নিজস্ব প্রতিনিধি, আরামবাগ: পুরশুড়ায় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীকে পিটিয়ে খুনের ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ। সোমবার বিকেলে পুরশুড়ার কেলেপাড়ায় শেখ শাহ আলম নামে বৃদ্ধ তৃণমূল কর্মীকে পিটিয়ে খুনের অভিযোগ ওঠে বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। ওইদিন রাতেই দু’জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ধৃতরা বিজেপি কর্মী বলে দাবি মৃতের পরিবারের। যদিও বিজেপি অভিযুক্তদের দলের কর্মী বলে মানতে অস্বীকার করে। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম সৌরভ পোড়েল ও কাশীনাথ পোড়েল। তাদের বাড়ি কেলেপাড়া রানিপুকুর এলাকায়। মঙ্গলবার তাদের আরামবাগ মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০দিন পুলিশি হেপাজতের নির্দেশ দেন। অভিযুক্তরা তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
মঙ্গলবার বিকালে দেহ নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে সোদপুর-খুশিগঞ্জ রাস্তা অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান মৃতের পরিজনরা। দোষীদের শাস্তির দাবি জানানো হয়। পরে পুলিশের আশ্বাসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পুরশুড়ার বিধায়ক বিজেপির বিমান ঘোষ বলেন, অভিযুক্তরা বিজেপির নয়। ভোটের ফল বেরনোর পর রাতারাতি কেউ কেউ বিজেপি হয়েছে। পুলিশকে বলেছি, কাউকে রেয়াত করা হবে না। আইন আইনের পথে চলবে। পুরশুড়ার তৃণমূল প্রার্থী পার্থ হাজারি বলেন, বিধায়কের উপর ভরসা রাখছি।
পুরশুড়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের পুত্রবধূ ন’জনের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেছেন। তারমধ্যে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। ধৃত দু’জন ঘটনার সময় সেখানে ছিল। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে বাকি অভিযুক্তদের খোঁজ চালানো হবে। তদন্ত চলছে। মঙ্গলবার আরামবাগ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের মর্গে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে মৃতের শরীরে মারধরের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে।
মৃতের পরিবারের অভিযোগ, সোমবার বাড়িতে ঘুমানোর সময় আলম সাহেবকে টেনেহিঁচড়ে পুকুরপাড়ে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়। পরে জখম অবস্থায় আরামবাগ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
মৃতের বড় পুত্রবধূ সেরিনা বেগম বলেন, আমাদেরও মারধর করা হয়। তৃণমূল করায় ওরা আমার শ্বশুরকে খুন করেছে। প্রত্যেকেই বিজেপি করে। দু’জন ধরা পড়লেও মূল অভিযুক্তদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি। আমরা চাই, প্রত্যেক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে কঠোর সাজা দেওয়া হোক। মৃতের ছোট ছেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, ভোটের ফল বেরোনোর পর বিজেপির দুষ্কৃতীরা এলাকায় তাণ্ডব চালাচ্ছে। তোলাবাজি করছে। গত রবিবারই ৫০০টাকা দিতে হয়েছিল। তাতেও রেহাই পাওয়া গেল না। রাজনৈতিক আক্রোশেই বাবাকে পিটিয়ে খুন করা হয়েছে।