সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: উলুবেড়িয়ার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজে মহিলা চিকিৎসককে মারধর, গালিগালাজ, হুমকির ঘটনায় উলুবেড়িয়া থানার পুলিশ এক অস্থায়ী হোমগার্ড সহ রোগীর দুই আত্মীয়কে গ্রেফতার করেছে। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সরকারি কাজে বাধাদান, মহিলা চিকিৎসককে মারধর, গালিগালাজ, হেনস্তা, হুমকি সহ একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুই অভিযুক্ত শেখ বাবুলাল ও শেখ হাসিবুর ওরফে কচিকে উলুবেড়িয়া আদালতে তোলা হলে বিচারক তাদের তিনদিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দেন। এদিন আদালতে আক্রান্ত মহিলা চিকিৎসকের গোপন জবানবন্দি নেওয়া হয়। ওই চিকিৎসকের পাশাপাশি উলুবেড়িয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উলুবেড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। এছাড়াও কর্তৃপক্ষ ৮ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে এদিন বিকেলে বিজেপির পক্ষ থেকে দোষীদের কঠোর শাস্তির দাবিতে উলুবেড়িয়া আদালতের সামনে বিক্ষোভ দেখানো হয়।
উলুবেড়িয়া মেডিকেল কলেজ সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ উলুবেড়িয়া মেডিকেল কলেজে ভর্তি এক প্রসূতিকে পরীক্ষা করে ওই মহিলা চিকিৎসক অ্যান্টিনেটাল ওয়ার্ড থেকে বেরিয়ে এলে রোগীর পরিবারের সদস্যরা তাঁকে নানা প্রশ্ন করেন। উত্তরে ওই চিকিৎসক বলেন, ভালো করেই রোগীকে পরীক্ষা করা হয়েছে। তবে সিনিয়র চিকিৎসক রয়েছেন। তিনি এসে প্রসূতিকে দেখবেন। অভিযোগ, এরপরেই ওই রোগীর আত্মীয়রা কর্তব্যরত মহিলা চিকিৎসকের সঙ্গে তর্ক শুরু করে এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে। দু’জন তাঁকে মারধরও করে। এমনকী, হাসপাতাল থেকে বেরলে কীভাবে জ্যান্ত বাড়ি ফেরেন, তা দেখে নেওয়ার হুমকি দেয়। আক্রান্ত মহিলা চিকিৎসক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানান। এরপরই দ্রুত পুলিশ এসে অভিযুক্তদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে ওই মহিলা চিকিৎসক উলুবেড়িয়া থানায় লিখিত অভিযোগ জানালে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। এদিকে, এই ঘটনার প্রেক্ষিতে এদিন মেডিকেল কলেজের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বৈঠকে বসেন। হাসপাতালের এমএসভিপি ডাঃ সুবীর মজুমদার সহ অন্যান্য চিকিৎসকরা উলুবেড়িয়া থানায় আরও একটি অভিযোগ দায়ের করেন। সুবীরবাবু বলেন, থানায় জানানো হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসা, নিরাপত্তা সহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা ফের বুধবার আলোচনায় বসব। এছাড়াও আট সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে, তারা ঘটনার তদন্ত করে রিপোর্ট দিলে গোটা বিষয়টি আমরা স্বাস্থ্যভবনকে জানাব।
অন্যদিকে, ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টরস ফোরামের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। তারা দোষীদের কঠোর শাস্তি, হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন এবং সমস্ত সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছে।