Bartaman Logo
৩১ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কলকাতায় বেআইনি সিম চক্রের দুই পান্ডা গ্রেপ্তার

এই রাজ্য থেকে বিদেশ ও ভিন রাজ্যে ভুয়ো সিম পাচারের দুই পান্ডাকে গ্রেপ্তার করল লালবাজার। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর ও গাইঘাটা থানা এলাকা থেকে তাদের পাকড়াও করেছে সাইবার থানার পুলিস। ধৃতদের নাম কমলেশ মালাকার (২৬) ও সমরেশ সরকার (২৫

কলকাতায় বেআইনি সিম  চক্রের দুই পান্ডা গ্রেপ্তার
  • ৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এই রাজ্য থেকে বিদেশ ও ভিন রাজ্যে ভুয়ো সিম পাচারের দুই পান্ডাকে গ্রেপ্তার করল লালবাজার। উত্তর ২৪ পরগনার অশোকনগর ও গাইঘাটা থানা এলাকা থেকে তাদের পাকড়াও করেছে সাইবার থানার পুলিস। ধৃতদের নাম কমলেশ মালাকার (২৬) ও সমরেশ সরকার (২৫)। তাদের জেরা করে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন গোয়েন্দারা। উত্তর ২৪ পরগনা থেকে কলকাতায় আসত জাল সিম। সেখান থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সাইবার প্রতারকদের কমিশনের ভিত্তিতে সিম সরবরাহ করত অভিযুক্তরা। মধ্যপ্রদেশ, বিহার, ঝাড়খণ্ড সহ দেশের একাধিক রাজ্যে গিয়েছে এই রাজ্যের সিম। 

Advertisement

মাসখানেক আগে তিলজলা ও বেলেঘাটা থানা এলাকায় দু’টি পয়েন্ট অব সেলকে চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা। দু’টি জায়গায় অভিযান চালিয়ে মেলে প্রায় হাজারখানেক জাল সিম। যেগুলি প্রি-অ্যাক্টিভেটেড। গ্রাহকের আঙুলের ছাপ চুরি করে সিম কার্ডগুলিকে বেআইনিভাবে পরিষেবার যোগ্য করে তুলত পিওএসের ডিলাররা। বায়োমেট্রিক মেশিনে লাগানো হতো আঠা। সেখানে আঙুলের চাপ পড়তেই ফিঙ্গারপ্রিন্ট হাতিয়ে নিতেন দোকানদাররা। তার সাহায্যে চলত সিম জালিয়াতি। ওই দুই পিওএসের ডিলারকে গ্রেপ্তার করে সাইবার থানা। 
লালবাজার জানিয়েছে, শহরের পিওএসে আসল সিম সরাসরি টেলিকম পরিষেবা সংস্থাগুলির থেকে আসে না। তাহলে কোথা থেকে আসে এই সিম? গাইঘাটা থানা এলাকার ঠাকুরনগরের বাসিন্দা কমলেশ মালাকার এই সিম সাপ্লাই করত শহরের পিওএসে। 
লালবাজার সূত্রের দাবি, ‘কমলেশ টেলিকম’ নামে একটি দোকান রয়েছে ওই যুবকের। সেখান থেকে কিছু নন-অ্যাক্টিভেটেড ও কিছু প্রি-অ্যাক্টিভেটেড সিম আসত শহরে। প্রি-অ্যাক্টিভেটেড সিমগুলি বেশি দামে বিক্রি করত অভিযুক্ত যুবক। পুলিস জেনেছে, কলকাতা ছাড়াও দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এই ব্যবসা ফেঁদে বসেছে কমলেশ। মূলত সাইবার প্রতারকদের বিক্রি করে সিম প্রতি ৫০০ টাকা কমিশন নিত সে। 
অন্যদিকে, যুবকের আরেক ‘জুড়ি’ সমরেশ সরকার থাকে অশোকনগর থানা এলাকায়। ধৃতের বাড়ি থেকে বাজেয়াপ্ত হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র। বিভিন্ন গ্রাহকের আধার কার্ডের জেরক্স সহ সিম কার্ড উদ্ধার হয়েছে। পুলিসের দাবি, এলাকাবাসীর আধার কার্ড ও আঙুলের ছাপকে কাজে লাগিয়ে সিম কার্ড অ্যাক্টিভেট করত সে। বদলে ওই বাসিন্দাদের সিম প্রতি ২০০ টাকা দিত। এরপর সেই সিমকে কাজে লাগিয়ে প্রতারণা করত সমরেশ। তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সেই অ্যাকাউন্টটি ফ্রিজ করেছে পুলিস। 
অন্যদিকে, সিম জালিয়াতির সঙ্গে যুক্ত এক রিসিভারকে গ্রেপ্তার করল পুলিস। বুধবার রাতে হুগলির সিঙ্গুর থেকে অভিযুক্ত চন্দ্রকান্তকে পাকড়াও করেন গোয়েন্দারা। বৃহস্পতিবার ধৃতকে ব্যাঙ্কশাল আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাকে ১০ এপ্রিল পর্যন্ত পুলিস হেফাজতে রাখার 
নির্দেশ দেন।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ