Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

এসএফ রোডের দু’ধারে একশো মিটারের ব্যবধানে দুই নেতার পুজো

স্টেশন ফিডার রোডে ১০০ মিটারের মধ্যে রাস্তার দু’ধারে শিলিগুড়ির দু’টি পুরনো পুজো আলাদা করে নজর কাড়ে। শিলিগুড়ি শহরের বিগ বাজেটের পুজোগুলির মধ্যে মিলনপল্লি সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি এবং মিলনপল্লি যুবক বৃন্দের পুজোর দিকে তাকিয়ে থাকেন সকলে।

এসএফ রোডের দু’ধারে একশো মিটারের ব্যবধানে দুই নেতার পুজো
  • ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: স্টেশন ফিডার রোডে ১০০ মিটারের মধ্যে রাস্তার দু’ধারে শিলিগুড়ির দু’টি পুরনো পুজো আলাদা করে নজর কাড়ে। শিলিগুড়ি শহরের বিগ বাজেটের পুজোগুলির মধ্যে মিলনপল্লি সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি এবং মিলনপল্লি যুবক বৃন্দের পুজোর দিকে তাকিয়ে থাকেন সকলে। দুর্গাপুজোকে ঘিরে দুই কমিটির মধ্যে বরাবর রেষারেষি রয়েছে। চমকের এই লড়াই প্রত্যেক বছরই নিত্যনতুন থিমে এই দু’টি ক্লাব পুজো করে। এবারও তার অন্যথা হচ্ছে না। 

Advertisement

মিলনপল্লি সার্বজনীন পুজো তৃণমূলের সদ্য প্রাক্তন দার্জিলিং জেলা (সমতল) যুব সভাপতি নির্ণয় রায়ের পুজো হিসেবে পরিচিত। আর মিলনপল্লি যুবক বৃন্দের পুজো শিলিগুড়ি পুরসভার ৪ নম্বর বরো চেয়ারম্যান তথা ২৫ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার যতন সাহার পুজো। শাসকদলের এই দুই হেভিওয়েট নেতার পুজো যে আলাদা করে নজর কাড়বে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। 
সেই প্রত্যাশাকে মান্যতা দিতে এবার মিলনপল্লি সার্বজনীন পুজোর থিম ‘রত্নগর্ভা’। আর মিলনপল্লি যুব বৃন্দ অক্ষরধাম মন্দিরের আদলে পুজো মণ্ডপ তৈরি করছে। প্রতিমায় আনা থেকে পুজোর উপাচার সবেতেই থাকে সাবেকিয়ানার ছোঁয়া। চমকের লড়াই থাকলেও ঘরোয়া পরিবেশে সাবেকিয়ানার মধ্য দিয়ে বাঙালির সংস্কৃতি ও কৃষ্টিকে আন্তরিকভাবে মেলে ধরা এবারের পুজোর মূল ভাবনা বলে জানিয়েছেন পুজো উদ্যোক্তারা। তাঁদের দাবি, রাস্তার ধারে অক্ষরধামের আদলে মণ্ডপ এবং আলোকসজ্জা সকলের নজর কাড়বে। প্রতিমাতেও থাকবে চমক। 
সেখানে থিমের চমকে মিলনপল্লি সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটি প্রাধান্য দিচ্ছে নারীর সম্মানকে। এই সম্মান পাওয়ার ক্ষেত্রে রাজা রামমোহন রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে স্মরণ করা হয়েছে। মণ্ডপে ঢুকতেই রাজা রামমোহন রায় ও বিদ্যাসাগরের স্ট্যাচু থাকবে। মণ্ডপের ভিতরেই সতীদাহ প্রথা ও বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধে রাজা রামমোহন রায় ও বিদ্যাসাগরের অবদান তুলে ধরতে নানা ধরনের মডেল ও উক্তিতে গোটা মণ্ডপ সেজে উঠবে। বাল্যবিবাহ ও সতীদাহ প্রথার যন্ত্রণা ও কুফল ফুটিয়ে তোলা হবে মডেলের মাধ্যমে। সেজন্য থাকবে বাসরঘর।  নির্ণয় রায় বলেন, সতীদাহ প্রথা ও বাল্যবিবাহ বন্ধ না হলে এবং বিদ্যাসাগর কন্যশিশুর শিক্ষার ব্যাপারে উদ্যোগী না হলে মহিয়সী নারীদের আমরা পেতাম না। আজকের সমাজে নারীদের কৃতিত্ব ও সম্মান বিশেষ করে এই বাংলায় নারী জাতি যে সম্মান পাচ্ছে তার বীজ বপণ করে গিয়েছেন এই দুই মনীষী। তাই আমাদের মহিলাদের সম্মান জানাতে এবং যে মহিলারা সমাজকে আলোকিত করেছেন তাঁদের তুলে ধরার জন্যই আমাদের থিমের নাম রত্নগর্ভা।  মিলনপল্লি সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির মণ্ডপ তৈরি চলছে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ