সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: ভ্যাপসা গরমের জেরে মঙ্গলবার সাঁতুড়ি থানা এলাকার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দুই পড়ুয়া অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাদের অসুস্থতার খবর জানাজানি হতেই অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পরই দুই পড়ুয়া সুস্থ হয়ে যায়। অভিভাবকদের ডেকে তাদের বাড়ি পাঠানো হয়। দুই স্কুলের তরফে বিষয়টি জেলা শিক্ষাদপ্তরে জানানো হয়েছে। অভিভাবক ও শিক্ষকদের একাংশের অভিযোগ, ভ্যাপসা গরমেও সকালের বদলে ‘ডে’ শিফটে বিদ্যালয়ের পঠনপাঠন চলছে। সকালে স্কুল হলে সমস্যা হতো না।
জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক(প্রাথমিক) কানাইলাল বাঁকুড়া বলেন, দুই পড়ুয়া অসুস্থ হওয়ার খবর পেয়েছি। বিষয়টি রাজ্যে জানানো হয়েছে। তবে মর্নিং শিফটে স্কুল করানোর বিষয়ে এখনও কোনও নির্দেশিকা আসেনি। এদিনের ঘটনার পর থেকে দুশ্চিন্তা বেড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি বছর এপ্রিল মাসের শুরু থেকে প্রাথমিকে সকালে স্কুল শুরু হয়। সেইমতো এবছরও প্রথম কয়েকদিন মর্নিং শিফটে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎই শিক্ষাদপ্তর থেকে নির্দেশিকা আসে, মর্নিং নয় ডে শিফটে স্কুল হবে। সেই নির্দেশ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন অভিভাবকদের একাংশ। কারণ এপ্রিলের শুরু থেকেই জেলাজুড়ে তীব্র গরম পড়ে। বেলা ১০টার পর কার্যত বাইরে বের হওয়া যায় না। অথচ এমন পরিস্থিতিতে জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলিতে ডে শিফটে পড়াশোনা করানো হচ্ছে। শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকরা জানান, বেশিরভাগ প্রাথমিক স্কুল একতলা। ফলে গরমে একতলা বিল্ডিংয়ে পড়াশোনা করা অতি কষ্টের। ছোট পড়ুয়ারা গরমে এমনিতেই নাজেহাল হয়ে পড়ে।
ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সাঁতুড়ির ধাড়াসডি এবং বাটকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির দুই ছাত্র স্কুলে হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়ে। দ্রুত তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা করানো হয়। বাটকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মলয়জ্যোতি গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, তীব্র গরমের জন্য ওই পড়ুয়া স্কুলে আসার পরই অসুস্থ হয়ে পড়ে। প্রাথমিক চিকিৎসার পর ওই ছাত্র সুস্থ হয়ে যায়। পরে অভিভাবকদের ডেকে বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
নিতুড়িরা ব্লকের অভিভাবক মলয় মাণ্ডি, মদন গোপ বলেন, তীব্র গরমে ছোটদের স্কুলে পাঠাতে ভয় করছে। সকালে স্কুল করানোর জন্য বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন জানিয়েছি। এবিটিএর সাঁতুড়ি সার্কেলের সভাপতি উজ্জ্বল গোপ বলেন, প্রতি বছর এপ্রিলের প্রথম দিন থেকে মর্নিং স্কুল হয়। অথচ এবছর জানি না কী কারণে শিক্ষাদপ্তর ডে স্কুল করানোর জন্য নির্দেশ দিয়েছে। অফিসে এসি ঘরে বসে রাজ্যের আধিকারিকরা হয়তো পুরুলিয়ার গরমের বিষয়ে অবহিত নন। পুরুলিয়া জেলা পরিষদের শিক্ষাদপ্তরের স্থায়ী সমিতির সদস্য কমল মণ্ডল বলেন, আমরা চাই মর্নিং শিফটে স্কুল হোক। আমরা বিষয়টি নিয়ে জেলার প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদে জানিয়েছি।