Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

কর্ণাটক থেকে বিমানে এসে পর পর কেপমারি, থাকত হোটেলে, কিনারা বাগুইআটি থানার, মহারাষ্ট্র থেকে ধৃত ২

পুলিস পরিচয় দিয়ে অভিনব কায়দায় কেপমারি। সোনার গয়না হাতানোই ছিল মূল টার্গেট

কর্ণাটক থেকে বিমানে এসে পর  পর কেপমারি, থাকত হোটেলে, কিনারা বাগুইআটি থানার, মহারাষ্ট্র থেকে ধৃত ২
  • ২৬ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: পুলিস পরিচয় দিয়ে অভিনব কায়দায় কেপমারি। সোনার গয়না হাতানোই ছিল মূল টার্গেট। কলকাতা, শহরতলি থেকে এরাজ্যের একাধিক জায়গা। অপরাধের সংখ্যা প্রায় ৫০টি! সব জায়গাতেই একই কৌশল। কিন্তু, ধরা যাচ্ছিল না অপরাধীদের। অবশেষে ওই ঘটনার তদন্তে নেমে চক্রের কিনারা করল বিধাননগর কমিশনারেটের বাগুইআটি থানার পুলিস। মহারাষ্ট্রে লাতুর থেকে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা কর্ণাটকের বিদর গ্যাংয়ের কুখ্যাত সদস্য। ধৃতদের জেরা করে পুলিস জানতে পেরেছে, কর্ণাটক থেকে বিমানে করে তারা কলকাতায় আসত। থাকত হোটেলে। এক একবারে ৪-৫টি কেপমারি করে চলে যেত। ফের আসত বিমানে চেপেই! পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম তাকি ইউসুফ আলি ও হাসনি নাসের হোসেন। কর্ণাটকের বিদরের গান্ধীগঞ্জ এলাকায় তাদের বাড়ি। কীভাবে অপারেশন করত? তারা কর্ণাটকের বিভিন্ন এয়ারপোর্ট থেকে বিমানে করে কলকাতায় আসত। তারপর শহরের বিভিন্ন হোটেলে উঠত। যে নথি দিত, তা নকল। পরদিনই তারা বাইক নিয়ে অপারেশনে বেরিয়ে পড়ত। রাস্তায় যে বয়স্কদের হাতে আংটি, গলায় সোনার হার থাকত, তাঁদের টার্গেট করত। বাইকে করে দু’জন তাঁদের সামনে দাঁড়িয়ে কথাবার্তা শুরু করত। বলত, ‘আমরা কলকাতা পুলিসের লোক। এখানে গতকাল ছিনতাই হয়েছে। তাই এত সোনার গয়না পরে যাওয়া ঠিক হবে না’।

Advertisement

তারপরই দু’জনে একটি পলিথিন বের বয়স্কদের দিতেন। বলত, ‘স্যার, সোনার আংটি ও হার যা আছে খুলে এতে ভরে দিন। বাড়িতে গিয়ে পরবেন’। বয়স্ক লোকজন বিশ্বাস করে পলিথিনে ভরেও দিতেন। তাদের কাছেও একই রঙের পলিথিন প্যাকেট থাকত। তাতে কিছু ভরে রাখতেন। কথা বলার ছলে সোনার গয়না রাখা পলিথিন নিয়ে তারা চলে যেত। বাড়ি গিয়ে বয়স্করা দেখতেন, প্যাকেট ভাঙা-নুড়ি! বাগুইআটিতে গত ৯ মার্চ একই কায়দায় কেপমারি হয়েছিল। তারই তদন্তে নেমে বিদর গ্যাংয়ের খোঁজ পায়। তারপরই বৃহস্পতিবার দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিস জানিয়েছে, তারা অপরাধ করার পর বাইকে করে কিছু দূর যেত। তারপর একটি গাড়িতে উঠে যেত। ওই গাড়িতে ওদের সঙ্গী থাকত। সে বাইকটি নিয়ে অন্য রুটে চলে যেত। ফলে, সিসি ক্যামেরার ট্র্যাক করে কিছুটা দূরে গিয়ে দেখা যেত, সেই বাইক নেই! ওই বাইকগুলি ঝাড়খণ্ডের। নম্বরপ্লেটও ভুয়ো। তাই ধৃতদের সঙ্গীদেরও খোঁজ চলছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ