Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

বারাসত, চন্দননগরে হোটেল ভাড়া নিয়ে একের পর এক চুরি! পুজোয় গয়না হাতিয়ে বান্ধবীদের ভেট, ধৃত ২

নেশায় পরিণত হয়েছিল বিলাসবহুল জীবনযাপন। সঙ্গে চাহিদা একাধিক যুবতী সঙ্গ। এহেন ফূর্তি আর শখ পূরণের উপকরণ জোগাড়ে সাজিয়েছিল অপরাধের ঘুঁটি।

বারাসত, চন্দননগরে হোটেল ভাড়া নিয়ে একের পর এক চুরি! পুজোয় গয়না হাতিয়ে বান্ধবীদের ভেট, ধৃত ২
  • ৭ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: নেশায় পরিণত হয়েছিল বিলাসবহুল জীবনযাপন। সঙ্গে চাহিদা একাধিক যুবতী সঙ্গ। এহেন ফূর্তি আর শখ পূরণের উপকরণ জোগাড়ে সাজিয়েছিল অপরাধের ঘুঁটি। উৎসবপর্বে চরম ব্যস্ততা উর্দিধারীদের। সেই পর্বে হোটেল ভাড়া করে এলাকায় রেকি, তারপর চুরির নিখুঁত অপারেশন। চুরি করা সোনার গয়নার একাংশ উপহার হিসেবে পেত প্রেমিকা-সঙ্গিনীরা। বাকিটা বিক্রি হত। কিন্তু শেষরক্ষা হল না দুষ্টচক্রের। কালীপুজোর মধ্যে বারাসতের একটি চুরির ঘটনার তদন্তে নেমে দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করল বারাসত থানার পুলিশ। ধৃতরা হল, চক্রের পান্ডা সুব্রত চক্রবর্তী ও তার শাগরেদ রাজু মজুমদার। তাদের বাড়ি বসিরহাটে। এখন তারা পুলিশ হেফাজতে। তাদের কাছ থেকে সাড়ে ২৭ গ্রাম ওজনের চুরির সোনা গয়না উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃতদের সঙ্গে আর কেউ যুক্ত আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, কালীপুজোর সময় গত ২২ অক্টোবর গভীর রাতে বারাসতের বনমালিপুর এলাকার এক বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। সোনার গয়না সহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী চুরি হয়েছিল। ২৩ অক্টোবর বারাসত থানায় অভিযোগও হয়। তদন্তে নেমে সুব্রতকে চিহ্নিত করে পুলিশ। এর আগেও বিভিন্ন থানায় সুব্রতর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ আছে। সুব্রত মূলত চুরির জন্য উৎসবের সময়টা বেছে নিত। উৎসব চলাকালীন সংশ্লিষ্ট এলাকায় হোটেল ভাড়া করে টার্গেট রেকি করত সে। কালীপুজোর সময় বারাসতের অপারেশন শেষে সে ঘাঁটি গেড়েছিল জগদ্ধাত্রী পুজোয় ব্যস্ত চন্দননগরে। 
গত ২৯ অক্টোবর চুঁচুড়ার দেবীনগরের একটি হোটেল থেকে সুব্রত চক্রবর্তীকে গ্রেপ্তার করে বারাসত থানার পুলিশ। তাকে জেরা করে জানা যায়, চুরির সোনার গয়না বিক্রির জন্য বসিরহাটের একটি সংস্থার ম্যানেজার রাজু মজুমদারকে দায়িত্ব দিয়েছিল সে। সেই গয়না রাজু বিক্রি করেছিল বসিরহাটের একটি সোনার দোকানের মালিককে। সেই দোকানে পুলিশ অভিযান চালানোর আগেই ওই সোনা গলিয়ে একটা দণ্ড বানিয়ে ফেলা হয়। পুলিশ সেটি উদ্ধার করেছে। বারাসতের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অতীশ বিশ্বাস বলেন, এই অপরাধচক্র একটি সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে চুরি করত। মূল পান্ডা সুব্রত। উৎসব পর্বে পুলিশের ব্যস্ততার সময়কেই সুব্রত ব্যবহার করত চুরির ছক সাজাতে। সদ্য শেষ হওয়া কালীপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো তার কাছে ছিল ‘গোল্ডেন সিজন’। সুব্রত দাগি আসামি। তার নামে আগে থেকেই একাধিক থানায় চুরির মামলা রয়েছে। এমনকি বসিরহাট থানায় মাদক আইনে মামলাও আছে। জেরায় সুব্রত জানিয়েছে, চুরি করা গয়না বিক্রির দায়িত্বে ছিল তার বন্ধু রাজু মজুমদার। যিনি বসিরহাটের এক সংস্থায় কাজ করেন। গয়না বিক্রি করা হত বসিরহাটের এক সোনার দোকানে। পুলিশ তা উদ্ধার করেছে। এদিকে বারাসত থানার আইসি মৈনাক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,  একাধিক মহিলার সঙ্গে সম্পর্ক ছিল সুব্রত’র। চুরির গয়নার একটা অংশ সে উপহার দিত বান্ধবীদের। বাকিটা বিক্রি করে বিলাসবহুল জীবনযাপন করত। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ