নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: কালীপুজোর রাতে আবাসনের মধ্যেই ফাটানো হচ্ছিল দেদার বাজি। আবাসন কমিটির বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পেরনোর পর বাজির আওয়াজ যেন আরও বেশি বেড়ে গিয়েছিল। ব্যাপক শব্দে কান ঝালাপালা হওয়ার অবস্থা আবাসনের বয়স্ক বাসিন্দাদের। এমনকী, বাজি থেকে ডাস্টবিন লাগোয়া এলাকায় আগুনও ধরে গিয়েছিল ওই রাতে। আবাসনের বাসিন্দারা যখন সেই আগুন নেভাতে ব্যস্ত, তখনও হুঁশ ফেরেনি একদল মত্ত যুবকের। তারা পুজোর মণ্ডপ লক্ষ্য করে বাজি ছুড়তে শুরু করেছিল। প্রতিবাদ করায় এক বৃদ্ধ ও বৃদ্ধাকে মারধরের পাশাপাশি হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাদের বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বরানগর থানার পুলিশ অভিযুক্ত পাঁচ যুবককে গ্রেফতার করেছে।
বরানগরের বনহুগলি লেক পাড় এলাকার একটি বড় আবাসনে এবারও কালীপুজোর আয়োজন করা হয়েছিল। এই আবাসনে প্রচুর বয়স্ক মানুষ থাকেন। প্রতি বছর কালীপুজোর আগে থেকেই শুরু হয়ে যেত বাজি ফাটানো। তাতে আবাসিকরা সমস্যায় পড়তেন। এবার আবাসনের বাসিন্দারা সিদ্ধান্ত নেন, রাত ১০টার পর আর বাজি ফাটানো যাবে না। সকলে তা মেনেও নিয়েছিলেন। কালীপুজোর রাতে সন্ধ্যা থেকেই অনেক আবাসিক আতশবাজি ফাটাতে শুরু করেন। রাত ১০টার পর সবাইকে বলা হয়, আর বাজি ফাটানো যাবে না। অনেকেই বলেন, পুজো যতক্ষণ চলবে, ততক্ষণ অন্তত ছাড় দেওয়া হোক। এই আবেদন সকলেই হাসি মুখে মেনে নেন। রাত ১২টা নাগাদ পুজো শেষ হয়। তখন আবাসনের উৎসব কমিটি সকলকে জানিয়ে দেয়, আর নয়, এবার বাজি ফাটানো বন্ধ করুন। ইতিমধ্যে আবাসনের অনেকে অভিযোগ জানিয়েছেন। সিংহভাগ আবাসিক তা মেনে নিলেও একদল উন্মত্ত যুবক এই নির্দেশের তোয়াক্কা না করে রাত দেড়টা পর্যন্ত বাজি ফাটায়। কোনও কোনও আবাসিক থানায় ফোনও করেন। কিন্তু তাতে লাভ হয়নি। রাত দেড়টা নাগাদ ওই যুবকদের ছোড়া বাজিতে আবাসনের পাশে থাকা ডাস্টবিন লাগোয়া আবর্জনায় আগুন ধরে যায়। দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে আগুন। আবাসিকরাই সেই আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা শুরু করেন। তখন ওই যুবকরা জায়গা বদলে কালীপুজোর মণ্ডপ লাগোয়া এলাকায় বাজি ফাটাতে শুরু করে। মণ্ডপে আগুন লাগতে পারে, এই আশঙ্কায় উৎসব কমিটির কোষাধ্যক্ষ সুফল ঘোষ প্রতিবাদ করেন। তাতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মত্ত যুবকরা। অভিযোগ, তারা বৃদ্ধ সুফলবাবুকে বেধড়ক মারধর করে। ওই সময় আবাসনে বাজি ফাটানো বন্ধ করার অনুরোধ জানাতে উপর থেকে নীচে নেমেছিলেন প্রবীণ মহিলা বেবি সাহা। তিনি মারপিট দেখে তার প্রতিবাদ করেন। তখন ওই বৃদ্ধাকেও শারীরিক নিগ্রহের পাশাপাশি হুমকি দেওয়া হয়। কোনওভাবে আগুন লাগার খবর পেয়ে বরানগর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। তাঁরা পাঁচজন যুবককে আটক করে নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার উৎসব কমিটির সম্পাদক তপনকুমার দাস বরানগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে। তপনবাবু বলেন, ধৃত পাঁচ যুবকের মধ্যে একজন আবাসনের বাসিন্দা। বাকিরা তার বন্ধু, তারা অন্যত্র থাকে। তাদের ছোড়া বাজি থেকেই আগুন লাগে ডাস্টবিনের আবর্জনায়। তারপর তারা মণ্ডপ লক্ষ্য করে বাজি ছুড়ছিল। তার প্রতিবাদ করে দু’জন আক্রান্ত হয়েছেন। এমন ঘটনা ঘটবে, আমরা স্বপ্নেও ভাবিনি।