সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: এদিন ছিল শ্রাবণের শেষ সোমবার। ফলে তারকেশ্বরে শিব ঠাকুরের মাথায় জল ঢালাতে আগের রাত থেকেই উপচে পড়েছিল ভিড়। তবে এর মধ্যেই অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে দুই পুণ্যার্থীর। রবিবার রাতে সিঙ্গুরের দেশাপাড়া এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় বছর সতেরোর এক কিশোরের। অন্যজন মারা যান এদিন সকালে তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে। মন্দিরের কাছেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর।
রবিবার রাতে বারুইপুরের ১৭ জন পুণ্যার্থীর একটি দল শেওড়াফুলি থেকে জল তুলে পায়ে হেঁটে তারকেশ্বরের দিকে রওনা হয়। তাঁরা বিশ্রামের জন্য সিঙ্গুরের দেশাপাড়া এলাকায় রাস্তার ধারেই বসে পড়েন। ঠিক তার পিছনেই ছিল ইলেকট্রিক ট্রান্সফরমার। ওই দলের এক সদস্যের হাতে ছিল লম্বা লোহার রড। তার মাথায় ‘জয় শ্রী রাম’ লেখা ঝান্ডা। অসাবধানতাবশত সেই রড ট্রান্সফরমারে ঠেকতেই বিকট শব্দ হয়। বেরতে থাকে আগুনের ফুলকি। এই ঘটনায় দুই তীর্থযাত্রী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সংজ্ঞা হারান। পুলিস সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের উদ্ধার করে সিঙ্গুর ট্রমা কেয়ার সেন্টারে নিয়ে যায়। সেখানে একজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসকরা। মৃতের নাম সুমন নস্কর (১৭)। তার বাড়ি বারুইপুর থানার বিন্ধ্যাখালির পারুলদা এলাকায়। অন্যজনের নাম দেব ঘরামি। তিনি জখম অবস্থায় এখন চিকিৎসাধীন শ্রীরামপুর হাসপাতালে।
তারকেশ্বরের মন্দিরে জল ঢালতে এসে মৃত্যু হল আরেক পুণ্যার্থীর। মৃতের নাম অমিত পাকড়ে। বয়স ৩৫ বছর। তাঁর বাড়ি হাওড়া জেলার বালি-দুর্গাপুরের মাকালতলা এলাকায়। এদিন সকালে বাইক নিয়ে দশ বন্ধু ও তাঁদের কয়েকজন আত্মীয় তারকেশ্বরে আসেন। মন্দিরে প্রবেশের আগে বাজিতপুর চৌমাথায় হঠাৎই অসুস্থ হয়ে পড়েন ওই ব্যক্তি। তড়িঘড়ি তাঁকে তারকেশ্বর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসা শুরু হয়। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই মৃত্যু হয় তাঁর। বালি স্টেশনের কাছে অমিতের একটি ফাস্টফুডের দোকান রয়েছে। মৃতদেহ দু’টি ময়নাতদন্তের জন্য শ্রীরামপুরের ওয়ালস হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিস। ফাইল চিত্র