তেহরান: হরমুজ প্রণালী বন্ধের সিদ্ধান্তে রবিবার ইরানের পার্লামেন্ট অনুমোদন দিতেই বিশ্বজুড়ে তোলপাড় পড়ে গিয়েছিল। আশঙ্কা ছড়ায়, স্ট্র্যাটেজিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী যদি বন্ধ হয়ে যায়, তাহলে লক্ষ লক্ষ ব্যারেল তেল ও গ্যাসের কনসাইনমেন্টের কী হবে? সেই আশঙ্কা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে অপরিশোধিত তেলবাহী দু’টি জাহাজের গতিবিধি। ইরান পাল্টা হামলা চালাতে পারে, এই আশঙ্কায় গ্রিসের ওই দু’টি জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে ঢুকেও ফের মুখ ঘুরিয়ে নেয়। কাউউইসডম লেক ও সাউথ লয়ালিটি নামে ওই দু’টি জাহাজ ২০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহনে সক্ষম। আমেরিকা ইরানের উপর হামলা চালাতেই গ্রিসের জাহাজ মন্ত্রক হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছিল। জাহাজের গতিবিধি সংক্রান্ত একটি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুসারে, রবিবার ফাঁকা জাহাজ দু’টি হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ করে। কিন্তু কিছুক্ষণ পরেই সেগুলি ক্রমশ দক্ষিণ দিকে চলতে শুরু করে। ইরানের উপকূল থেকে দ্রুত সরে যাওয়াই ছিল দু’টি জাহাজের উদ্দেশ্য। তবে শেষ খবর অনুযায়ী, সেগুলি আপাতত ইরানের দিকে আবার যাত্রা শুরু করেছে।
এদিকে, ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জন্য বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামেও অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম একসময় ব্যারেলপিছু প্রায় ৭৯ ডলারে পৌঁছে যায়। ইউএস ডব্লিউটিআই ক্রুড অয়েলের দামও প্রায় ৭৬ ডলারে পৌঁছে যায়। যদিও পরে এই দাম কিছুটা কমেছে।
অস্থিরতা দেখা দিয়েছে শেয়ার বাজারেও। বাজার খুলতেই এশিয়ার মার্কেটে একাধিক সংস্থার শেয়ারের দাম পড়ে যায়। জাপানের টোকিওর নিক্কেই ইনডেক্স ০.১৩ শতাংশ পড়েছে। সিওল পড়েছে ০.২৪ শতাংশ। ভারতের শেয়ার বাজারেও পতন হয়েছে। আজ, সোমবার ‘রেড জোনে’ খোলে শেয়ার বাজার। সেনসেক্স পড়েছে ৫১১ পয়েন্ট। ১৪০ পয়েন্ট পড়েছে নিফটিও। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি জ্বালানি তেলের বাজারের দিকে কড়া নজর রাখছেন।
তবে পেট্রলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরি আশ্বাস দিয়েছেন, ভারতে জ্বালানি তেলের কোনও ঘাটতি হবে না। মন্ত্রী বলেছেন,‘পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির দিকে আমরা নজর রেখে চলেছি। আমরা এখন বিভিন্ন দেশ থেকে তেল আমদানি করি। হরমুজ প্রণালী দিয়ে এখন বেশি জ্বালানি আমদানি করা হয় না। এই আমদানি যাতে ব্যাহত না হয়, তার জন্য সমস্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’