সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশে ভাব জমিয়ে অন্দরমহলের খবর নিয়ে কোতুলপুর ও জয়পুরের দুই বাড়িতে চুরি করেছিল দুষ্কৃতীরা। সেই চুরির ঘটনায় ওন্দার পুনিশোল থেকে দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। উদ্ধার হয়েছে ৮৫হাজার টাকা নগদ ও প্রায় ১০লক্ষ টাকার সোনার গয়না। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের নাম মতিউর রহমান মণ্ডল ও আব্দুল রউফ খান। তারা দিনের বেলায় টিনভাঙা, লোহাভাঙা কেনার নাম করে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়াত। পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ভাব জমিয়ে সেই এলাকার বিভিন্ন বাড়ি সম্পর্কে খোঁজখবর নিত। তারপর সুযোগ বুঝে রাতের বেলায় তালা ভেঙে চুরির করত। জয়পুরের হাটতলা ও কোতুলপুরের মির্জাপুরে দুই বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। চুরির আগে দুই বাড়িতেই ফেরিওয়ালার ছদ্মবেশে দুষ্কৃতীরা ঢুকেছিল বলে পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।
শনিবার উদ্ধার হওয়া নগদ টাকা ও সোনার গয়না সহ ধৃতদের নিয়ে বিষ্ণুপুরে সাংবাদিক সম্মেলন করেন বাঁকুড়া জেলা অতিরিক্ত পুলিস সুপার মকসুদ হাসান। তিনি বলেন, তালাবন্ধ ঘরে চুরির ঘটনার মোট তিনজন যুক্ত রয়েছে। তাদের মধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য একজনের খোঁজে তল্লাশি চলছে। আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিবারের হাতে চুরি যাওয়া জিনিসপত্র তুলে দেওয়া হবে।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, কোতুলপুরের মির্জাপুরে এক সেনা জওয়ানের বাড়িতে চুরি হয়। কর্মসূত্রে পরিবার নিয়ে তিনি বাইরে থাকেন। গ্রামে তাঁদের দু’টি বাড়ি রয়েছে। পুরনো বাড়িতে তাঁর মা বাবা সহ পরিবারের অন্যান্যরা থাকেন। নতুন বাড়ি তালাবন্ধ ছিল। সেই বাড়ির তালা ভেঙে সোনার গয়না ও নগদ প্রায় ৫০ হাজার টাকা দুষ্কৃতীরা চুরি করে। এছাড়া জয়পুরের হাটতলা এলাকায় গড়াই পরিবারের দুষ্কৃতীরা হানা দেয়। তাদের পরিবারের এক মেয়ের কয়েকদিন বাদেই বিয়ে। সেই জন্য গয়না গড়িয়ে তাঁদেরই একটি মাটির বাড়িতে রেখেছিলেন। ওই বাড়ির দরজায় তালা ভেঙে দুষ্কৃতীরা সোনার গয়না ও নগদ প্রায় ৩৫ হাজার টাকা চুরি করে।
অভিযোগ পেয়ে পুলিস ঘটনার তদন্তে নামে। পুলিস জানতে পারে, চুরির আগে দুই বাড়িতেই দু’জন ফেরিওয়ালা এসেছিল। তারা পরিবারের লোকজনের সঙ্গে ভাব জমিয়ে বাড়ির বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়েছিল। তারপরই পুলিস এলাকায় ফেরিওয়ালাদের সম্পর্কে খোঁজখবর চালায়। তদন্ত করতে গিয়ে ওন্দার পুনিশোলের বাসিন্দা মতিউর রহমান ও আব্দুল রউফের যোগসূত্র খুঁজে পায়। পুলিস তাদের গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া সমস্ত গয়না ও নগদ টাকা উদ্ধার হয়। চুরি যাওয়া বিয়ের গয়না উদ্ধার হওয়ায় জয়পুরের গড়াই পরিবারে স্বস্তি ফিরেছে। গয়না ফেরত পাওয়ার আশায় রয়েছে কোতুলপুরের সেনা জওয়ানের পরিবারও।