Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তৃণমূলের লিড বাড়ানোর লক্ষ্যে ছুটছেন দুই ‘পর্ণা’

জয় নিয়ে তাঁদের মনে কোনও সংশয় নেই— বনগাঁয় তৃণমূল শিবির আত্মবিশ্বাসে স্থির। কিন্তু ধোঁয়াশা একটা আছে। সেটি হল, লিড বেশি হবে কার? বনগাঁ মহকুমার রাজনীতিতে এখন এই প্রশ্নটাই সকলের মুখে, কোন ‘পর্ণা’ শেষ পর্যন্ত অন্যজনকে ছাপিয়ে যাবেন।

তৃণমূলের লিড বাড়ানোর লক্ষ্যে ছুটছেন দুই ‘পর্ণা’
  • ২০ মার্চ, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

শ্যামলেন্দু গোস্বামী, বারাসত: জয় নিয়ে তাঁদের মনে কোনও সংশয় নেই— বনগাঁয় তৃণমূল শিবির আত্মবিশ্বাসে স্থির। কিন্তু ধোঁয়াশা একটা আছে। সেটি হল, লিড বেশি হবে কার? বনগাঁ মহকুমার রাজনীতিতে এখন এই প্রশ্নটাই সকলের মুখে, কোন ‘পর্ণা’ শেষ পর্যন্ত অন্যজনকে ছাপিয়ে যাবেন। বাগদায় এবার তৃণমূলের প্রার্থী মধুপর্ণা ঠাকুর। বনগাঁ দক্ষিণে প্রার্থী হয়েছেন ঋতুপর্ণা আঢ্য। দু’জনেরই বয়স ২৬ বছর। দু’জনেই আত্মবিশ্বাসী। তৃণমূলের এই আত্মবিশ্বাসই তাদের কাল হবে বলে মনে করছে বিরোধী বিজেপি ও সিপিএম। বিজেপির দাবি, বনগাঁ আসনটি বিজেপিকে ‘ওয়াকওভার’ দিয়ে দিয়েছে তৃণমূল।

Advertisement

প্রচারে সমান গতি তুলেছেন দুই পর্ণাই। তাঁরা দলের তরুণ তুর্কি। তাঁদের মধ্যে কে কত ব্যবধানে জিতবেন, কার নামে বেশি স্লোগান উঠছে, কার প্রচারে ভিড় ঘন—এই সব অঙ্কে এখন ব্যস্ত ঘাসফুল শিবির। মধুপর্ণার হাতে বাড়তি তাস—অভিজ্ঞতা। উপনির্বাচনে জয়ের পর বাগদায় তাঁর জমি তৈরি। ‘ঘরের মেয়ে’ ইমেজটাকেই তিনি অস্ত্র করেছেন। লক্ষ্য একটাই—আরও বড় জয়। ঋতুপর্ণা অন্য ঢঙে খেলছেন। বনগাঁ পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলার হিসাবে তাঁর অভিজ্ঞতা থাকলেও বিধানসভা ময়দানে তিনি নতুন। সেটিকেই তিনি হাতিয়ার করেছেন। পাড়া থেকে বাজার, সোশ্যাল মিডিয়ায়—সবখানেই নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। তরুণ ভোটারদের সঙ্গে সংযোগ গড়ে তোলার লাগাতার চেষ্টা চালাচ্ছেন। প্রথম বড় লড়াইয়ে নেমে ছাপ ফেলাই লক্ষ্য। যদিও বনগাঁ সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সভাপতি বিকাশ ঘোষ বলেন, ‘দল যাদের বনগাঁ জেলাতে প্রার্থী করেছে তাঁরা বিপুল ভোটে জিতবে। বনগাঁ মহকুমা এলাকার আসন নিয়ে আমরা ভাবিত নই। কারণ মানুষ বিজেপির সঙ্গে আছে ও থাকবে। এছাড়া তৃণমূলের প্রার্থীরা কেমন তা মানুষ জানে। নাম শুনলেই মানুষ মুখ ফিরিয়ে নেয়। আমরা ভাবছি লিড বাড়ানো নিয়ে।’
প্রসঙ্গত এই দু’টি বিধানসভায় নির্ণায়ক শক্তি মতুয়া ভোট। এই সম্প্রদায়ের মানুষের বিপুল পরিমাণ নাম বাদ গিয়েছে এসআইআরে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাগদা থেকে বাদ গিয়েছে ১৫ হাজার ৩০৩ জন ভোটারের নাম। বিচারাধীন তালিকায় আছেন আরও ১৪ হাজার ৪৫৯ জন। আর বনগাঁ দক্ষিণ কেন্দ্রে ৬ হাজার ৯০২ জনের নাম বাদ গিয়েছে। বিচারাধীন ১৩ হাজার ৪৪৭। ফলে মতুয়াদের উদ্বেগ রয়েছে। মধুপর্ণা ঠাকুর বলেন, ‘গতবার আমি ৩৩ হাজারের বেশি ভোটে জিতেছি। এবার ৪০ হাজার ভোটে জিতব। মানুষ আমাকে আপন করে নিয়েছে তা প্রচারে দেখতে পাচ্ছি।’ ঋতুপর্ণা আঢ্য বলেন, ‘আমি বনগাঁ পুরসভার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডে তৃণমূলের কাউন্সিলার। আমার গোটা পরিবার তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে কর্মী। আমি জয় নিয়ে নিশ্চিত। কারণ আগের বিধায়ক এলাকায় কোনো কাজই করেননি।’ ভোট এখনও বাকি, কিন্তু উত্তাপ চড়ছে দ্রুত। আর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দুই তরুণ মুখ মধুপর্ণা ও ঋতুপর্ণা। শেষ পর্যন্ত কে এগিয়ে থাকবেন? উত্তর দেবে ব্যালট। আপাতত সবাই তাকিয়ে দুই পর্ণার দিকে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ