নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: হুগলিতে গ্রেপ্তারির ধারাবাহিকতা চলছেই। তৃণমূলের ছোটো থেকে বড়ো নেতা, পঞ্চায়েত থেকে পঞ্চায়েত সমিতি, কাউন্সিলারদের নানা অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবারও সেই গ্রেপ্তারির প্রক্রিয়া জারি থেকেছে। সিঙ্গুর পঞ্চায়েত সমিতির কর্মাধ্যক্ষ তথা হুগলি জেলা পরিষদের প্রাক্তন বন-ভূমি কর্মাধ্যক্ষ মাণিকচন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একাধিক দুর্নীতি এবং চাকরি সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে তাঁকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এদিন পাণ্ডুয়ার সরাই-তিন্না গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান স্বপ্না মণ্ডলকে স্বচ্ছ ভারত প্রকল্পের বালতি চুরির অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর এক সঙ্গী দিলীপ বিশ্বাসকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এদিকে, জমি জালিয়াতির অভিযোগে হুগলির পিয়ারাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানকেও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতের নাম নিমাই মণ্ডল। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন জেলা সভাপতি তথা চাঁপদানির প্রাক্তন বিধায়ক অরিন্দম গুঁইনের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
এর উলটো চিত্রও আছে। শনিবার রাতেই হুগলির উত্তরপাড়ায় আক্রান্ত হয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলার অর্ণব রায়। অভিযোগ, বিজেপি কর্মীরা তাঁর উপর হামলা চালিয়েছে। তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে আক্রান্ত হয়েছেন অর্ণবের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী ও বয়স্কা মা। হামলার জেরে দুই মহিলাকেই চিকিৎসা করাতে হয়েছে। গভীর রাতে বিজেপি কর্মীদের বিরুদ্ধে অর্ণব থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। তাৎপর্যপূর্ণভাবে পুলিশ এদিন রাত পর্যন্ত হামলাকারীদের কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
বিজেপি নেতৃত্ব অবশ্য ওই হামলার দায় অস্বীকার করেছে। বিজেপির শ্রীরামপুর সাংগঠনিক জেলার সভাপতি সুমন ঘোষের দাবি, ওই ঘটনা জনরোষের ফল। বিজেপির কেউ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নয়। অর্ণব বলেন, সম্প্রতি আমার পার্টি অফিস ভেঙে দেওয়া হয়েছে। সেখানে আমি থাকাকালীন বিজেপির লোকজন হামলা চালায়। আমার মা ও স্ত্রীকেও রেহাই দেয়নি তারা। আমি পুলিশে অভিযোগ জানিয়েছি। তিন্নায় গ্রেপ্তার হওয়া উপপ্রধান স্বপ্না বলেন, আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছে। সিঙ্গুরের মানিকবাবু বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা মেটাচ্ছে বিজেপি। যদিও বিজেপির মন্ত্রী তথা বলাগড়ের বিধায়ক সুমনা সরকার বলেন, আইন তার নিজের পথে চলছে। অনিয়ম যাঁরা করেছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা হবে। পুলিশকে আইন মেনে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
শনিবার রাতে মাণিকবাবুকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার গ্রেপ্তার হয়েছেন স্বপ্না। তাঁর সঙ্গেই গ্রেপ্তার হয়েছেন দিলীপ বিশ্বাস। অভিযোগ, ওই উপপ্রধান স্বচ্ছ ভারত মিশনের বালতি তিন্না গ্রাম পঞ্চায়েতের জগন্নাথপাড়ার বাসিন্দা দিলীপ বিশ্বাসের বাড়িতে রেখেছিলেন।
সপ্তগ্রামের আকনা গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধানের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ ত্রাণসামগ্রী বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। রবিবার তৃণমূল নেতা তথা উপপ্রধান নির্মল ঘোষের বাড়িতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী অভিযান চালায়। আকনার ননীপুরের বাড়ি থেকে প্রচুর ত্রিপল, শীতবস্ত্র, ধুতি, লুঙ্গি বাজেয়াপ্ত হয়েছে। ওই সামগ্রীগুলি তিনতলার একাধিক ঘরে মজুত করে রাখা হয়েছিল। বিজেপির স্থানীয় মণ্ডল সভাপতি সুবীর ঘোষ বলেন, সরকারি জিনিস পঞ্চায়েত কর্তার বাড়িতে থাকবে কেন? আসলে সবই বিক্রি করে দেওয়ার ছক ছিল। অভিযুক্ত নেতার কোনো বক্তব্য অবশ্য মেলেনি।