Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বাল্যবিবাহ রোধে সাফল্য দুই ব্লকের

গ্রামীণ হাওড়ায় স্কুলছুট মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে দুশ্চিন্তা কম ছিল না প্রশাসনের।

বাল্যবিবাহ রোধে সাফল্য দুই ব্লকের
  • ২০ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: গ্রামীণ হাওড়ায় স্কুলছুট মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। এ নিয়ে দুশ্চিন্তা কম ছিল না প্রশাসনের। তবে গত এক বছর বদলে গিয়েছে এই ছবি। সচেতনতা প্রচার থেকে শুরু করে আইন প্রয়োগ ও লাগাতার তৎপরতার জেরে বাল্যবিবাহ রোধে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে বাগনান ১ ও ২ নম্বর ব্লক। জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, এই দুই ব্লক এখন এ বিষয়ে অন্যান্য ব্লকের কাছে ‘রোল মডেল’। শিশু দিবসে সেই স্বীকৃতি মিলেছে আনুষ্ঠানিকভাবে। সাফল্যের জন্য পুরস্কৃত করা হয়েছে দুই ব্লকের চাইল্ড ম্যারেজ প্রহিবিশন অফিসারকে।

Advertisement

হাওড়ার আমতা, বাগনান, শ্যামপুর সহ কয়েকটি ব্লকে স্কুলছুট নাবালিকার পাশাপাশি বাল্যবিবাহের ঘটনা প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছিল। সেই পরিস্থিতি বদলাতে তিন ধাপে কাজ শুরু করে জেলা প্রশাসনের প্রিভেনশন, প্রোটেকশন ও প্রসিকিউশন। প্রথম ধাপে আইসিডিএস সেন্টার ও স্কুলে মাসে দু’বার করে অভিভাবক ও ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে বাল্যবিবাহের কুফল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপে স্কুলছুট ছাত্রীদের পরিবারগুলির সঙ্গে পৃথকভাবে কথা বলে তাঁদের সচেতন করা হচ্ছে। প্রথম দুই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলে তৃতীয় ধাপে নেওয়া হচ্ছে আইনি ব্যবস্থা। পাশাপাশি গ্রাম পঞ্চায়েতের সহযোগিতায় প্রায় প্রতিটি গ্রামেই সচেতনতা সভা করা হচ্ছে। বাল্যবিবাহের আভাস পেলেই যাতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তার জন্য চাইল্ড হেল্পলাইন (১০৯৮) নম্বর সম্পর্কে বিশেষ প্রচারও চলেছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ধারাবাহিক প্রচেষ্টা গত এক বছরে বড় সাফল্য এনে দিয়েছে বাগনান এলাকায়। ২০২৪ সালের নভেম্বর থেকে এখনও পর্যন্ত বাগনান ১ নম্বর ব্লকে ২০টি এবং বাগনান ২ নম্বর ব্লকে ২৪টি বাল্যবিবাহ আটকাতে সক্ষম হয়েছে প্রশাসন। বছরখানেক আগে চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রোটেকশন অফিসারদের চাইল্ড ম্যারেজ প্রহিবিশন অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়ায় নজরদারি ও ফিল্ড ভিজিটের গতি বেড়েছে। সিএমপিও’র নেতৃত্বে সুপারভাইজার, ওয়ার্কার, হেলপার ও আশাকর্মীদের বিশাল টিম প্রতিনিয়ত মাঠে নেমে কাজ করছে।
বাগনানের সিএমপিও শরবিন্দু নস্কর বলেন, ‘দুই ব্লক মিলিয়ে সাড়ে চারশোর বেশি আইসিডিএস কর্মী সক্রিয়ভাবে কাজ করছেন। আশাকর্মীরাও আমাদের বড় শক্তি।’ প্রশাসনের দাবি, বাল্যবিবাহ ঠেকানো গেলেও সচেতনতার অভাবে অনেক পরিবার এখনও আঠারো পেরনোর আগেই ‘আশীর্বাদ’ সেরে রাখছেন মেয়েদের। এতে মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে নাবালিকারা। জেলা প্রশাসনের এক পদস্থ কর্তা সতর্ক করে বলেন, ‘চাইল্ড ম্যারেজ অ্যাক্ট অনুযায়ী, বিয়ের আগাম বন্দোবস্ত করাও অপরাধ। বাল্যবিবাহের সংখ্যা শূন্যে নামানোর আনতে প্রচেষ্টা জারি থাকবে।’ -নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ