Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

নিউটাউনে দুই বাংলাদেশিকে অপহরণ, সীমান্তের ওপারে ভিডিও কল করে মুক্তিপণ আদায়, ধৃত ২

ভারত থেকে ‘ইমিগ্রেশন অফিসারে’র ভিডিওকল! তাও আবার সীমান্তের ওপারে! কী হল?

নিউটাউনে দুই বাংলাদেশিকে অপহরণ, সীমান্তের ওপারে ভিডিও কল করে মুক্তিপণ আদায়, ধৃত ২
  • ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ভারত থেকে ‘ইমিগ্রেশন অফিসারে’র ভিডিওকল! তাও আবার সীমান্তের ওপারে! কী হল? পরিবারের লোকজন হতবাক! কারণ, বৈধ পাসপোর্ট ও ভিসা নিয়েই বাংলাদেশ থেকে দুই যুবক ভারতে এসেছে। পরিবারের লোকজন তা জানেনও। কিন্ত, ইমিগ্রেশন তাঁদের আটক করল কী কারণে? কাঁপা গলায় প্রশ্ন করেন পরিবারের সদস্যরা। ‘ইমিগ্রেশন অফিসারে’র তখন লালচোখ। ভিডিওকলে দেখানো হয়, রুমের মধ্যে আটক দুই বাংলাদেশি। জানিয়ে দেওয়া হয়, এখনই তিন লক্ষ টাকা পেমেন্ট না করলে, তাদের ছাড়া হবে না! তড়িঘড়ি বাংলাদেশের একটি ব্যাংক থেকে সেই মুক্তিপণের টাকা পাঠিয়েও দেওয়া হয় এপারে। কিন্তু, তারপরই দাবি করা হয় আরও ২৭ লক্ষ টাকা! 

Advertisement

তাতে সন্দেহ বাড়ে পরিবারের। দর কষাকষির মধ্যেই খবর দেওয়া হয় পুলিশকে। নিউটাউনের টেকনোসিটি থানার পুলিশ দ্রুত অভিযানে নামে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার কিনারা করে টেকনোসিটি থানা। নিউটাউনের একটি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্ট থেকে সোমবার উদ্ধার করা হয় ওই দুই বাংলাদেশি যুবককে। গ্রেপ্তার করা হয় দুই অভিযুক্তকে। যারা নিজেদের ইমিগ্রেশন অফিসার বলে পরিচয় দিয়েছিল। ধৃতদের মধ্যে একজন নিজেও  বাংলাদেশি! পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম হুমায়ূন কবীর ও অচিন্ত্যকুমার পাল। হুমায়ূনের বাড়ি বাংলাদেশের কেন্দুয়া থানার মামুদপুরে। অচিন্ত্যর বাড়ি নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জের মাজদিয়ায়। ধৃতদের বিরুদ্ধে অপহরণ সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করে ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ যুক্ত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ওই দুই যুবক মেডিকেল ভিসা নিয়ে ভারতে এসেছিলেন। কাজের খোঁজে তাঁরা কলকাতা হয়ে পতুর্গালে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু, পতুর্গালের ভিসা কীভাবে পাবেন, তার খোঁজ করছিলেন। সেই খোঁজ করতে করতেই তাঁদের সঙ্গে যোগাযোগ হয় বাংলাদেশের হুমায়ূন এবং মাজদিয়ার অচিন্ত্যের। তারা দুই বাংলাদেশি যুবককে পর্তুগালের ভিসা পাইয়ে দেওয়ার টোপ দেয়। সেই টোপে বিশ্বাস করে ওই প্রতারকদের খপ্পরে পড়ে যান দুই বাংলাদেশি। প্রতারকরা ওই দুই বাংলাদেশি যুবককে নিউটাউনের বালিগড়ির একটি সার্ভিস অ্যাপার্টমেন্টে নিয়ে গিয়ে আটকে রাখে। 
আটকে রেখে প্রথমে তাঁদের মারধর করা হয়। তারপর ৩ লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। তাঁদের কাছে এত টাকা ছিল না। তারপরই প্রতারকরা সীমান্তের ওপারে ওই দুই যুবকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। প্রথমে ফোন করে মুক্তিপণ চায়। তারপর সিনেমার মতো ভিডিওকল করে দেখানো হয় অপহৃতদের। পরিবারের লোকজন তাঁদের মুক্তির জন্য দ্রুত টাকা পাঠিয়ে দেন। পরে আরও টাকা চাইতেই তাঁরা বুঝতে পারে, প্রতারকদের খপ্পরে পড়তে পারেন। ওই দুই বাংলাদেশির এক আত্মীয় কলকাতায় থাকেন। তিনি জানতে পারেন, নিউটাউনে তাঁদের আটকে রাখা হয়েছে। তিনিই সোমবার টেকনোসিটি থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ফোনের কললিস্ট সহ বিভিন্ন সূত্র ধরে ওইদিনই অভিযান চালায় পুলিশ। অপহৃতদের উদ্ধার করে সোমবারই দুই প্রতারককে গ্রেপ্তার করা হয়।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ