সংবাদদাতা, কান্দি: দু’বারের প্রাক্তন বিধায়ক কংগ্রেসের প্রতিমা রজক তৃণমূলে যোগ দিলেন। তাঁর যোগদানে এলাকায় শুরু হয়েছে বিধানসভা ভোটের হিসেব নিকেশ। দলের অনেকেই আগামী বিধানসভায় প্রার্থী হিসেবে তাঁকে নিয়ে বাজি ধরছেন। তবে প্রতিমা দেবী সেসব নিয়ে চিন্তা করছেন না। তিনি দলের কর্মী হিসেবে মানুষের জন্য কাজ করে যেতে চাইছেন। প্রসঙ্গত, ২০০৩ থেকে ২০১১ পর্যন্ত প্রতিমা দেবী কংগ্রেসের জেলা পরিষদ সদস্য ছিলেন। এরপর ২০১১ ও ২০১৬ সালে দু’বার বড়ঞা থেকে কংগ্রেসের টিকিটে বিধায়ক নির্বাচিত হন। যদিও ২০২১ সালে তিনি আর টিকিট পাননি। এরপরেই কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয় প্রতিমা দেবীর। শনিবার সন্ধ্যায় তিনি কান্দিতে তৃণমূলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকারের হাত থেকে পতাকা নিয়ে দলে নাম লেখান। আর তারপরেই বড়ঞাজুড়ে প্রতিমা দেবীকে নিয়ে শুরু হয়েছে তুমুল চর্চা। আগামী বিধানসভায় প্রতিমা দেবীর টিকিট পাকা বলে অনেকে বাজিও ধরছেন। পাঁচথুপি গ্রামের তৃণমূল কর্মী আশরাফ হোসেন বলেন, প্রতিমা দেবীর মতো একজন শক্ত সংগঠককে পেয়ে আমরা শক্তি বাড়িয়ে ফেলেছি। কর্মীরা চাঙ্গা। আগামী বিধানসভায় আমরা ওঁর পক্ষেই বাজি ধরছি। এমন মন্তব্য অনেকেই করছেন। এলাকার চায়ের দোকান থেকে ক্লাবঘর সহ বিভিন্ন জায়গায় চলছে একই চর্চা। বড়ঞা ব্লক তৃণমূল সহকারী সভাপতি মাহে আলম বলেন, উনি দলে যোগ দিতেই গোটা এলাকায় চর্চা শুরু হয়েছে। তবে আমরা বলতে পারি যে, একজন ভাল সংগঠককে দলে পেয়েছি। উনি বিধায়ক থাকাকালীন কেউ ওঁর দিকে একবারের জন্যও আঙুল তোলেননি। উল্লেখ্য, প্রতিমা দেবী বিধায়ক থাকাকালীন বহু প্রতিক্ষিত পাঁচথুপি বাস স্টান্ড চালু হয়। এমনকী দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পিএইচই-র জল প্রকল্পও চালু করা হয়েছিল। ওঁর বিধায়ক তহবিলের টাকায় বহু রাস্তাঘাট তৈরি হয়েছিল। বড়ঞার বর্তমান বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহা বলেন, মানুষের জন্য কাজ করতে গেলে তৃণমূলে যোগ দান করা উচিত, সেটা ওঁর অনেক আগেই বোঝা উচিত ছিল। এদিন প্রতিমা দেবী বলেন, বিধানসভার টিকিট পাব বলে তৃণমূলে যোগ দিয়েছি, এটা কেউ ভেবে থাকলে ভুল করবেন। মানুষের পাশে দাঁড়াব বলেই শাসকদলে যোগ দিয়েছি। এই এলাকায় তৃণমূলকে আরও ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাব। দলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি বলেন, ভোটের টিকিট কে পাবেন সেটা ঠিক করেন দলের সর্বোচ্চ নেত্রী। আমরা সবাই কর্মী মাত্র। প্রতিমা দেবীও একজন সক্রিয় কর্মী। তিনি মানুষের জন্য কাজ করতে চান বলে আমাদের দলে যোগ দিয়েছেন।



