Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

পুলিশ পরিচয়ে কেপমারি, সোনার গয়না হাতিয়ে চম্পট দিল ২ দুষ্কৃতী

পুলিশের ‘পিসি পার্টি’ বা সাদা পোশাকের কর্মীদের চেকিং চলছে। এলাকায় ছিনতাই হয়েছে। এই অছিলায় রীতিমতো ডায়েরি বের করে ব্যবসায়ীর নাম, বাড়ির ঠিকানাসহ অনেক তথ্য নেওয়া হল।

পুলিশ পরিচয়ে কেপমারি, সোনার গয়না হাতিয়ে চম্পট দিল ২ দুষ্কৃতী
  • ২৭ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: পুলিশের ‘পিসি পার্টি’ বা সাদা পোশাকের কর্মীদের চেকিং চলছে। এলাকায় ছিনতাই হয়েছে। এই অছিলায় রীতিমতো ডায়েরি বের করে ব্যবসায়ীর নাম, বাড়ির ঠিকানাসহ অনেক তথ্য নেওয়া হল। সতর্কও করা হল তাঁকে। তার পাশাপাশি জোরপূর্বক ওই ব্যবসায়ীকে তাঁর হাতের ও গলার সোনার গয়না খোলানো হয়। এরপর সেসব সাদা খামের মধ্যে ঢুকিয়ে স্কুটির ডিকিতে রাখতে বাধ্য করা হয়। পরে ওই ব্যবসায়ী দেখেন, তাঁর স্কুটিতে রাখা সাদা খামে আসলে রয়েছে পাথর! আসল গয়না নিয়ে চম্পট দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। সকাল ১০টা নাগাদ এই চাঞ্চল্যকর কেপমারির ঘটনা ঘটেছে বরানগরে সেন্ট্রাল মডেল স্কুল লাগোয়া এলাকায়।

Advertisement

পুলিশ জানিয়েছে, রাজেন্দ্র সাউ ৮৭, কাশীপুর রোডের এক আবাসনের বাসিন্দা। বরানগর কালীতলা মাঠ লাগোয়া এলাকায় তাঁর হার্ডওয়্যার দোকান। তিনি গত ২১ তারিখ সকাল ১০টা নাগাদ স্কুটিতে বাড়ি থেকে তাঁর দোকানে যাচ্ছিলেন। দোকান কালীতলা মাঠ লাগোয়া এলাকায়। বরানগর সেন্ট্রাল মডেল স্কুল লাগোয়া রাস্তায় দুই যুবক তাঁর পথ আটকায়। লম্বা-চওড়া ওই দুই যুবক বুলেট বাইক নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারা রাজেন্দ্রবাবুকে জানায়, এই রাস্তায় সকালে ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তাদের দাবি, তারা বরানগর থানার স্টাফ এবং পিসি পার্টির সদস্য। সকাল থেকে তারা এই রাস্তায় পোস্টিং। 
এরপর এক যুবক পকেট থেকে কলম বের করে হাতের ডায়েরিতে ব্যবসায়ীর নাম ও ঠিকানা লেখা শুরু করে। অপর যুবক চেক করতে থাকে তাঁর গাড়ির কাগজপত্র। এরপর তারা ব্যবসায়ীকে পরামর্শ দিয়ে বলে, ‘আপনারা কেন এসব সোনা পরে রাস্তায় বের হন? সোনা কাকে দেখাতে চান? আপনাদের জন্য আমাদের রাতের ঘুম উড়ে যাচ্ছে! পরিস্থিতি ভালো নয়। হাতের ও গলার সোনার গয়না তাড়াতাড়ি খুলে স্কুটির ডিকিতে রাখুন।’ 
তাদের কথায় রাজি হয়ে ব্যবসায়ী স্কুটি নিয়ে এগিয়ে যান। ওই রাস্তায় কয়েকশো মিটার তিনি এগোতে না এগোতেই ওই দুই যুবক দ্রুত গতিতে বাইকে এসে ফের তাঁর পথ আটকায়। কার্যত হুমকির সুরে তারা বলে, আপনি তো আচ্ছা লোক মশায়। পুলিশের কথা শুনছেন না। এখনই গয়না খুলে ডিকিতে রাখুন। ওই ব্যবসায়ী বাধ্য হয়ে সেসব খুলে তাঁর স্কুটির ডিকিতে রাখতে যান। তখন তারা একটি খাম এগিয়ে দেয়। বলে, ‘এই খামে ঢুকিয়ে রাখুন।’ এরপর হাতের কারসাজিতে তারা সোনার গয়না ভরতি খামটি হাতিয়ে নেয় এবং পাথর ভরতি একটি খাম ঢুকিয়ে দেয় ডিকিতে। তারপরই চম্পট! 
ব্যবসায়ী ওইদিনই বরানগর থানায় বিষয়টি জানায়। তাঁকে সঙ্গে নিয়ে পুলিশ এলাকা পরিদর্শনের পাশাপাশি সিসি ক্যামেরার ফুটেজও খতিয়ে দেখে। তবে এই ঘটনায় অভিযোগটি পুলিশ সরকারিভাবে নথিবদ্ধ করেছে অবশ্য শনিবার। রাজেন্দ্রবাবু বলেন, ‘সকাল ১০টায় এমনটা ঘটবে স্বপ্নেও ভাবিনি! প্রতিদিন এই রাস্তায় যাতায়াত করি। আশা করছি, অপরাধীরা শীঘ্রই ধরা পড়বে।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ