নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: টাকার বিনিময়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশে চাকরির টোপ দিয়ে বারাকপুরের মোহনপুরে বিড়লা গেট এলাকায় ট্রেনিং সেন্টার খুলে বসেছিল একটি প্রতারণা চক্র। বৃহস্পতিবার রাতে মোহনপুর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করেছে সেই চক্রের দুই সদস্যকে। ওই ট্রেনিং সেন্টারে বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রায় ৬০০ জন বেকার যুবক ও যুবতী ছিলেন। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃত দুজনের নাম গোপাল দাস ও নির্মল মাইতি। গোপালের বাড়ি হুগলি, নির্মল সল্টলেকের বাসিন্দা। ধৃতদের বিরুদ্ধে আগেও চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে ভুয়ো ট্রেনিং সেন্টার খুলে যুবক যুবতীদের থেকে টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল। শুক্রবার ধৃতদের বারাকপুর আদালতে তোলা হলে বিচারক তিনদিনের জেল হেপাজতের নির্দেশ দিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চাকরির টোপ দিয়ে প্রার্থীদের সুদূর গ্রাম থেকে টেনে আনত সংস্থার কর্মীরা। বারাকপুরে সাতদিনের জন্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও খুলে ফেলেছিল তাঁরা। জানা যাচ্ছে, সাতদিনের মধ্যে ডব্লুবিসিএস অফিসার অথবা সেনাবাহিনীর আধিকারিকের চাকরি পাইয়ে দেওয়ার টোপ দেওয়া হতো প্রার্থীদের। সেইমতো বিড়লা গেটের সুকান্ত পল্লিতে দিন সাতেক আগে ঘর ভাড়া নেওয়া হয়। সেখানেই একটি বহুতলে প্রতারকরা খুলেছিল ভুয়ো ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। হুগলি, বর্ধমান, মেদিনীপুর, বীরভূম, হাওড়া সহ বিভিন্ন জেলা থেকে প্রায় ৬০০ জন থাকছিলেন গত কয়েকদিন ধরে। তাঁদের প্রত্যেকের হাতে ধরিয়ে দেওয়া হয়েছিল ‘প্রশ্নপত্র’। একসঙ্গে এতজনকে থাকতে দেখে সন্দেহ হয় বাসিন্দাদের। খবর যায় পুলিশে। সেইমতো ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দ্রবদন ঝাঁ’র নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার রাতে আচমকা অভিযান চালায় মোহনপুর থানার পুলিশ। তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই ভাড়া বাড়িতে যে চাকরি প্রার্থীরা ছিলেন তাঁদের প্রত্যেকের কাছ থেকে কমপক্ষে ১২ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছিল প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য। স্থানীয় এক জমির দালালও এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে জানা গিয়েছে। সেখানে এক ছাত্রী আবাসে বিএসএফের এক মহিলা জওয়ানকেও পাওয়া গিয়েছে। বারাকপুরের পুলিশ কমিশনার মুরলীধর শর্মা বলেন, ‘দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। চাকরি প্রার্থীদের প্রশ্নপত্র দেওয়া এবং শারীরিক সক্ষমতার পরীক্ষায় সফল করিয়ে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার টোপ দিয়ে প্রার্থীদের থেকে টাকা হাতাতেই ভুয়ো ট্রেনিং সেন্টার খুলে বসেছিল।’ ঘটনায় আর কারও যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। গোটা ঘটনার তদন্ত চলছে।