নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দু’টি জায়গায় দু’টি মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল বসিরহাটে। উভয় ক্ষেত্রেই মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ দু’টি বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিস। একটি ঘটনা কোদালিয়ার, অন্যটি হাড়োয়ার।
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: দু’টি জায়গায় দু’টি মৃতদেহ উদ্ধার ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়াল বসিরহাটে। উভয় ক্ষেত্রেই মৃত্যুর কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহ দু’টি বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে পুলিস। একটি ঘটনা কোদালিয়ার, অন্যটি হাড়োয়ার।
সোমবার রাতে কম্বল জড়ানো অবস্থায় মাঝবয়সি গৃহবধূর গলাকাটা দেহ উদ্ধার হয় বসিরহাটের কোদালিয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের মোল্লাপাড়ায়। পুলিস জানিয়েছে, মৃতের নাম মনোয়ারা বিবি (৩৮)। তাঁর মেয়ে আবাসিক মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। ছেলে কলকাতায় একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। বছর দু’য়েক আগে মনোয়ারার স্বামী জাহাঙ্গির মণ্ডলের মৃত্যু হয়েছে। তারপর থেকে একাই বাড়িতে থাকতেন মহিলা। প্রতিবেশীদের দাবি, তিনদিন ধরে মহিলাকে বাড়ির বাইরে দেখা যায়নি। সোমবার রাতে বাড়ির কাছে দুর্গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। স্থানীয়রা গিয়ে দেখেন, সব দরজায় বাইরে থেকে তালা দেওয়া। তবে ঘরের ভিতর পাখা ঘুরছে। সন্দেহ হওয়ায় বাসিন্দারা পুলিসে খবর দেন। পুলিস এসে ঘরের তালা ভাঙে। দেখা যায়, ঘরের মেঝেয় কম্বল মোড়া অবস্থায় পড়ে রয়েছে মনোয়ারার দেহ। খবর দেওয়া হয় মৃতের ছেলে নয়ন মোল্লাকে। পুলিস দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা শিমুল মোল্লা বলেন, সোমবার সন্ধের পর থেকে বাড়ির চারপাশে পচা গন্ধ বেরচ্ছিল। কেউ মহিলাকে খুন করে বাইরে থেকে তালা বন্ধ করে দিয়ে চলে গিয়েছে বলেই মনে হচ্ছে। পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, কয়েকদিন আগেই মৃত্যু হয়েছে মনোয়ারার। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে কয়েকজনের মোবাইল ফোন পুলিস বাজেয়াপ্ত করেছে। তাঁরা মাঝেমধ্যে ওই বাড়ি আসতেন।
অন্যদিকে, সোমবার রাতেই হাড়োয়ায় এক ব্যক্তির রক্তাক্ত দেহ ঘিরে রহস্য তৈরি হয়েছে। অভিযোগের তির স্ত্রী’র দিকে। মৃতের শরীরে ছিল একাধিক আঘাতের চিহ্ন। দেহের পাশ থেকে উদ্ধার হয়েছে রক্তমাখা কোদাল। ঘটনাটি হাড়োয়া থানার রায়খাঁর। মৃতের নাম লক্ষ্মীকান্ত মণ্ডল (৪২)। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে হাড়োয়া থানার পুলিস। তবে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না মৃতের স্ত্রী ও ১০ বছরের ছেলের। স্থানীয় ও পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার রাতে ঘরের ভিতর গলায় শাড়ি জড়ানো অবস্থায় রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার হয় লক্ষ্মীকান্তের। পুলিস ঘটনাস্থলে এসে অচৈতন্য যুবককে হাড়োয়া গ্ৰামীণ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। প্রতিবেশীদের দাবি, আগেও লক্ষ্মীকান্তকে ধারালো অস্ত্রের কোপ মেরেছিল স্ত্রী পুষ্প মণ্ডল। সালিশি সভা করেও মেটেনি দাম্পত্য কলহ। সোমবার সকালেও তাঁদের অশান্তি হয়। পুলিসের প্রাথমিক অনুমান, লক্ষ্মীকান্তকে কুপিয়ে গলায় শাড়ির ফাঁস দিয়ে খুন করা হয়েছে। স্ত্রীর খোঁজে তল্লাশি শুরু করেছে পুলিস।
বসিরহাট পুলিস জেলার এক কর্তা জানিয়েছেন, দুটি মৃত্যুর ক্ষেত্রেই বেশ কিছু প্রশ্ন উঠছে। ঘনীভূত হয়েছে রহস্য। সিসি ক্যামেরা ও সোর্সকে কাজে লাগিয়ে দ্রুত খুনের কিনারা করার চেষ্টা চলছে।