Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বিজেপির ময়ূরহাট-১ পঞ্চায়েতে প্রধান পদে দাবিদার মোট দু’পক্ষ

বিজেপির ময়ূরহাট-১ পঞ্চায়েতে প্রধান পদে দাবিদার মোট দু’পক্ষ
  • ২০ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: ময়ূরহাট-১ পঞ্চায়েতের প্রধানের কুর্সিতে বসবেন কে? বৃহস্পতিবার দলের জেলা কার্যালয়ে বেশ কয়েক ঘণ্টা বৈঠকের পরও  চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হল না। রানাঘাট উত্তর-পূর্বের বিজেপির বিধায়ক এবং জেলা সভাপতির উপস্থিতি সত্ত্বেও ‘অপেক্ষা’র আশ্বাস নিয়েই ফিরতে হল প্রধান পদের দাবিদার দুপক্ষকে। 

Advertisement

গত পয়লা জুন কলকাতার নেতাজি ইন্ডোরে সভা করতে এসেছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা অমিত শাহ। সেই সভায় যোগ দিতে দলীয় নেতৃত্বের সঙ্গে কলকাতায় গিয়েছিলেন হাঁসখালি ব্লকের ময়ূরহাট ১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দীপঙ্কর দাস। সভা চলাকালীন আচমকা তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতাল এবং পরে এসএসকেএম হাসপাতালে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি। তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যুর পর খালি হয়ে যায় পঞ্চায়েতের প্রধানের কুর্সি। বিজেপি পরিচালিত সেই পঞ্চায়েতের প্রধান কে হবেন, এই নিয়ে গত কয়েকদিন দলের অভ্যন্তরে  শুরু হয়েছে ঠান্ডা লড়াই। গোষ্ঠী সমীকরণ মেনে তৈরি হয়েছে যুযুধান দুই পক্ষ। একদিকে রয়েছেন বর্তমান উপপ্রধান চায়না সরকার। অন্যদিকে বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য সমরেন্দ্র বিশ্বাস। স্ত্রী চায়না সরকারকে প্রধান করতে রীতিমতো উঠে পড়ে লেগেছেন তাঁর স্বামী জন্মেঞ্জয় সরকার। আবার সদস্যদের সমর্থনের আশায় প্রধানের কুর্সিতে বসার আশায় রয়েছেন সমরেন্দ্রবাবু। ২৪ জুন পাকাপাকি প্রধান নির্বাচন হওয়ার কথা। দু’পক্ষকেই তা জানিয়ে দিয়েছিল দল। সেই মতো কুর্সি দখলের লড়াইয়ে ভিতরে ভিতরে প্রস্তুতির খামতি রাখছে না কোনও পক্ষই। 
এমতাবস্থায় বৃহস্পতিবার নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলা পার্টি অফিসে এক বৈঠকে ডাকা হয় দু’পক্ষকেই। সেখানে উপস্থিত ছিলেন জেলা সভাপতি অপর্ণা নন্দী এবং রানাঘাট উত্তর-পূর্বের বিধায়ক অসীম বিশ্বাস। যদিও বিজেপি সূত্রের খবর, দু’পক্ষের মধ্যে কে প্রধান হবেন, তা নিয়ে এদিন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়নি। বরং প্রধান পদের দাবিদার দুই নেতার সঙ্গে ঘণ্টাখানেক আলোচনার পর জানানো হয়েছে, জেলা নেতৃত্ব নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে পরে সিদ্ধান্ত জানাবে। ফলে পঞ্চায়েতের নেতা নির্বাচন আপাতত ঝুলেই রইল। গেরুয়া শিবিরের একটি অংশের দাবি, দু’পক্ষই নিজেদের পক্ষে সমর্থনের কথা তুলে ধরেছেন। ফলে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছে বিজেপি। কারণ, ১৯ আসনের পঞ্চায়েতটিতে ১২টি (১টি আসনের সদস্য মৃত প্রধান দীপঙ্কর দাস) আসন তাদের দখলে থাকলেও ৭টি আসন রয়েছে তৃণমূলের দখলে। ফলে ভোটাভুটি হলে তৃণমূল কিং মেকার হয়ে উঠতে পারে। বিষয়টি নিয়ে বিজেপির জেলা সভাপতি অপর্ণা নন্দী অবশ্য বলেন, ‘আমরা দু’পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেছি। দল শীঘ্রই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে দেবে দু›পক্ষকেই।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ