Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

একই গোরুর দুই দাবিদার, টাকা ভাগাভাগির টোপ দিতেই ধরা পড়ে গেলেন ভুয়ো মালিক

একই গোরুর দুই দাবিদার, টাকা ভাগাভাগির টোপ দিতেই ধরা পড়ে গেলেন ভুয়ো মালিক
  • ৩ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

তারক চক্রবর্তী,  শিলিগুড়ি: এ যেন ছোটবেলার নানা নীতিকথার গল্পের মত। এক শিশুর দাবিদার দুই মায়ের সেই গল্প প্রায় সকলেরই জানা। ঠিক এমনই মজার ঘটনায় পুলিসের কালঘাম ছুটল। 

Advertisement

একটি গোরুর দুই দাবিদার। দু’জনের ডাকেই সাড়া দিচ্ছে গোরু। দুই দাবিদারের বাড়ির সামনে ছাড়া হলেই তাঁদের বাড়িতেই ঢুকে যাচ্ছে গোরুটি। দু’জনের বাড়ির গোয়াল ঘরে গিয়েই মন দিয়ে খাচ্ছে খাবারও। তবে, গোরু কার? তা বুঝতেই হিমশিম অবস্থা পুলিসের। 
স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার শিলিগুড়ির আশিঘর ফাঁড়িতে একটি গোরুকে নিয়ে আসেন দুই দাবিদার। দু’পক্ষেরই দাবি, গোরুটি তাঁদের। পুলিস উপযুক্ত প্রমাণ চাইলে প্রথম দাবিদার জানান ওই গোরুটির মা তাদের বাড়িতে রয়েছে। অন্যদিকে, দ্বিতীয় দাবিদার জানান, মাটিহাড়া হাট থেকে ওই গোরুটিকে কিনে এনেছেন তিনি। পুলিসের টানা জিজ্ঞাসাবাদের পরও  গোরুটিকে ছাড়তে নারাজ দু›পক্ষই। এরপরই স্থানীয় তৃণমূল পঞ্চায়েত সদস্যা চুমকি পালকে থানায় ডাকে পুলিস। সদস্যা বলেন, গোরুটিকে দুই দাবিদারের বাড়িয়ে ছেড়ে দেওয়া হোক। সে একা একা যার বাড়িতে যাবে, তাকেই দিয়ে দেওয়া হবে।
পরিকল্পনা মতো প্রথমে গোরুটিকে প্রথম দাবিদারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হলে সে গোয়াল ঘরে গিয়ে মায়ের পাশে দাঁড়িয়ে পরে। সকলেই তখন ভাবেন গোরুটি প্রথম দাবিদারের। যদিও আরও বেশি নিশ্চিত হতে দ্বিতীয় দাবিদারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। অবাক করে সেখানেও একা একা গোয়াল ঘরে ঢুকে যায় গোরুটি। এরপরই মাথা চুলকাতে শুরু করেন পুলিসের তদন্তকারীরা ও পঞ্চায়েত সদস্যা। পুলিসের সঙ্গে আলোচনা করে দু’জনকে গোরুর যাবতীয় নথি এবং প্রমাণ নিয়ে আসতে বলা হয়। এরপর দু’পক্ষই হাজির নানা ছবি নিয়ে আসেন। আর প্রথম দাবিদার নিয়ে আসে এই গোরুর মায়ের সঙ্গে ছবি। দ্বিতীয় দাবিদার গোরুর ছবির পাশাপাশি সেটিকে কেনার নথিও নিয়ে আসে। এরপরই পুলিসের সঙ্গে আলোচনা করে পঞ্চায়েত সদস্যা জানান, দু’পক্ষই যখন বলছেন গোরুটি তাদের, তাহলে সেটিকে বিক্রি করে দিয়ে টাকা ভাগাভাগি করে দিলেই সমস্যা মিটবে। এতে দ্বিতীয়পক্ষ রাজি হলেও প্রথম দাবিদার রাজি হননি। তিনি জানান, গোরুটি অন্য কাউকে বিক্রি করা হবে না। যত টাকা লাগুক, গোরুটি তারাই কিনবেন। কে গোরুর প্রকৃত দাবিদাব, এরপরই আন্দাজ করতে পারেন পুলিস ও পঞ্চায়েত সদস্যা। এরপরই দ্বিতীয় দাবিদারকে কড়াভাবে প্রশ্ন করলে সে জেরার মুখে ভেঙে পড়ে। সে জানায়, প্রায় একবছর আগে তার একটি গোরু হারিয়ে গিয়েছিল। পরে একদিন এই গোরুটি তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে ঘোরাঘুরি করতে থাকলে সেটিকে নিয়ে গোয়াল ঘরে নিয়ে গিয়েছিলেন তিনি। প্রথম দাবিদার জানান, দশদিন আগে গোরুটি হারিয়ে গিয়েছিল। ঘটনার দিন সকালে ওই গোরুটিকে দেখে তিনি চিনে ফেলেন। যদিও গোরুটিকে পঞ্চায়েত সদস্যার উপস্থিতিতে আসল দাবিদারের হাতে তুলে দেওয়া হলেও দ্বিতীয় দাবিদারের বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ জানাননি প্রথম দাবিদার।
স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যা চুমকি শীল বলেন, অনেক যুক্তিতর্কের পর অবশেষে ঝামেলা মিটেছে। আসল দাবিদারের হাতে গোরুটি তুলে দেওয়া হয়েছে। এই যদিও বিষয়ে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি(পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, ঘটনাটি জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ