Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

মাঝরাতে নাগেরবাজার উড়ালপুলে উদ্দাম গতির বলি ২

নাগেরবাজার উড়ালপুলে জয়রাইডের বলি হলেন দুই যুবক। মঙ্গলবার শেষরাতে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

মাঝরাতে নাগেরবাজার উড়ালপুলে উদ্দাম গতির বলি ২
  • ১৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: নাগেরবাজার উড়ালপুলে জয়রাইডের বলি হলেন দুই যুবক। মঙ্গলবার শেষরাতে দুর্ঘটনাটি ঘটে। গতির ঝড় তুলে বাইক চালিয়ে যাওয়ার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁরা উড়ালপুলের দেওয়ালে ধাক্কা মারেন। দু’জন বাইক থেকে ছিটকে পড়েন। তাঁদের মধ্যে একজন উড়ালপুল থেকে নীচে পড়ে যান। দু’জনের মাথাতেই হেলমেট ছিল না। অন্য বাইকে আসা দুই বন্ধু তাঁদের উদ্ধার করে আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তাঁদের মৃত্যু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদের নাম আকাশ মণ্ডল (২৬)  ও মুন্না নায়েক (১৯)। তাঁদের বাড়ি দমদমের মল রোড এলাকায়। আকাশ টোটো চালক। মুন্না ইলেকট্রিক মিস্ত্রি।

Advertisement

মঙ্গলবার কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে মধ্যরাত পর্যন্ত আড্ডা দিয়েছিলেন আকাশ ও মুন্না। এরপর চারজন দু’টি বাইকে লেকটাউনের দিকে যাওয়ার জন্য বের হন। মুন্নার নতুন বাইকে চেপেছিলেন আকাশ। বাইকে চেপেই তাঁরা ঝড়ের গতিতে এগিয়ে যান। পিছনে আসছিলেন বাকি দুই বন্ধু। তাঁরা সরোজিনী নাইডু কলেজের দিক থেকে উড়ালপুলে ওঠেন। পুলিশ জেনেছে, উড়ালপুলে উঠে মুন্না বাইকের গতি আরও বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। কারণ, রাতে উড়ালপুল কার্যত ফাঁকা থাকে। খুব বেশি গাড়ি যায় না। সেই সুযোগে তিনি গতির ঝড় তুলেছিলেন। কিন্তু উড়ালপুলের মাঝ বরাবর একটি বেসরকারি হাসপাতালের কাছে বাঁক রয়েছে। রাস্তাও কিছুটা খারাপ। সেখানেই বাইকের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তিনি বাঁ দিকের দেওয়ালে ধাক্কা মারেন। বাইকের পিছনে বসা আকাশ ছিটকে উড়ালপুলের নীচে পড়ে যান। মুন্নাও বাইক থেকে ছিটকে গিয়ে উড়ালপুলে পড়েন। পিছনে আসা দুই বন্ধু তাঁদের দেখতে পান। দ্রুত তাঁদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করেন। এরপর অ্যাম্বুলেন্সে চাপিয়ে আর জি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসারত অবস্থায় প্রথমে মুন্না মারা যান। পরে আকাশের মৃত্যু হয়। মৃতের বন্ধু আকাশ মাহাতো বলেন, আমরা রাতে ভূতনাথ মন্দিরে যাচ্ছিলাম। আকাশ ও মুন্না আগে যাচ্ছিল। চারিদিকে কুয়াশা ছিল। তার জেরেই দুর্ঘটনা। আমরা দ্রুত তাঁদের উদ্ধার করে আর জি কর হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। সেখানে সঠিক চিকিৎসা পাওয়া যায়নি। 
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, নাগেরবাজার উড়ালপুলের উপরে বাঁকের মুখে এর আগেও একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বছর দেড়েক আগে এক দম্পতি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছিলেন। গৃহবধূ উপর থেকে নীচে পড়ে মারা যান। এরপর পুলিশ রাত ১০টার পর উড়ালপুল বন্ধ করে দিয়েছিল। হাইকোর্টে মামলাও হয়। পরে বিচারপতির নির্দেশে ফের রাতে উড়ালপুল খুলে দেওয়া হয়। প্রতিদিনই প্রচণ্ড গতিতে বাইক ও চার চাকা গাড়ি যাতায়াত করে। তাই উড়ালপুলে নজরদারি আরও বাড়ানোর প্রয়োজন। ডিসি ট্রাফিক অম্লানকুসুম ঘোষ বলেন, নাগেরবাজার উড়ালপুলে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের জন্য নজরদারি বাড়ানো হবে। এছাড়া মানুষকে সচেতন করতে পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ