Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাবা-মায়ের মৃত্যু, মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে এখন রাস্তাই ঠিকানা দুই মেয়ের

তারকেশ্বর বালিগোড়ি পুরনো মসজিদতলার বাসিন্দা হরিপাল ব্লকের এক প্রাইমারি স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক সুকুমার নাগের মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে

বাবা-মায়ের মৃত্যু, মানসিক ভারসাম্য  হারিয়ে এখন রাস্তাই ঠিকানা দুই মেয়ের
  • ২ মার্চ, ২০২৬ ১৩:০৩
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, তারকেশ্বর: তারকেশ্বর বালিগোড়ি পুরনো মসজিদতলার বাসিন্দা হরিপাল ব্লকের এক প্রাইমারি স্কুলের প্রাক্তন শিক্ষক সুকুমার নাগের মৃত্যু হয়েছে বেশ কয়েক বছর আগে। এরপরেই মৃত্যু হয় তাঁর স্ত্রীরও। বড় মেয়েরও অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয়। মেজ মেয়ে স্নাতক ও ছোট মেয়ে নবম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন। কিন্তু পরপর পারিবারিক বিপর্যয়ের ধাক্কায় মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন মেজ মেয়ে। ছোট মেয়ে অনেকটাই সুস্থ। তবে টিনের চাল অবহেলায় নষ্ট হয়ে গেছে। বাড়িতে বাসা করেছে বড় বড় গাছ। এই অবস্থায় গৃহহীন হয়ে রাস্তার পাশেই দিন কাটাচ্ছেন দুই বোন। স্থানীয় বাসিন্দারা দুই বোনের চিকিৎসা ও বাসস্থানের জন্য দ্রুত প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেছেন। জেলাশাসককে এই বিষয়ে লিখিত জানানো হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক।

Advertisement

বছর পনের আগে তারকেশ্বর বালিগোড়িতে জায়গা কিনে একটি ছোট্ট টিনের চালের বাড়ি করেছিলেন হরিপাল ব্লকের হারাট প্রাইমারি স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সুকুমার নাগ। সঙ্গে ছিলেন তিন মেয়ে ও স্ত্রী রমা। কিছুদিন পর অসুস্থ হয়ে বড় মেয়ের মৃত্যু হয়। ধীরে ধীরে স্নাতক মেজো মেয়ে মানসিক ভারসাম্য হারাতে থাকেন। এরপর মৃত্যু হয় ওই প্রাক্তন শিক্ষকেরও। 
দুই মেয়ে ও মা পেনশনের অর্থে সংসার চালাতে থাকে। কয়েক বছর পর প্রতিবেশীরা জানতে পারেন, মৃত মাকে নিয়ে দুই মেয়ে বসবাস করছেন। মায়ের পচন ধরা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ততদিনে দুই মেয়ে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত। মেজ মেয়ে উন্মাদ হয়ে রাস্তায় ঘোরেন। ছোট মেয়ে আশ্রয় নিয়েছেন প্রতিবেশী এক বাসিন্দার দুয়ারে। যোগাযোগ ও পর্যাপ্ত নথি না থাকায় মায়ের মৃত্যুর পর পেনশনও পাননি দুই বোন। অন্যদের দেওয়া অন্নে তাঁদের পেট চলে। ঘরের মধ্যে গজিয়ে উঠেছে বড় বড় গাছ। টিনের চালে শত ছিদ্র। বসবাসের অযোগ্য। রাস্তার পাশেই দুই বোন দিন কাটাচ্ছেন কয়েক বছর ধরে। 
স্থানীয় ব্যবসায়ী তাপস পাত্র জানান, ছোট মেয়েটি এখনও মানসিকভাবে সুস্থ। চিকিৎসা ও পর্যাপ্ত খাদ্য পেলে স্বাভাবিক জীবনের ফিরে আসবেন। মেজ মেয়েটির চিকিৎসার প্রয়োজন‌। আমরা চাই প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো হোম বা উপযুক্ত স্থানে পাঠিয়ে এদের চিকিৎসা ও খাদ্যের ব্যবস্থা করা হোক। দু’জন প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার এইভাবে রাস্তার পাশে থাকাটা বিপজ্জনক‌। তারকেশ্বরের বিধায়ক রামেন্দু সিংহরায় জানান, এই বিষয়টি আমার নজরে ছিল না। আপনাদের মাধ্যমে জানলাম। দুই মহিলাকে নিরাপদ জায়গায় স্থানান্তর করার জন্য জেলাশাসককে লিখিতভাবে জানাচ্ছি। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ