Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দু’দিন বিদ্যুৎহীন টর্নেডো বিধ্বস্ত ৪ ব্লক, পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট

টর্নেডোয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের চারটি ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা

দু’দিন বিদ্যুৎহীন টর্নেডো বিধ্বস্ত ৪ ব্লক, পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট
  • ২০ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা বেলদা: টর্নেডোয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পশ্চিম মেদিনীপুরের চারটি ব্লকের বিস্তীর্ণ এলাকা। টানা দু’দিন ধরে বিদ্যুৎ নেই বেশিরভাগ এলাকায়। ফলে তৈরি হয়েছে তীব্র পানীয় জলের সঙ্কট। আগামী তিনদিন ধরে ঝড়বৃষ্টির সতর্কতায় নতুন করে ছড়াচ্ছে আতঙ্ক। বিদ্যুৎ দপ্তরের পক্ষ থেকে তৎপরতার সঙ্গে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালানো হলেও সম্পূর্ণভাবে স্বাভাবিক হতে লাগবে আরও বেশ কিছুটা সময়। জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের পক্ষ থেকে কিছু জায়গায় পানীয় জলের ট্যাঙ্ক পাঠানো হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট কম। ফলে সঠিকভাবে পানীয় জল না পেয়ে ক্ষোভ জমছে এলাকায়। 

Advertisement

সোমবার রাতে হঠাৎ আসা ক্ষণিকের ঝড়ে তছনছ হয়ে গিয়েছে নারায়ণগড়, কেশিয়াড়ি, সবং ও খড়্গপুর-১ চারটি ব্লকের প্রায় ১৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতের বিস্তীর্ণ এলাকা। ঘূর্ণিঝড়ে প্রভাব পড়েছে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়। বিদ্যুৎ না থাকায় তার প্রভাব পড়েছে পানীয় জলের ওপর। আগের মতো পাতকুয়ো নেই, যে কয়েকটি নলকূপ রয়েছে, তার বেশিরভাগই অব্যবহারে অকেজো হয়ে গিয়েছে। বর্তমানে বেশিরভাগ গ্রামের মানুষজন সাবমার্সিবল, মিনি ডিপটিউব‌ওয়েল কিংবা নলবাহিত পানীয় জলের প্রকল্পের জলের উপর নির্ভর করে থাকে। সোমবার থেকে টানা দু’দিন বিদ্যুৎ না থাকায় পানীয় জলের সঙ্কটে ভুগতে হচ্ছে এলাকাবাসীদের। নারায়ণগড়ের বিনাই গ্রামে সকাল থেকে গ্রামের একমাত্র টিউব‌ওয়েলে জল ভরতে এসেছেন প্রায় ৩০ জন গ্রামবাসী। কথা হচ্ছিল তাঁদের সঙ্গে। 
পুষ্প পাল বলেন, আগে গ্রামে অনেক কল ছিল। সেগুলি অকেজো হয়ে গিয়েছে। গ্রামের এই একটি মাত্র কলে অনেক কষ্ট করে জল নিতে হচ্ছে। অপরদিকে বীরবিরাতে স্থানীয়রা ভাড়া করে জেনারেটর চালিয়ে সাবমার্সিবলে পানীয় জলের ব্যবস্থা করেছেন। বাড়ির মালিক সূর্যকান্ত হাজরা বলেন, দু’দিন ধরে কারেন্ট ছিল না, তাই ভাড়া করে জেনারেটর চালিয়ে পানীয় জল সাপ্লাইয়ের চেষ্টা করেছি। জানি না কবে কারেন্ট আসবে। শুধু নারায়ণগড় নয়, একই অবস্থা বাকি তিনটি ব্লকে। তবে বেশ কিছু জায়গাতে জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের পক্ষ থেকে পানীয় জলের ট্যাঙ্ক পাঠানো হয়েছে। কিন্তু এলাকায় ঢুকতেই নিমেষে তা শেষ হয়ে যায়। জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ আবু কালাম বক্স বলেন, হঠাৎ করে ঝড় নামায় সঙ্কট তৈরি হয়েছে। যে সমস্ত ব্লক থেকে আবেদন করা হয়েছে, তাদের পানীয় জলের ট্যাঙ্ক পাঠানো হয়েছে। চেষ্টা করছি কীভাবে আরও বেশি পরিমাণ জল পাঠানো যায়।
সবথেকে বড় প্রশ্ন বিদ্যুৎ পরিষেবা কবে স্বাভাবিক হবে। বিদ্যুৎ দপ্তরের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার রিজিওনাল ম্যানেজার প্রদীপ সামন্ত বলেন, দ্রুত বেশিরভাগ জায়গায় বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিক করার চেষ্টা করছি। যে কারণে প্রায় ৫০০ অতিরিক্ত কর্মীকে কাজে লাগানো হয়েছে। বেশ কিছু জায়গায় মাঠে খুঁটি পড়ে যাওয়ায় ফসলের ক্ষতির আশঙ্কায় চাষিরা বাধা দেওয়ায় সামান্য দেরি হচ্ছে। তবে সকলকে বুঝিয়ে দ্রুত বিদ্যুৎ পরিষেবা স্বাভাবিকের চেষ্টা চলছে। এদিকে আবহাওয়া দপ্তর বৃহস্পতি, শুক্র ও শনি তিনদিন পশ্চিম মেদিনীপুর সহ একাধিক জেলায়  ঝড়ের পূর্বাভাস দিয়েছে। ফলে আগামী দিনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে কতটা সময় লাগবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় সকলে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ