নাগপুর: ‘আমাকে ছেড়ে দাও!’ কাতর অনুরোধ জানাচ্ছেন ২৪ বছরের এক তরুণী। যাদের উদ্দেশে এই অনুরোধ, তারা যেন বধির! বরং কলমা পড়িয়ে ধর্মান্তরকরণ শেষে ঘোষণা করা হল, ওই তরুণীর সঙ্গে বিয়ে হয়ে গিয়েছে তাঁর প্রাক্তন সহপাঠী আয়াজ তাজ মাদারের। এরপর তাঁকে ধর্ষণের চেষ্টা করে আয়াজ। নাগপুরের সেই ঘটনার ভিডিয়ো সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয়েছে বিতর্ক। তরুণীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্ত আয়াজ এবং তার শাগরেদ আমিন শেখকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আর ধর্মান্তরকরণের মূল হোতা হজরত মৌলানাকে ধরতে তদন্তকারীদের টিম রওনা হয়েছে মধ্যপ্রদেশে। ঘটনাটি এক বছরের পুরানো। যদিও তা নিয়ে গত ১৩ জুন অভিযোগ জানিয়েছেন তরুণী। পুলিশ জানিয়েছে, আভিযোগকারিণী বায়ুসেনা আধিকারিকের স্ত্রী। তাই লোকলজ্জা এবং জানাজানির ভয়ে এতদিন চুপ ছিলেন।
জানা গিয়েছে, নির্যাতিতার স্বামী অন্য শহরে কর্মরত। আর তরুণী নিজে সম্পত্তি কেনাবেচার কাজ করেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জমি কেনার অছিলায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেন প্রাক্তন সহপাঠী আয়াজ। ওয়ার্ধা রোডের একটি হোটেলে ডাকা হয় তাঁকে। এরপর ফলের রসের সঙ্গে মাদক মিশিয়ে খাওয়ানো হয়। জ্ঞান হারালে তরুণীকে ধর্ষণ করে আয়াজ। ঘটনার ভিডিয়ো রেকর্ডিংও করে রাখে। এরপর সেই ভিডিয়ো দেখিয়ে চলতে থাকে বারবার ধর্ষণ এবং ব্ল্যাকমেলিং। আয়াজ ৩ লক্ষ ৯ হাজার টাকা নিয়েছে বলে তরুণীর অভিযোগ। এমনকি তাঁকে মুসলিম ধর্ম গ্রহণের জন্য চাপ দিতে থাকে আয়াজ। মে মাসে নির্যাতিতাকে নাগপুরে নিয়ে গিয়ে আমিন শেখ এবং হজরত মৌলনার সঙ্গে পরিচয়ও করায়।এরপর আগে থেকে ঠিক করে রাখা এক জায়গায় ধর্মান্তকরণ করা হয় তরুণীকে। গত ১৩ জুন স্বামী বাড়ি ফিরলে তাঁকে ঘটনার কথা জানান তরুণী। এরপরই সোনেগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।