Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

বছরে ২ কোটি টাকার বেশি আয়ের হ্যাটট্রিক, বিশেষ প্রশংসিত রাজ্যের দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েত

বছরে ২ কোটি টাকার বেশি আয়ের হ্যাটট্রিক, বিশেষ প্রশংসিত রাজ্যের দু’টি গ্রাম পঞ্চায়েত
  • ১২ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: গতবছরের বার্ষিক মূল্যায়নে বাংলার বেশিরভাগ পঞ্চায়েত নিজস্ব আয় বাড়াতে একপ্রকার ফেল করেছিল। তাদের আয় বৃদ্ধির উপর বারবার জোর দিতে বলেছিল রাজ্য পঞ্চায়েত দপ্তর। কিন্তু অনেক পঞ্চায়েতই তাতে এখনও পিছিয়ে। তার মধ্যেই অভূতপূর্ব কাজ করে রাজ্যের প্রশংসা পেত দুটি পঞ্চায়েত। কারণ তারা টানা তিনবছর ২ কোটি টাকার বেশি আয় করেছে। তাদের এই সাফল্যকে বাকি পঞ্চায়েতগুলির কাছে ‘মডেল’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে দপ্তর। নিজস্ব আয়ের নিরিখে শিলিগুড়ির মাটিগাড়া ব্লকের পাথরঘাটা এবং আঠারোখাই পঞ্চায়েত এখন রাজ্যের মধ্যে শীর্ষে।

Advertisement

এই দু’টি পঞ্চায়েত কীভাবে এই বিপুল আয় বাড়াতে পারল? পাথরঘাটা পঞ্চায়েতের প্রধান মহম্মদ শহিদ বলেন, কর সংগ্রহ করার উপর বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। সাধারণ নাগরিক থেকে কলকারখানা প্রত্যেকের থেকে ভালো ট্যাক্স সংগ্রহ করা হয়েছে। এছাড়াও আবর্জনা সংগ্রহ করার জন্য প্রতিমাসে প্রত্যেক বাড়ি থেকে ৫০ টাকা করে নেওয়া হয়। এসব সূত্রেই পঞ্চায়েতের ভালো রোজগার হয়েছে।
অন্যদিকে, আঠারোখাই পঞ্চায়েতের এক সরকারি পদাধিকারী জানান, তাঁদের এলাকার বিয়েবাড়ি ভাড়া দিয়েও মোটা আয় হয়েছে। কর জমা দিতেও  এগিয়ে এসেছেন মানুষজনই। একইসঙ্গে একটি খেলার মাঠ বিভিন্ন মেলা উপলক্ষ্যে ভাড়া দেওয়া হয়। তা থেকেও রোজগার হয়েছে পঞ্চায়েতের। প্রধান জানান, পাথরঘাটা পঞ্চায়েত ২০২২-২৩ সালে ২ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকার বেশি আয় করেছিল। পরের বছর তাদের আয়ের পরিমাণ ছিল ২ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকার বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষ শেষ হওয়ার আগে তাদের আয় ইতিমধ্যেই ২ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। 
অন্যদিকে, আঠারোখাই পঞ্চায়েত ২০২২-২৩ সাল থেকে চলতি অর্থবর্ষ পর্যন্ত প্রতিবছর ২ কোটির বেশি আয় করে গিয়েছে। এদের পাশাপাশি এই সময়ে আরও কয়েকটি পঞ্চায়েতের আয়পত্তর হয়েছে ভালোই। সেই তালিকায় রয়েছে পশ্চিম বর্ধমানে দুর্গাপুর মহকুমার জেমুয়া, উত্তর ২৪ পরগনায় রাজারহাট ব্লকের রাজারহাট বিষ্ণুপুর-১ পঞ্চায়েত প্রভৃতি। তাদের প্রত্যেকের বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ১ কোটি টাকার অধিক। 
পঞ্চায়েত দপ্তরের অফিসারদের বক্তব্য, একটা পঞ্চায়েত বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পে থেকেও এত টাকা পায় না। এক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব আয় যেভাবে কোটি টাকা ছাড়িয়েছে, তা যথেষ্ট প্রশংসনীয়। এসব দৃষ্টান্ত অন্য পঞ্চায়েতগুলিকেও উৎসাহিত করবে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ