Bartaman Logo
৪ অক্টোবর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পটাশপুরে গণধর্ষণের ঘটনায় বিজেপির বুথ সভাপতি সহ ধৃত দুই, ৪ রাজ্য বদল করেও শেষরক্ষা হল না

জেলা পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম(সিট) পিছু নেওয়ার পর গণধর্ষণে অভিযুক্তরা ঘনঘন রাজ্য বদল করছিল।

পটাশপুরে গণধর্ষণের ঘটনায় বিজেপির বুথ সভাপতি সহ ধৃত দুই, ৪ রাজ্য বদল করেও শেষরক্ষা হল না
  • ৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: জেলা পুলিশের স্পেশাল ইনভেস্টিগেশন টিম(সিট) পিছু নেওয়ার পর গণধর্ষণে অভিযুক্তরা ঘনঘন রাজ্য বদল করছিল। এক সপ্তাহে চার রাজ্য বদল করেও শেষরক্ষা হল না। গুজরাতের আমেদাবাদ থেকে চার অভিযুক্তের মধ্যে দু’জন বিমল গায়েন ও পিন্টু জানাকে পাকড়াও করল সিট। আরও দুই অভিযুক্ত গাঢাকা দিয়ে রয়েছে। সিট তাদের পিছু নেওয়ার পরই নিজেরা দু’টি দলে ভাগ হয়ে ঘন ঘন ঠিকানা বদল করছিল। ২৬সেপ্টেম্বর রাতে পটাশপুরের টনিয়াবিলা গ্রামে গণধর্ষণের পরদিন ভোরে তারা খড়্গপুর হয়ে ওড়িশায় পালিয়ে যায়। পুলিশ তাদের খোঁজে ওড়িশা যেতেই দুষ্কৃতীরা ছত্তিশগড়ে গাঢাকা দেয়। তারপর সেখান থেকে গুজরাতে গিয়ে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজে যোগ দিয়েছিল বিমল ও পিন্টু। শনিবার তাদের ট্রানজিট রিমান্ডে পূর্ব মেদিনীপুরে আনা হয়।

Advertisement

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিল বলে অভিযোগ। পটাশপুরের টনিয়াবিলা গ্রামের প্রাক্তন তৃণমূলের নেত্রী এক সময় পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যা ছিলেন। বাড়িতে তিনি এবং পুত্রবধূ থাকেন। স্বামী ও ছেলে কর্মসূত্রে বাইরে থাকেন। ২৬সেপ্টেম্বর রাতে লাগোয়া ভূপতিনগর থানার নাড়ুয়াবিলা গ্রামের বিজেপির বুথ সভাপতি বিমল ও তার তিন সঙ্গী মদ্যপ অবস্থায় ওই বাড়িতে যায়। রান্নাঘরের জানালা উপড়ে ভিতরে ঢুকে শাশুড়ি ও পুত্রবধূ দু’জনকে দু’টি রুমে হাত-পা বেঁধে গণধর্ষণ করে বলে অভিযোগ। গোঙানির আওয়াজ আটকাতে মুখে কাপড় গুঁজে দেওয়া হয়েছিল।
ওই ঘটনার পর দু’জনেই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পাশাপাশি পটাশপুর থানায় এফআইআর হয়। অভিযুক্তদের মধ্যে দু’জনের সঙ্গে স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী শান্তনু প্রামাণিকের ছবি প্রকাশ্যে আসায় আরও হইচই শুরু হয়। তাছাড়া, ধৃত বিমল ২০২৪সালে ২৮জুন ভূপতিনগর থানার পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছিল। সেইসময় বিমলের সুরক্ষার জন্য দু’জন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান ঘিরে রাখত। বিজেপির নেতা-কর্মীরা এই ঘটনায় জড়িয়ে পড়ায় পদ্মপার্টিও অস্বস্তির মধ্যে পড়ে। একইভাবে পুলিশের উপর চাপ তৈরি হয়।
ভিনরাজ্যে চলে যাওয়া চার দুষ্কৃতীর খোঁজে সিট গঠন করে পুলিশ। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার(হেডকোয়ার্টার) তন্ময় মুখোপাধ্যায় জেলা থেকেই মনিটরিংয়ের কাজ শুরু করেন। এরাজ্য থেকে ওড়িশা, ছত্তিশগড় এবং শেষমেশ গুজরাতে পালিয়েও শেষরক্ষা হয়নি। চারজনের মধ্যে দু’জনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ সুপার অংশুমান সাহা বলেন, আমাদের টিম ভিনরাজ্যে গিয়ে দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকি দু’জনের খোঁজও চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ