Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

তাক লাগাচ্ছে বারুইপুরের দুই ভাইয়ের হাতে সিমেন্টের তৈরি ভবতারিণী বিগ্রহ

এম এ পাশ করেছেন দুই ভাই, দীপঙ্কর ও শুভঙ্কর। এঁদের হাতে গড়া সিমেন্টের দেড় ফুটের মা ভবতারিণী গিয়েছেন শ্যামবাজারের পুজো মণ্ডপে। শুধু মা ভবতারিণী নন।

তাক লাগাচ্ছে বারুইপুরের দুই ভাইয়ের  হাতে সিমেন্টের তৈরি ভবতারিণী বিগ্রহ
  • ২০ অক্টোবর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

সত্যজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় , বারুইপুর:

Advertisement

এম এ পাশ করেছেন দুই ভাই, দীপঙ্কর ও শুভঙ্কর। এঁদের হাতে গড়া সিমেন্টের দেড় ফুটের মা ভবতারিণী গিয়েছেন শ্যামবাজারের পুজো মণ্ডপে। শুধু মা ভবতারিণী নন। তাঁদের তৈরি সিমেন্টের দুই ফুটের মা তারা কিছুদিন আগেই গিয়েছেন হুগলির কোন্নগরে। সোশ্যাল মিডিয়ায় একের পর এক অর্ডার আসছে তাঁদের কাছে।
বারুইপুরের মদারাট পঞ্চায়েতের সর্দারপাড়ায় বাড়ি দুই ভাইয়ের। বাবা বিমল নস্কর চাষবাস করেন। মা কল্পনাদেবী গৃহবধূ। দুই ভাইই কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমএ পাশ করেছেন। মা ভবতারিণীকে সাজাতে সাজাতে দীপঙ্কর বলেন, এক মাস ধরে তৈরি করেছি মাকে। প্রথমে মাটি দিয়ে বানিয়ে তারপরে ডাইস করেছি। তারপরে সিমেন্টের প্রতিমা তৈরি করেছি। কলকাতা থেকে শাড়ি, গয়না এনে মাকে সাজিয়ে তোলা হয়েছে। একেবারে দক্ষিণেশ্বরের মা ভবতারিণীর আদলে এই মূর্তি গড়ে তুলেছেন দুই ভাই। ছোট ভাই শুভঙ্কর বলেন, ১২ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে এই কাজের জন্য। সোশ্যাল মিডিয়াতে আমাদের পেজ রয়েছে। সেই পেজ ফলো করেই অর্ডার আসছে। এছাড়াও আশপাশের মানুষজনও আসেন অর্ডার দিতে। কোনও প্রথাগত শিক্ষা নয়। ছোট থেকেই আঁকার শখ ছিল দুই ভাইয়ের। কোথাও প্রতিমা তৈরি করা দেখে এসে তা খাতায় লিখে রাখতেন তাঁরা। হুবহু সেই ছবিও এঁকে রাখতেন দুই ভাই। একপ্রকার শখ থেকেই মূর্তি বানানো শুরু। দীপঙ্কর বলেন, কলকাতার আর্ট কলেজে ভর্তি হওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু আর্থিক প্রতিবন্ধকতায় তা হয়ে ওঠেনি।
দুই ভাইয়ের ঘরে একের পর এক মূর্তি। তাঁরা এর আগে বানিয়েছেন আড়াই ফুটের কাগজের দুর্গা, সিমেন্টের তিন ফুটের শিব থেকে লক্ষ্ণীনারায়ণের মূর্তি। কখনও দুই ভাই বানিয়েছেন রবীন্দ্রনাথ থেকে শুরু করে নেতাজির মূর্তি। তা পাড়ি দিয়েছে ত্রিপুরা, বাংলাদেশ থেকে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। মা কল্পনাদেবী বলেন, সকাল থেকে দুই ভাই কাজে বসে। চলে দুপুর পর্যন্ত। সর্দারপাড়ায় লোকজনের মুখেও দুই ভাইয়ের সুখ্যাতি। অনেকেই বললেন, ভালো কাজ করছেন দুই ভাই।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ