Bartaman Logo
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

২৫ কোটি টাকায় সাজবে হাওড়া স্টেশনের দুই সাবওয়ে, প্রশাসনিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত

প্রতিদিন কয়েক লক্ষ মানুষের যাতায়াত। অথচ সেই তুলনায় পরিকাঠামো এখনও মান্ধাতার আমলের। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, যত্রতত্র আবর্জনা, নোংরা জমা জল।

২৫ কোটি টাকায় সাজবে হাওড়া স্টেশনের দুই সাবওয়ে, প্রশাসনিক বৈঠকে সিদ্ধান্ত
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রতিদিন কয়েক লক্ষ মানুষের যাতায়াত। অথচ সেই তুলনায় পরিকাঠামো এখনও মান্ধাতার আমলের। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ, যত্রতত্র আবর্জনা, নোংরা জমা জল। এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনতে এবার হাওড়া স্টেশনের মেইন সাবওয়ে এবং ফেরিঘাট সাবওয়েকে নতুন করে সাজিয়ে তোলার উদ্যোগ নিল প্রশাসন। প্রায় ২৪ কোটি ৬৯ লক্ষ টাকা খরচ করে দুই সাবওয়ের সংস্কার ও আধুনিকীকরণের পরিকল্পনা করা হয়েছে। যাত্রী চলাচল আরও সহজ করা, একইসঙ্গে নিরাপত্তা বাড়ানোই মূল লক্ষ্য বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

Advertisement

বুধবার এই কাজ নিয়ে হাওড়া স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় বৈঠক হয়। পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইয়ের নেতৃত্বে ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন হাওড়ার জেলাশাসক, হাওড়া পুরসভার কমিশনার, রেলের সিনিয়র ডিভিশনাল কমার্শিয়াল ম্যানেজার, কেএমডিএ’র সিইও সহ বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকরা। এই কাজকে কীভাবে দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাওয়া যায়, তার রূপরেখা ঠিক করতেই বৈঠকে আলোচনা হয় ওইদিন। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, প্রকল্পের নথি অনুযায়ী, প্রায় ৩৫০ মিটার দীর্ঘ মেইন সাবওয়ে এবং ৫০ মিটার দীর্ঘ ফেরিঘাট সাবওয়ে হাওড়া স্টেশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যাত্রীপথ। স্টেশনের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের মধ্যে যাতায়াতের পাশাপাশি মেট্রো, বাস ও ফেরিঘাট থেকে স্টেশনে যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হল এই দুই সাবওয়ে। ঠিক হয়েছে, সাবওয়ে দু’টির দেওয়াল ও মেঝেতে গ্রানাইট বসানো হবে। ছাদে লাগানো হবে পিভিসি প্যানেল। থাকবে নতুন আলোর ব্যবস্থা, ডিজিটাল বোর্ড এবং পথ নির্দেশের ফলক। সাবওয়েতে প্রবেশ ও বেরনোর মুখে তৈরি হবে ইস্পাত ও কাচের ছাউনি। ডাস্টবিন এবং জল নিকাশির ব্যবস্থাও ঢেলে সাজা হবে। বিশেষভাবে সক্ষম যাত্রীদের জন্য থাকবে হাতল। ওয়াল আর্টের মাধ্যমে সাবওয়ের সৌন্দর্য্য বাড়ানো হবে। থাকবে পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেম।
শুধু যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্যই নয়, নিরাপত্তার দিকেও দেওয়া হচ্ছে বিশেষ নজর। জানা গিয়েছে, সাবওয়েতে ফায়ার ও স্মোক অ্যালার্ম, আগুন নেভানোর সরঞ্জাম এবং সর্বত্র সিসি ক্যামেরা বসানো হবে। বাতাস চলাচলের পুরানো ব্যবস্থাও সংস্কার করা হবে। গেট ৬ এবং ৯এ এবং ফেরিঘাট সাবওয়েতে মোট চারটি এস্কালেটর বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে। জল জমলে তা দ্রুত বের করার জন্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন পাম্পের ব্যবস্থাও থাকবে। প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই বলেন, ‘দ্রুত কাজ শুরু হবে। এই স্টেশন শুধু হাওড়ার নয়, কলকাতা ও আশপাশের এলাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবহণ জংশন। তাই বিভিন্ন দপ্তরের সমন্বয়ে স্টেশন সংলগ্ন যাত্রী পরিকাঠামোকে আরও নিরাপদ ও আধুনিক করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ