নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় নজরকাড়া সাফল্য পেল পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার দুই কৃতী ছাত্র। তাঁদের সাফল্যে খুশি জেলাবাসী। জানা গিয়েছে, এবারের রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষায় ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেছেন সাগ্নিক পাত্র ও অষ্টম স্থান অধিকার করছেন অর্চিষ্মান নন্দী। সাগ্নিকের বাড়ি মেদিনীপুর শহরের ধর্মা এলাকায়। অর্চিষ্মানের বাড়ি খড়গপুর গ্রামীণের বারবেটিয়া এলাকায়। কাকতালীয়ভাবে দু’জনেই উচ্চশিক্ষার জন্য খড়গপুর আইআইটিতে ভর্তি হয়েছেন। জেলা পরিষদের সভাধিপতি প্রতিভা মাইতি বলেন, দু’জনেই মেদিনীপুরের গর্ব। আগামীদিনে ওঁরা আরও সাফল্য পাবেন বলে আশাবাদী। এই জেলার ছেলেমেয়েরা ভীষণ মেধাবী।
মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা সাগ্নিক অল্প বয়স থেকেই মেধাবী। তাঁর বাবা প্রভাংশু পাত্র স্কুলের ক্লার্ক ও মা মিতা পাত্র গৃহিণী। সাগ্নিক জেই অ্যাডভান্সড পরীক্ষায় ৩৭৩ র্যাঙ্ক করেছিলেন। বর্তমানে তিনি খড়গপুর আইআইটিতে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। মেদিনীপুর কলিজিয়েট স্কুলের ছাত্র সাগ্নিক উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় দশম স্থান অর্জন করেছিলেন। তাঁর প্রাপ্ত নম্বর ছিল ৪৮৮। এদিন সাগ্নিক বলেন, মা-বাবা সব সময় পাশে থেকেছেন। প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা পড়াশোনা করেছি। পড়াশোনার পাশাপাশি নাটক করতে ভালো লাগে।
অন্যদিকে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে নজরকাড়া সাফল্যের পর, জেই অ্যাডভান্স পরীক্ষায় সাফল্য পেয়েছিলেন খড়গপুর গ্রামীণের অর্চিষ্মান নন্দী। সর্বভারতীয় এই পরীক্ষায় তাঁর প্রাপ্ত র্যাঙ্ক ছিল ৪৭৭। একইসঙ্গে তিনি রাজ্যের জয়েন্ট পরীক্ষাতেও বসেছিলেন। আর সেই পরীক্ষাতেই নজরকাড়া সাফল্য এসেছে। যদিও বর্তমানে খড়গপুর আইআইটিতে এআই (আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স) নিয়ে পড়াশোনা শুরু করেছেন। ভবিষ্যতে তিনি গবেষণার কাজ করতে চান।
এদিন পরিবারের সদস্যরা জানান, পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ বরাবরই ছিল অর্চিষ্মানের। আইসিএসই বোর্ডের মাধ্যমিক পরীক্ষায় দেশের মধ্যে তিনি পঞ্চম স্থান অধিকার করেছিলেন। এরপর সিবিএসই বোর্ডের একটি বেসরকারি স্কুল থেকে উচ্চ মাধ্যমিকে দেশের মধ্যে দশম স্থান অধিকার করে সকলকে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন অর্চিষ্মান। জানা গিয়েছে, অর্চিষ্মানের লেখাপড়ায় হাতেখড়ি দাদু বঙ্কিমবিহারী মাইতির হাত ধরেই। দাদু খড়গপুর আইআইটির প্রাক্তন ছাত্র। তাই, তিনিও খড়গপুর আইআইটিতে ভর্তি হয়েছেন। এদিন বিকেলে অর্চিষ্মানের বাবা মিঠুন নন্দী বলেন, ওর জন্য গর্ব বোধ করছি। দাদুর কথা রাখতে খড়গপুর আইআইটিতে ভর্তি হয়েছে। আগামী দিনে ও গবেষণার কাজ করতে চায়।