Bartaman Logo
৭ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

আলতা পরা দু’টি পায়ের ছাপ চলে গিয়েছে পুকুরপাড়ে, লোককথার সঙ্গে অলৌকিক কাহিনি, ৩৫৩ বছরে পাঁচলার ঘোষবাড়ির হরগৌরী পুজো

কৈলাস থেকে বাপের বাড়ি আসছেন উমা। উন্মাদনায় ভাসছে শহর থেকে গ্রাম

আলতা পরা দু’টি পায়ের ছাপ চলে গিয়েছে পুকুরপাড়ে, লোককথার সঙ্গে অলৌকিক কাহিনি, ৩৫৩  বছরে পাঁচলার ঘোষবাড়ির হরগৌরী পুজো
  • ৭ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

পাপ্পা গুহ, উলুবেড়িয়া: কৈলাস থেকে বাপের বাড়ি আসছেন উমা। উন্মাদনায় ভাসছে শহর থেকে গ্রাম। তবে উমার আগমনে একটু বাড়তি উন্মাদনা বনেদি বাড়িতে। হাওড়া জেলায় যে কয়েকটি প্রাচীন বনেদি বাড়ির পুজোকে ঘিরে পারিবারিক ইতিহাস, লোককথা, অলৌকিক কাহিনি জড়িয়ে আছে, তার মধ্যে পাঁচলার কুলডাঙা গ্রামের ঘোষবাড়ির হরগৌরী পুজো অন্যতম। এই পুজো এবার ৩৫৩ বছরে পদার্পণ করল। কথিত আছে, বর্ধমানের এক জমিদারের প্রতিনিধি বা ভূস্বামী ছিলেন হৃদয় ঘোষ। তিনি মূলত জমিদারি দেখাশোনা করতেন। সেই সময় পাঁচলার কুলডাঙার পাশ্ববর্তী এলাকায় শ্রীধাম ঘোষ এবং ঈশ্বরচন্দ্র পাত্রের পূর্ব পুরুষদের বাড়িতে দুর্গাপুজো হত। একবার হৃদয় ঘোষের মেয়ে বাপের বাড়িতে এসে ওই পুজো দেখতে গিয়েছিলেন। জনশ্রুতি সেখানে তাঁরা কিছুটা অসম্মানিত হন। ফিরে এসে তাঁরা বাড়িতেই দুর্গাপুজোর আয়োজন করতে অনুরোধ করেন বাবাকে। সেই সময় হৃদয় ঘোষের আর্থিক অবস্থা ভালো ছিল না। এর মধ্যে মেয়েরা আব্দার করায় চিন্তায় পড়েন তিনি। পরেরদিন এক শাঁখারি গ্রামে শাঁখা বিক্রি করতে আসেন। তাঁকে দেখে এক অপরূপা কিশোরী ছুটে এসে শাঁখা পড়তে চায়। সে নিজেকে হৃদয় ঘোষের মেয়ে বলে পরিচয় দেয়। বলে, বাড়ির কুলঙ্গায় মোহর রয়েছে, সেখান থেকে আপনি শাঁখার দাম নিয়ে নিন। পরে শাঁখারি ঘোষবাড়িতে গিয়ে একথা বললে বিস্মিত হন হৃদয় ঘোষ। কারণ শাঁখারি গ্রামে আসার আগেই মেয়ে শ্বশুরবাড়ি চলে গিয়েছে। এরপর হৃদয় ঘোষ কুলঙ্গা খুলে সেখানে মোহর দেখতে পান। শুধু তাই নয়, বাড়ির বাইরে এসে দেখেন, দু’টি আলতা পরা পায়ের ছাপ বড়ো পুকুরের দিকে চলে গিয়েছে। কথিত আছে, হৃদয় ঘোষ পুকুরপাড়ে এসে আকুলভাবে দেবীকে ডাকলে শাঁখা পরা দু’টি হাত পুকুর থেকে ভেসে উঠেছিল। আর সেই আলৌকিক ঘটনাই প্রচলিত বিশ্বাসে পরিণত হয়েছে। ওই সময়কেই ঘোষবাড়ির পুজোর সূচনালগ্ন হিসাবে ধরা হয়।

Advertisement

পরিবারের সদস্য শুভ্রনীল ঘোষ বলেন, প্রচলিত মা দুর্গার পরিবর্তে এখানে হরগৌরী রূপে আরাধনা করা হয় দেবীকে। একচালা ডাকের সাজে তৈরি দেবীর সঙ্গে থাকেন চার সন্তান। তবে এখানে অসুরের উপস্থিতি নেই। মহালয়ার পরের দিন প্রতিপদ থেকেই শুরু হয় চণ্ডীপাঠ। প্রতিদিন ২১ মন চালের নৈবেদ্য সাজানো হয়। ভক্তরাও বিজোড় সংখ্যার রীতি মেনে নৈবেদ্য নিবেদন করেন। শুভ্রনীলবাবু বলেন, অষ্টমীর দিন বহু মহিলা ধুনোপোড়ায় অংশ নেন। নবমীর দিন হয় বস্ত্রদান। দশমীর দিন নরনারায়ণ সেবার আয়োজন করা হয়। তিনি জানান, এলাকার প্রতিমা বির্সজনের পর ঘোষবাড়ির হরগৌরী প্রতিমাকে নিরঞ্জন করা হয়। এক কথায়, এই পুজোর সঙ্গে জড়িয়ে আছে কয়েক শতাব্দীর অমলিন ঐতিহ্য। সেকারণে কুলডাঙা গ্রামের হরগৌরী পুজো আজও বাংলার প্রাচীন বনেদি সংস্কৃতির এক জীবন্ত উদাহরণ।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ