নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা ও সংবাদদাতা, বজবজ: দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ। ঘাত-প্রতিঘাত যখন ধীরে ধীরে চরম আকার নিচ্ছে, ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে পুলিস তখন নীরব দর্শক। একের পর এক গাড়ি-বাইকে অগ্নিসংযোগ, দোকান ভাঙচুর চলল। রণক্ষেত্রের চেহারা নিল মহেশতলার রবীন্দ্রনগর।
শেষে ত্রাতার ভূমিকায় নামে কলকাতা পুলিস। তাদের লক্ষ্য করেও ইটবৃষ্টি করে হামলাকারীরা। মাথা ফাটে একাধিক পুলিসকর্মীর। পাল্টা কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটান উর্দিধারীরা। পুলিসি নিষ্ক্রিয়তার জেরে রীতিমতো তাণ্ডবের সাক্ষী থাকল কলকাতা ও ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলার সীমান্তবর্তী এলাকা। মূল অভিযুক্তকে ধরা না গেলেও এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। বুধবার দুপুর থেকেই আক্রা, সন্তোষপুর সহ গোটা এলাকা উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ফলের দোকান নিয়ে গণ্ডগোলের সূত্রপাত। অভিযোগ, ওই ফল বিক্রেতাকে ডালা নিয়ে বসতে বাধা দেয় একপক্ষ। তাঁকে অন্যত্র সরে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়। এই ফতোয়া মানতে চাননি তিনি। উল্টে মহল্লায় ফিরে গিয়ে লোকজনকে ডেকে আনেন। তারা এসে অপরপক্ষের উপর হামলা চালায়। স্থানীয়রা জানান, প্রাথমিকভাবে জনা পঞ্চাশেক লোক জমায়েত হয়। তারা আচমকা একের পর এক দোকান ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে রবীন্দ্রনগর ও মহেশতলা থানার পুলিস। ডায়মন্ডহারবার পুলিস জেলার তরফেও বিশেষ ফোর্স পাঠানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ‘হামলাকারীদের বিরুদ্ধে তখনও পুলিস অ্যাকশন নেয়নি।’ হামলাকারীদের সামনে অসহায়তার কথা জানিয়েছেন স্বয়ং পুলিস কর্মীরাও। কয়েকজন বলেন, ‘ওরা সংখ্যায় প্রচুর ছিল। আমরা পেরে উঠছিলাম না। একের পর এক ইট উড়ে আসছিল আমাদের দিকে।’ পরিস্থিতি যখন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে, তখন ঘটনাস্থলে আসেন কলকাতা পুলিসের মেটিয়াবুরুজ, রাজাবাগান, তারাতলা ও পর্ণশ্রী থানার পুলিস। কিছুক্ষণের মধ্যেই আসেন আসেন ডেপুটি কমিশনার (বন্দর) হরিকৃষ্ণ পাই। ইটের আঘাতে মাথা ফাটে তাঁর। জখম হন এক মহিলা সহ ৩ কনস্টেবল। একজন সার্জেন্টেরও চোট লাগে। এরপরেই পুলিস লাঠিচার্জ শুরু করে। হামলাকারীদের ইটে ডিসি (বন্দর), মেটিয়াবুরুজ থানার ওসির গাড়ির কাচ ভাঙে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটিয়ে এলাকা ফাঁকা করে পুলিস। পরে ঘটনাস্থলে আসেন কলকাতার সিপি মনোজকুমার ভার্মা সহ অন্যান্য আধিকারিকরা।