নিজস্ব প্রতিনিধি, পুরুলিয়া: পড়ুয়াদের সামনেই হাতাহাতিতে জড়িয়েছিলেন পুরুলিয়ার বলরামপুরের মালতী শ্যামনগর নিম্ন বুনিয়াদি স্কুলের দুই শিক্ষক। ‘নজিরবিহীন’ সেই ঘটনায় সমালোচনার ঝড় উঠেছিল জেলাজুড়ে। শিক্ষকদের আচরণের নিন্দায় সরব হয়েছিলেন অভিভাবকরা। তারপর থেকে পড়ুয়াদের স্কুলে পাঠানোও বন্ধ করে দিয়েছেন তাঁরা।
উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল বুধবার ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক হরেকৃষ্ণ মাহাত এবং সহ শিক্ষক বুদ্ধেশ্বর দাস নিজেদের মধ্যে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। পরিস্থিতির সামলাতে ছটুতে হয়েছিল পুলিসকে। সেই ঘটনার পর ১০ দিনের বেশি অতিক্রান্ত। স্কুলে একজন পড়ুয়াও আসেনি। বন্ধ মিড ডে মিলের রান্না। শিক্ষকরা অবশ্য নিয়ম করেই আসছেন। এসে স্কুলে বসে থাকেন। সময় হলে বাড়ি চলে যান। প্রধান শিক্ষক অকপট। তিনি বলছেন, ওই ঘটনার পর গত ৩ তারিখ থেকে একজন পড়ুয়াও স্কুলে আসেনি। আমি কারণ জানার চেষ্টা করেছি। অভিভাবকরা আমার বদলির দাবি তুলছেন। আমি বদলি না হলে পড়ুয়াদের স্কুলে পাঠাবেন না। প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে যিনি হাতাহাতিতে জড়িয়েছিলেন সেই বুদ্ধেশ্বরবাবু বলেন, আমরা চাই পড়ুয়ারা আসুক। লেখাপড়া করুক। কিন্তু তারা আসছে না। আমি বিষয়টি এসআই ম্যাডামকে জানিয়েছি। প্রসঙ্গত, ওই স্কুলে মোট পড়ুয়ার সংখ্যা ৮২। তবে দৈনিক গড়ে মাত্র ৪০ জন পড়ুয়া উপস্থিত থাকে। শিক্ষক তিনজন। গত ২ তারিখে খুব সামান্য কারণেই দুই শিক্ষক হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ, পড়ুয়াদের হাজিরা খাতা ও মিড ডে মিলের হিসাবপত্র ‘যকের ধন’-এর মতো আগলে রাখেন প্রধান শিক্ষক। ওইদিন সেই খাতাটিই চেয়ে বসেন বুদ্ধেশ্বরবাবু। সেই নিয়েই তুমুল বচসা শুরু হয়। তারপর হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন শিক্ষকরা। চুলের মুঠি ধরে একে অপরকে মারধর করতে থাকেন। শিক্ষকদের এই কাণ্ডকারখানা দেখে তাজ্জব হয়ে যায় পড়ুয়ারা। প্রধান শিক্ষকের দাবি, ওইদিন বুদ্ধেশ্বরবাবু হাজিরা খাতা চেয়েছিলেন। আমি তাঁকে বলেছিলাম যে হাজিরা খাতা নিলে স্কুলের সবকিছুর দায়িত্ব নিতে হবে। এই নিয়েই কথা কাটাকাটি হয়। তারপর আমাকে পড়ুয়াদের সামনেই তিনি মারধর করেন। গ্রামের কয়েকজন দুষ্কৃতীকে ডেকে এনেও আমাকে মারধর করা হয়। অভিযোগ অস্বীকার করে বুদ্ধেশ্বরবাবু বলেন, আমি সামান্য হাজিরা খাতাটিই চেয়েছিলাম। যাতে ক্লাসে গিয়ে পড়ুয়াদের উপস্থিতির হিসেব নিতে পারি। কিন্তু তাতেই যেন প্রধান শিক্ষকের গায়ে ফোস্কা পড়ে। আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। মারধর করেন। অভিভাবকেরা অবশ্য বলেন, শিক্ষকরাই যদি স্কুলে মারপিট করেন, তাহলে পড়ুয়ারা কী শিখবে? ওই প্রধান শিক্ষকের কারণে স্কুলের আজ বেহাল অবস্থা। উনি যতদিন না স্কুল থেকে ট্রান্সফার হচ্ছেন, ততদিন আমরা পড়ুয়াদের পাঠাব না। বলরামপুর চক্রের এসআই সেবা মাহাত এ বিষয়ে ফোনে বলেন, পড়ুয়ারা যে আসছে না, তা স্কুল শিক্ষকরাই আমাকে জানিয়েছেন। আমি বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) কানাইলাল বাঁকুড়া বলেন, দুই শিক্ষককে নিয়ে সংসদে বসা হয়েছিল। দু’জনের মধ্যে ঝামেলাও মিটিয়ে দেওয়া হয়েছিল। তারপরেও কেন স্কুলে পড়ুয়ারা আসছেন না, তা জানতে হবে। খোঁজ নিয়ে দেখব।