Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসআইআর ইস্যুতে লাগাতার আন্দোলনে দুই দলের, জোট ভাঙতেই কুলটি পুনরুদ্ধারে ঝাঁপাবে ফব, টক্করে কংগ্রেসও

বাম আমলে কুলটি ছিল ফরওয়ার্ড ব্লকের দুর্গ। পাঁচ বার বিধায়ক থাকা সেই কুলটিতেই এক দশক পর প্রতিদ্বন্দিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বামফ্রন্টের শরিক দল ফরওয়ার্ড ব্লক

এসআইআর ইস্যুতে লাগাতার আন্দোলনে দুই দলের, জোট ভাঙতেই কুলটি পুনরুদ্ধারে ঝাঁপাবে ফব, টক্করে কংগ্রেসও
  • ১১ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: বাম আমলে কুলটি ছিল ফরওয়ার্ড ব্লকের দুর্গ। পাঁচ বার বিধায়ক থাকা সেই কুলটিতেই এক দশক পর প্রতিদ্বন্দিতা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বামফ্রন্টের শরিক দল ফরওয়ার্ড ব্লক। তাঁদের দাবি, শেষ বার ২০১১ সালে ভোটে লড়াই করে ৫০ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিল তারা। তারপর জোটধর্ম মেনে শেষ দুটি বিধানসভা নির্বাচনে এই আসন ছাড়া হয়েছিল কংগ্রেসকে। কংগ্রেসের সঙ্গে বাম  জোট ভাঙতেই ফের ফরওয়ার্ড ব্লক কর্মীরা চাঙ্গা। লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তাঁরা। দেওয়ালে সিংহ আঁকাও শুরু করে দিয়েছিলেন। যদিও দলীয় নির্দেশে তা বন্ধ রাখা হয়েছে। জানা গিয়েছে, কংগ্রেসের জোট ভাঙতেই ফরওয়ার্ড ব্লক রাজ্যের ৩৫টি আসনে লড়াই করার ইচ্ছে প্রকাশ করেছে বড় শরিক সিপিএমের কাছে। সেগুলির একটি ও অন্যতম কুলটি। 

Advertisement

ফরওয়ার্ড ব্লকের জেলা সম্পাদক ভবানী আচার্য বলেন, কোন আসনে কারা লড়াই করবে, তা বামফ্রন্টের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব ঠিক করবে। কুলটি এলাকায় আমাদের পাঁচ বার বিধায়ক ‌জয়লাভ করেছিলেন। এই বিধানসভার প্রতি প্রান্তে আজও ফরওয়ার্ড ব্লকের বহু লড়াকু কর্মী রয়েছেন। 
কুলটি বিধানসভা আসনটি ২০২১ সালে সাতশোর কম ভোটে জয়লাভ করেছিল বিজেপি। তৃণমূল প্রার্থী উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় পরাজিত হন। ‌একটা সময়ে উজ্জ্বলবাবুও ফরওয়ার্ড ব্লক নেতা ছিলেন। দু’দশক আগেই তিনি তৃণমূলে যোগদান করেন। বাম-কংগ্রেস জোট হওয়ার আগে পর্যন্ত এই আসনে তৃণমূল ও ফরওয়ার্ড ব্লকের মধ্যে টানটান লড়াই হতো। 
শুধু কুলটি নয়, পশ্চিম বর্ধমান জেলার ন’টি আসনেই লড়াই করার জন্য নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিচ্ছে বামেরা। কুলটি আসনটি ফরওয়ার্ড ব্লক দাবিদার থাকলেও বাকি আটটি আসনে আর কোনও বাম শরিক দাবিদার হবে না বলেই ধরে নিয়েছে বড় শরিক সিপিএম। তাঁরা প্রতি ব্লকে এসআইআরে নাম বাদ দেওয়া এবং দীর্ঘ বিচারাধীন তালিকা নিয়ে সরব হয়েছে। প্রতি ব্লকে ডেপুটেশন দিয়ে তৃণমূল ও বিজেপি দু’পক্ষই আক্রমণ শুরু করেছে। কয়েকদিন আগেই জামুড়িয়া ও রানিগঞ্জে সিপিএম বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছিল। আসানসোলের বিএনআর মোড় থেকে এসডিও অফিস পর্যন্ত মিছিল করে মানুষের হয়রানির জন্য তীব্র প্রতিবাদ জানায় তাঁরা। বামেদের আত্মবিশ্বাসের মূল রসদ পঞ্চায়েত নির্বাচনের ফলাফল। পঞ্চায়েত নির্বাচনের নিরিখে বিজেপি নয় তৃণমূলর প্রধান প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছিল সিপিএম। জেলার ৬২টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে একটি মাত্র পঞ্চায়েত আমরাসোতা বিরোধীদের দখল। তৃণমূল বহু চেষ্টা করেও সিপিএমের কাছ থেকে সেই পঞ্চায়েত ছিনিয়ে নিতে পারেনি। সিপিএম জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য পার্থ মুখোপাধ্যায় বলেন, আমাদের আন্দোলনে সাধারণ মানুষের স্বতঃর্স্ফুত সাড়া পাচ্ছি। 
পিছিয়ে নেই কংগ্রেসও। জানা গিয়েছে, জেলায় ন’টি বিধানসভা আসনের জন্য প্রায় ৪০ জন প্রার্থী হতে আবেদন করেছেন। কংগ্রেসও আসানসোল এবং দুর্গাপুরে ধারাবাহিক আন্দোলন করছে। তাঁরাও তীব্র ভাষায় নির্বাচন কমিশনের ভূমিকার সমালোচনা করেছে। মঙ্গলবার কংগ্রেস জেলা সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী, কংগ্রেস নেতা হরজিং সিংরা বিএনআর মোড় থেকে আসানসোল মহকুমা শাসক অফিস পর্যন্ত মিছিল করে। যোগ্য ভোটাররা কেন বিচারাধীন প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। এদিন গির্জা মোড়েও কংগ্রেসের একটি প্রতিবাদ আন্দোলন হয়। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ