Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

অবৈধ খাদানে কয়লা কাটতে গিয়ে মৃত ২ তুমুল উত্তেজনা, বিধায়ককে ঘিরে বিক্ষোভ

কয়লা চুরি করতে গিয়ে অবৈধ খাদানে দুই বাসিন্দার মৃত্যু ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল জামুড়িয়ায়।

অবৈধ খাদানে কয়লা কাটতে গিয়ে মৃত ২ তুমুল উত্তেজনা, বিধায়ককে ঘিরে বিক্ষোভ
  • ২৯ জুন, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: কয়লা চুরি করতে গিয়ে অবৈধ খাদানে দুই বাসিন্দার মৃত্যু ঘিরে তুমুল উত্তেজনা ছড়াল জামুড়িয়ায়। শুক্রবার গভীর রাতে দুই বাসিন্দার নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা ঘটে। শনিবার দিনভার তাই নিয়ে উত্তপ্ত থাকল জামুড়িয়া থানার নর্থ সিয়ারসোল কোলিয়ারি সংলগ্ন আমবাগান এলাকা। অবৈধ কয়লা কারবারের রমরমা নিয়ে স্থানীয়দের নিয়ে তুমুল বিক্ষোভ দেখান বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। ঘটনাস্থলে এলে তৃণমূল বিধায়ক হরেরাম সিংকে ঘিরে বিক্ষোভ প্রদর্শন হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে হিমশিম খেতে হয় পুলিসকে। ডিসি ধ্রুব দাস বলেন, একটি ঘটনা ঘটেছে। আমরা পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। জানা গিয়েছে, জামুড়িয়া থানার হিজলগড়া গ্রাম পঞ্চায়েতের বাড়ুল গ্রামের চারজন মিলে কয়লা কাটতে গিয়েছিল আমবাগান এলাকার অবৈধ খাদানে। প্রথমে খাদানে নামে সঞ্জিত বাউরি (৩২) ও রবি কর্মকার (৪২)। শুক্রবার রাত বারোটা নাগাদ খাদানের উপরে থাকা দু’জন বুঝতে পারেন, খাদানে কোনও বিপদ ঘটেছে। তারপরই তাঁদের উদ্ধার করার জন্য তাঁরা তৎপর হন। রাত ২ টো নাগাদ এলাকার অনেকেই এই অঘটনের বিষয় জেনে যান। নর্থ সিয়ারসোল কোলিয়ারিতে গিয়ে মানুষের উদ্ধার করার আ঩র্জি জানানো হলেও কাজের কাজ হয়নি। ভোরের আলো ফুটতেই ভিড় বাড়তে থাকে এলাকায়। প্রশাসনিক ভাবে উদ্ধারকার্য শুরু না হওয়ায় স্থানীয়রাই তা শুরু করেন। প্রথমে একটি মুরগি নামিয়ে দেখা যায়, সেটি সঙ্গে সঙ্গেই মারা যায়। এরপর এই কাজে যাঁরা পটু তাঁরা দাবি করেন, খাদানে বিষাক্ত গ্যাস রয়েছে তাই অঘটনা ঘটেছে। তাই কেউ আর খাদানে নামার সাহস দেখাননি। দুপুরে স্থানীয়রাই চেষ্টা করে সঞ্জিত বাউরির দেহ খাদান থেকে উদ্ধার করে। উদ্ধার কাজে টালবাহানা ও ক্ষতিপূরণের দাবিতে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। হাজির হন নিখোঁজ ও মৃতের পরিবারের লোকজনও। তাঁরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। এই পরিস্থিতিতেই এলাকায় জামুড়িয়ার বিধায়ক হরেরাম সিং এলে তাঁকে ঘিরে তুমুল বিক্ষোভ দেখান সাধারণ মানুষ। বিজেপি নেতা কর্মীরাও সেই বিক্ষোভে ইন্ধন জোগাতে থাকেন। বিধায়ক বলেন, আমি সকালে খবর পেয়েছি দুর্ঘটনার। তারপর তাঁদের উদ্ধার করার জন্য যথাসম্ভব চেষ্টা করেছি। ইসিএলেকেও বলেছি। তাঁরা কোনও দায়িত্ব নিতে চাইছে না। অবৈধ খাদান বলে ক্ষতিপূরণ দিতে চায় না। উদ্ধারের কাজও করতে চায় না। আমরা প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণ দেব। বিজেপি রাজনীতি করা ছাড়া কিছুই করে না। 

Advertisement

পরে বিকাল নাগাদ ইসিএলের উদ্ধারকারী দল এলাকায় আসে। তারা দ্বিতীয় মৃতদেহটি উদ্ধার করে। দু’টি মৃতদেহ উদ্ধারের পরও ক্ষতিপূরণের দাবিতে তুমুল বিক্ষোভ ও অবরোধ হয়। পরে পুলিসি আশ্বাসে অবরোধ ওঠে। 
এলাকা সূত্রে জানা গিয়েছে, রমরমিয়ে চলছে এলাকার অবৈধ কয়লা কারবার। যে সব অবৈধ খাদানগুলি দীর্ঘদিন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, তা খোলা হচ্ছে। সেখান থেকেই কয়লা তোলা হচ্ছে। সেই কাজ করতেই এঁরা হাজির হয়েছিলেন। পুরো বিষয়টি কয়লা মাফিয়ারা নিয়ন্ত্রণ করছে। স্থানীয় শ্রমিকরা ৪০০ টাকা মজুরির জন্য প্রাণ হাতে নিয়ে কয়লা কাটতে নামছেন খাদানে। এলাকাবাসীর ক্ষোভ, এলাকায় একের পর এক অবৈধ কয়লা খাদান গজিয়ে উঠছে পুলিস কিছুই দেখতে পায় না। এই অভিযোগ ঘিরে পুলিসও দফায় দফায় বিক্ষোভের মুখে পড়ে। যদিও তৃণমূল শ্রমিক নেতাদের দাবি, সিআইএসএসই কেন ধারাবাহিক অভিযান চালাচ্ছে না। যদিও কয়েক মাস আগেই সিআইএসএফ কয়লা চোরদের ধাওয়া করলে কাটাবেড়িয়ায় অবৈধ খাদানে পড়ে একজনের মৃত্যু হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ