নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: টার্গেট ছিল টিটাগড়ের এক ‘দাবাং’ কাউন্সিলার। তাঁকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দিতেই ছক কষা হয়েছিল। সেই মতো প্ল্যান করা হয়েছিল। সেই প্ল্যান অনুযায়ী, শুক্রবার রাতে ডানলপ মোড়ে জড়ো হয়েছিল চুনুয়া এবং তার গ্যাং। তার সঙ্গে যোগ দেয় মনীষ শুক্লা খুনের কেসে অন্যতম অভিযুক্ত খুররম। মোবাইল ফোন ট্র্যাক করে সেই তথ্য জানতে পারে পুলিস। তিনটি থানার পুলিস ও ক্রাইম ব্রাঞ্চের অফিসাররা বিশেষ টিম বানিয়ে সাদা পোশাকে ডানলপে পৌঁছে যায়। হাওড়া থেকে সাদ্দাম, মনসুরকে সঙ্গে নিয়ে এসেছিল চুনুয়া। ডানলপ থেকে তাদের গাড়িতে ওঠে খুররম ও মুন্না। গাড়িতে বসেই ‘অপারেশন’এর পুরো পরিকল্পনা হয়েছিল। কিন্তু পুলিসের অভিযানে তা ভেস্তে যায়। পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাওয়া হয় টিটাগড় থানায়। রাতভর চলে জিজ্ঞাসাবাদ। উদ্ধার হয় আগ্নেয়াস্ত্র ও এক রাউন্ড কার্তুজ। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, টিটাগড়ের ড্রাগ মাফিয়া মহম্মদ জাফর হুসেন ওরফে শাহাজাদার ডান হাত বলে পরিচিত চুনুয়া। তার প্রকৃত বাড়ি টিটাগড়ের জি সি রোডে। তবে বহু দিন ধরে টিটাগড় ছেড়ে অন্যত্র থাকছিল বছর বিয়াল্লিশের ওই দুষ্কৃতী। খুন সহ একাধিক অভিযোগে তাকে খুঁজছিল পুলিস। মাস তিনেক আগে মাদক পাচারের মামলায় শাহাজাদাকে গ্রেপ্তার করে বারাকপুর পুলিস কমিশনারেট। সেই সময় চুনুয়াও শাহাজাদার গাড়িতে থাকলেও, তাকে চিনতে পারেননি তদন্তকারীরা। সেই সুযোগে পালিয়ে গিয়েছিল চুনুয়া। পরবর্তী সময়ে পরিচয় জানতে পেরে তার উপর নজর রাখা শুরু হয়। পুলিস জানতে পারে, টিটাগড়ের ওই কাউন্সিলারকে খতমের পরিকল্পনা বাস্তাবায়িত করতে শুক্রবার রাতে হাওড়া থেকে একটি গাড়িতে বারাকপুরের দিকে আসছে ওই দুষ্কৃতী। অন্যদিকে মনীশ শুক্লা খুনের ঘটনায় জেল খাটা আসামী খুররমও ডানলপে এসে চুনুয়াদের সঙ্গে যোগ দেবে বলে জানতে পারে পুলিস। খুররম-চুনুয়ার গ্রেপ্তারিতে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে টিটাগড়-বারাকপুর এলাকায়। বারাকপুরের পুলিস কমিশনার মুরলীধর শর্মা বলেন, আহমেদ আলি ওরফে চুনুয়া, শেখ সাদ্দাম হুসেন, মহম্মদ মনসুর, মহম্মদ আলি ওরফে মুন্না, মহম্মদ আফাতাসাম ওরফে খুররমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। খুনের উদ্দেশ্যে ওই দুষ্কৃতীরা এলাকায় ঢুকছিল বলে প্রাথমিক জেরায় স্বীকার করেছে। ধৃতদের হেফাজতে নিয়ে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করে বিস্তারিত জানার চেষ্টা হচ্ছে।



