Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

গড়াপেটাকাণ্ডে গ্রেপ্তার খিদিরপুরের দুই কর্তা

ঘরোয়া লিগে গড়াপেটার অভিযোগ নতুন নয়। ফুটবল মরশুমে ময়দানে কান পাতলেই শোনা যায় ফিক্সিং নিয়ে ফিসফাস। তবে জল কখনও এতদূর গড়ায়নি।

গড়াপেটাকাণ্ডে গ্রেপ্তার খিদিরপুরের দুই কর্তা
  • ৪ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘরোয়া লিগে গড়াপেটার অভিযোগ নতুন নয়। ফুটবল মরশুমে ময়দানে কান পাতলেই শোনা যায় ফিক্সিং নিয়ে ফিসফাস। তবে জল কখনও এতদূর গড়ায়নি। গড়াপেটার নির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে সোমবার কলকাতা পুলিশ গ্রেপ্তার করল শতাব্দীপ্রাচীন খিদিরপুর ক্লাবের দুই কর্তাকে। তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও তথ্যপ্রযুক্তি অ্যাক্টে মামলা রুজু হয়েছে। দলের ম্যানেজার আকাশ দাস ও মিডিয়া ম্যানেজার রাহুল সাহার গ্রেপ্তারির পর রীতিমতো উত্তাল ময়দান। কলকাতা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত যুগ্ম কমিশনার রুপেশ কুমার জানান, ‘নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত এগিয়েছে। আপাতত গ্রেপ্তারির সংখ্যা দুই।’  আইএফএ সচিব অনির্বাণ দত্তের মন্তব্য, ‘শিকড় থেকে রোগ নির্মূল করা দরকার। এ ব্যাপারে ফুটবলারদের সুবিধার্থে হেল্প লাইন তৈরির ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি কলকাতা পুলিশকেও ধন্যবাদ জানাতে চাই।’ অন্যদিকে খিদিরপুর কর্তারা মুখে কুলুপ এঁটেছেন। অন্যদিকে, জানা গিয়েছে গ্রেপ্তারির প্রভাবে লিগ টেবিলে অবস্থান বদলাচ্ছে না। 

Advertisement

ময়দানের অন্যতম ঐতিব্যবাহী ক্লাব খিদিরপুর। একটা সময় জায়ান্ট কিলার হিসাবে খ্যাতি ছিল তাদের। আর এই ক্লাবের মূলত দল গঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল আকাশ। সূত্রের খবর, সে-ই গড়াপেটা কাণ্ডের কিং পিন। এর শাখাপ্রশাখা আই লিগের ক্লাবেও ছড়িয়ে। নেরোকা, ট্রাউ এফসির মতো ক্লাবে নিয়মিত পছন্দের ফুটবলার সই করাত সে। দেশের সীমানা পেরিয়ে পদ্মাপারেও জাল পেতেছে আকাশ। ফিক্সিং চালাবার জন্য নিজস্ব নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে আকাশ। এই দুর্নীতিতে তার ছায়াসঙ্গী ছিল রাহুল সাহা। আকাশছোঁয়া লেনদেনে আঙুল ফুলে কলাগাছ! আকাশের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ছাড়াও অন লাইন লেনদেনের যাবতীয় নথি খতিয়ে দেখছে পুলিশ। মনে করা হচ্ছে, শীঘ্রই আরও কয়েকজন রাঘব বোয়ালও পুলিশের জালে উঠবে।
২০২৩ সালে ম্যাচ ফিক্সিং নিয়ে এআইএফএফ সতর্ক করেছিল আইএফএ’কে। এর পরই প্রাথমিকভাবে কয়েকটি ম্যাচ চিহ্নিত করা হয়। বঙ্গীয় ফুটবল সংস্থার ইন্ট্রিগ্রিটি অফিসার সুরজিৎ দে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা নেন গড়াপেটার তদন্তে। পাশাপাশি কুন্তল চক্রবর্তী নামক জনৈক ফিটনেস ট্রেনার স্বতঃপ্রনোদিতভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে দেয় আইএফএ’কে। এরপর লিখিতভাবে কলকাতা পুলিশের কাছে অভিযোগ জানায় তারা। মনোজ ভার্মা পুলিশ কমিশনার হওয়ার পর তদন্ত আরও গতি পায়। শোনা যাচ্ছে, ২০২৩ সালের খিদিরপুর বনাম মেসারার্স ম্যাচে অন্তত ৪ ফুটবলারের টাকা নেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত। তাদের শীঘ্রই তলব করা হবে। অভিজ্ঞ মহলের ধারণা, আকাশদের গ্রেপ্তারি হিমশৈলের চূড়ামাত্র। আরও অনেক নাটক অপেক্ষা করছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ