Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

হানি ট্র্যাপে পড়েই পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তি দুই ধৃতের

‘সামরিক কৌশলে’র খবর পেতে ভারতীয় সেনার শীর্ষ আধিকারিকদের হানিট্র্যাপে ফাঁসানোর ছক পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের দীর্ঘদিনের।

হানি ট্র্যাপে পড়েই পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তি দুই ধৃতের
  • ১০ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ‘সামরিক কৌশলে’র খবর পেতে ভারতীয় সেনার শীর্ষ আধিকারিকদের হানিট্র্যাপে ফাঁসানোর ছক পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআইয়ের দীর্ঘদিনের। সেই ফাঁদে পা দিয়েই চরবৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ে পানাগড়ের মুকেশ কুমার রজক ও মেমারির রাকেশ কুমার গুপ্তা। এদেশের ‘বিভীষণ’দের নিয়ে আইএসআই চরবৃত্তির যে গ্রুপ তৈরি করেছিল, তাতেও সদস্য ছিল এই দুজন। গ্রেপ্তারের পর দু’জনকে জেরা করে এই তথ্য পেয়েছেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। একইসঙ্গে পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তির অভিযোগে ধৃত জ্যোতি মালহোত্রা যে তাদের কন্ট্রোলিংয়ের দায়িত্বে ছিল, প্রাথমিকভাবে এমনও তথ্য পেয়েছেন তাঁরা। সেগুলি যাচাই করার কাজ চলছে। জ্যোতির সঙ্গে  এই দুজনের যোগাযোগ কোন পর্যায়ে তাই নিয়ে তদন্ত চলছে।

Advertisement

রবিবার মেমারি থেকে গ্রেপ্তার হয় মুকেশ ও রাকেশ। জানা যায় তারা  আইএসআই কর্তাদের ভারতীয় সিমের ওটিপি সরবরাহ করত। এনজিওর  আড়ালে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল আইএসআই। গোয়েন্দারা তাদের সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটের প্রোফাইল ঘেঁটে জানতে পারছেন, একাধিক মহিলা তাদের ফ্রেন্ড লিস্টে ছিল। বেশ কয়েকজন মহিলার সঙ্গে তাদের এমনকিছু মেসেজ আদানপ্রদান হয়েছে, যা রীতিমতো আপত্তিকর ও  সন্দেহজনক। তা দেখে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হন হানিট্র্যাপের ফাঁদে পড়েছিল এই দুই যুবক। দুই অভিযুক্ত গোয়েন্দাদের জানিয়েছে, এক মহিলা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখত। সে নিজেকে একটি এনজিওর বড় কর্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। ওই মহিলার কথামতো তারা ভারতীয় সিমের ওটিপি দিত। তাদের বলা হয়েছিল, এনজিওর ভারতীয় শাখার সদস্যদের সঙ্গে যাতে হোয়াটঅ্যাপে কথা বলতে পারে, সে কারণেই ওটিপি’র দরকার। পুরোপুরি ফাঁদে পড়ার পর দেশের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও নিরাপত্তার দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ছবি ও ভিডিও পাঠাতে বলা হতো টার্গেটদের। সেইমতো তারা সেগুলি পাঠিয়েছিল। এরপর তাদের একটি গ্রুপে যুক্ত করা হয়। সেখানে তাদের সঙ্গে আরও অনেকেই ছিল। গোয়েন্দারা ওই গ্রুপগুলি ডিকোড করে জানতে পারছেন, অ্যাডমিন হিসেবে যারা ছিল, তারা সকলেই পাকিস্তানের আইএসআইয়ের কর্তা। এই গ্রুপটি তৈরি করা হয়েছিল ফয়সালাবাদ থেকে। ভারতীয় নম্বর ব্যবহার করে হোয়াটঅ্যাপ গ্রুপে কথাবার্তার আদানপ্রদান চলত। ইন্টারনেট কানেকশন যে সার্ভিস প্রোভাইডারের থেকে নেওয়া হয়েছিল, তার তথ্য খুঁজে বের করেন অফিসাররা। এনজিও কর্ত্রী হিসেবে পরিচয় দিয়ে  যে প্রোফাইলটি  খোলা হয়েছিল, সেটিও চালাচ্ছিল আইএসআইয়ের কর্তারা। গোয়েন্দারা জেনেছেন, ভারতের জন্য একাধিক গ্রুপ খুলেছিল আইএসআই। সেখানে বিভিন্ন রাজ্যে চর বৃত্তির কাজের জড়িতদের নাম রয়েছে। একটি গ্রুপে ছিল মুকেশ ও রাকেশ। গ্রুপে থাকা একটি নম্বর দেখে সন্দেহ হয় গোয়েন্দাদের। হরিয়ানার হিসার পুলিসের হাতে ধরা পড়া জ্যেতি মালহোত্রা গ্রুপ খোলার জন্য যে নম্বরগুলি ব্যবহার করেছিল, তার লিস্ট পান কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। তা মিলিয়ে দেখতে গিয়ে গোয়েন্দারা দেখেন রাকেশ ও মুকেশ যে গ্রুপে রয়েছে সেখানে জ্যোতির নম্বর রয়েছে। সূত্রের খবর, রাকেশ ও মুকেশকে জ্যোতি বুঝিয়ে দেয়, রাজ্যের কোন কোন এলাকার ছবি ও ভিডিও দরকার।  প্রসঙ্গত এই জ্যোতিও পশ্চিমবঙ্গ ঘুরে গিয়েছিল। তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল আরও বেশি চর নিয়োগ ও তথ্য সংগ্রহের। সেইমতো মুকেশ ও রাকেশ পানাগড়ে ভারতীয় বায়ু সেনা 
ঘাঁটির তথ্য জোগাড়র চেষ্টা করছিল বলে খবর।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ