Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পুলিস সেজে বাইক থামিয়ে দেদার তোলা আদায়, গ্রেপ্তার দুই জওয়ান

পুলিস পরিচয়ে রাস্তায় বাইক থামিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে বিষ্ণুপুরের কৃষ্ণবাঁধ এলাকা থেকে দুই জওয়ানকে পুলিস গ্রেপ্তার করল। ধৃতদের নাম অভিজিৎ চক্রবর্তী ও সঞ্জু ঘোষ

পুলিস সেজে বাইক থামিয়ে দেদার তোলা আদায়, গ্রেপ্তার দুই জওয়ান
  • ৯ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: পুলিস পরিচয়ে রাস্তায় বাইক থামিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগে বিষ্ণুপুরের কৃষ্ণবাঁধ এলাকা থেকে দুই জওয়ানকে পুলিস গ্রেপ্তার করল। ধৃতদের নাম অভিজিৎ চক্রবর্তী ও সঞ্জু ঘোষ। প্রথমজনের বাড়ি বিষ্ণুপুর শহরের নতুনমহল এলাকায়। তিনি বিএসএফ জওয়ান। দ্বিতীয়জনের বাড়ি শহরের কাদাকুলি এলাকায়। তিনি ইন্দো টিবেটান বর্ডার পুলিস। দু’জনেই ছুটিতে এসেছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কৃষ্ণবাঁধ এলাকায় বিষ্ণুপুর-জয়পুর রাস্তায় পুলিস পরিচয়ে হেলমেট বিহীন বাইক থামিয়ে তাঁরা তোলা আদায় করছিলেন বলে অভিযোগ। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের বিরুদ্ধে অনৈতিকভাবে বাইক আরোহীদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। 

Advertisement

যদিও এব্যাপারে ধৃতদের পরিবারের লোকেরা সংবাদমাধ্যমের কাছে কোনও মন্তব্য করতে চাননি। 
পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিজিৎ সাড়ে তিন বছর আগে বিএসএফে চাকরি পান। বর্তমানে তিনি রাজস্থানে কর্মরত। অন্যদিকে সঞ্জু মাত্র দেড় বছর আগে আইটিবিপি জওয়ানের চাকরি পান। বর্তমানে তিনি হিমাচল প্রদেশে কর্মরত। দু’জনেই মোটা টাকা মাইনে পায়। পরিবারেও স্বচ্ছলতা রয়েছে। দু’জনে স্কুল জীবনের বন্ধু। কিছুদিন আগে ছুটিতে তাঁরা বাড়িতে আসেন। বৃহস্পতিবার সকালে দু’জনে একসঙ্গে বের হয়। লালগড় পার্কের কাছে একটি বারে যান। দুপুরে বাড়ি ফিরলেও সন্ধ্যায় ফের দু’জনে বের হন। এরপরেই তাঁরা কৃষ্ণবাঁধ এলাকায় চলে যান। ওই এলাকায় ট্রাফিক পুলিস মাঝে মধ্যেই আরোহীদের হেলমেট পরীক্ষা করে। তবে ওইদিন সেখানে কোনও পুলিস ছিল না। সেই সুযোগে দু’জনে বাইক রেখে রাস্তায় দাঁড়িয়ে পড়েন। এরপর এক এক করে হেলমেট বিহীন বাইকগুলি থামায়। কেস দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা নিয়ে ছেড়ে দেন। 
এভাবে কয়েকজনের কাছ থেকে টাকা আদায় করার সময়েই বিষ্ণুপুর শহরের কাটানধারের বাসিন্দা স্বপন সরকার সেখানে বাইক নিয়ে পৌঁছান। একটি বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে তাঁর ক্যান্টিন রয়েছে। তিনি সেখানেই যাচ্ছিলেন। তাঁর মাথায় হেলমেট ছিল না। স্বাভাবিকভাবেই ওই দু’জন তাঁকেও আটকান। তাঁর কাছে মোটা টাকা দাবি করেন। কিন্তু তাঁর কাছে এত টাকা ছিল না। ওই অবস্থায় তিনি বাড়িতে ফোন করে টাকা আনার কথা বলেন। কিন্তু দু’জন গেঞ্জিপরা এবং মাঝে মধ্যে হিন্দিতে কথাবার্তা বলায় স্বপনবাবুর সন্দেহ হয়। তাছাড়া তিনি ওই রাস্তা দিয়ে রোজ দু’বেলা যাতায়াত কবায় অধিকাংশ ট্রাফিক পুলিসকে তিনি চেনেন। তাই সন্দেহ হওয়ায় তিনি কিছুটা দূরে গিয়ে বাড়ির পরিবর্তে থানায় ফোন করে দেন। সঙ্গে সঙ্গে পুলিসের একটি ভ্যান চলে আসে। পালানোর চেষ্টা করলেও দু’জনকেই পুলিস ধরে ফেলে। পরে অভিযোগের ভিত্তিতে দু’জনকেই গ্রেপ্তার করা হয়। 
 ধৃত দু’জনকে তোলা হচ্ছে আদালাতে। নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ