এরপরই তিনি বলেন, অনেক রকম চক্রান্ত চলছে। সেটা রোখার দায়িত্ব আপনাদের। আগে একটা এলাকায় পুলিস চার-পাঁচবার গাড়ি নিয়ে ঘুরত। ঘটনাস্থল বুঝতে পারত। এখন ভিজিলেন্স কমেছে। তা বাড়াতে হবে। সেইসঙ্গে শ্রাবণী মেলার প্রসঙ্গ তুলে ধরে পুলিসকে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন। পাশাপাশি সাইবার অপরাধের প্রসঙ্গ তুলে পুলিসকে আরও সতর্ক হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আনতে নোডাল অফিসার নিয়োগের ব্যাপারে মত প্রকাশ করেছেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ