সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ভিনরাজ্য থেকে কাজ করে বাড়ি ফেরার পথে পৃথক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল দুই পরিযায়ী শ্রমিকের। জখম হয়েছেন আরও পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে চারজন পরিযায়ী শ্রমিক। সকলের চিকিৎসা চলছে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ভিনরাজ্য থেকে কাজ করে বাড়ি ফেরার পথে পৃথক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল দুই পরিযায়ী শ্রমিকের। জখম হয়েছেন আরও পাঁচজন। তাঁদের মধ্যে চারজন পরিযায়ী শ্রমিক। সকলের চিকিৎসা চলছে রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
মৃতরা হলেন, মিতুল শেখ (৩৭) ও রসেন সরেন (২৬)। প্রথমজনের বাড়ি মুর্শিদাবাদের সূতির খাঁপুর গ্রামে। অপরজন দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার শ্যামপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। জানা গিয়েছে, মাস তিন-চারেক আগে মিতুল সহ ওই এলাকার পাঁচজন শ্রমিক ছত্তিশগড়ের রায়পুরে রাজমিস্ত্রির কাজে গিয়েছিলেন। ঈদ উপলক্ষ্যে সেখান থেকে তাঁরা একটি নতুন পিকআপ ভ্যানে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পিকআপ ভ্যানটি রায়পুর থেকে অসমের একটি শোরুমে যাচ্ছিল। কাছাকাছি এলাকায় ওই শ্রমিকের নেমে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার কিছুটা আগেই বুধবার রাত নটা নাগাদ রানিগঞ্জ মোড়গ্রাম ১৪ নম্বর জাতীয় সড়কের নগরা মোড়ের কাছে ধারে দাঁড়িয়ে থাকা একটি লরির পিছনে সজোরে ধাক্কা মারে পিকআপ ভ্যানটি। প্রথমে স্থানীয় মানুষজন ও পরে পুলিস এসে চালক সহ জখম শ্রমিকদের উদ্ধার করে রামপুরহাট মেডিক্যালে পাঠায়। সেখানে মিতুলকে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। বাকিদের চিকিৎসা চলছে। মৃতের দাদা ফারিকুল ইসলাম বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে ভাই সহ গ্রামের পাঁচজন ছত্রিশগড় থেকে বাড়ি ফিরছিল। কিন্তু বাড়ি ফেরা হল না ভাইয়ের। বাকিরাও গুরুতর জখম হয়েছে।
অন্যদিকে বুধবার সাঁইথিয়া রেলব্রিজের কাছে রেল লাইনের ধার থেকে রসেনের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তিনি সেকেন্দ্রাবাদে শ্রমিকের কাজে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ট্রেন ধরে হাওড়ায় আসেন। বুধবার হাওড়া থেকে অন্য একটি ট্রেন ধরে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। সাঁইথিয়া জিআরপি ওসি মহম্মদ সামসুল আলম বলেন, অসাবধানবশতঃ ট্রেন থেকে পড়ে ওই শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। তবে কোন ট্রেন থেকে তিনি পড়েছেন সেটা জানা যায়নি। দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য রামপুরহাট মেডিক্যালে পাঠানো হয়।
ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার মর্গে আসেন বাবা রসেন সরেন। তিনি বলেন, দুই মেয়ে দুই ছেলে আমার। ছেলেদের মধ্যে বড় ছিল রসেন। বেশি উপার্জনের আশায় ভিনরাজ্যে যাওয়াই কাল হল তাঁর।