নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: সোনার দোকানে ঢুকে নকল গয়না বন্ধক রেখে চার লক্ষ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে জগৎবল্লভপুরে। মঙ্গলবারের এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই দুই দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তবে মূল চক্রী এখনও পলাতক। এই চক্রের সন্ধানে একাধিক জায়গায় তল্লাশি শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ব্যবসায়ীদের মধ্যেও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত মঙ্গলবার দুপুরে বড়গাছিয়া স্টেশন রোডের একটি সোনার দোকানে হাজির হয় তিন ব্যক্তি। নিজেদের আর্থিক সংকটের কথা জানিয়ে তারা সোনার গয়না বন্ধক রেখে ঋণ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে। নকল গয়নার সঙ্গে দুষ্কৃতীরা কিছু আসল সোনার গয়নাও নিয়ে এসেছিল। প্রথমে আসল গয়নাগুলি দেখিয়ে দোকানের মালিকের আস্থা অর্জন করে তারা। দোকান মালিক প্রকাশ সিং বলেন, ‘তিন ব্যক্তির কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহের কোনো অবকাশ ছিল না। তাই প্রাথমিক বিশ্বাসের ভিত্তিতেই চার লক্ষ টাকা তুলে দিয়েছিলাম তাদের হাতে।’ পুলিশ জানিয়েছে, এই চক্রটির পরিকল্পনা ছিল ধাপে ধাপে। প্রথমে একজন নগদ টাকা নিয়ে দোকান ছাড়ে। এরপর বাকি দু’জন আসল গয়নাগুলি তুলে নিয়ে দ্রুত সরে পড়ে। দোকান কর্তৃপক্ষ বাকি গয়না যাচাই করতে গেলে ধরা পড়ে, সেটি আসলে নকল ধাতু। মুহূর্তেই দোকানের মালিক বুঝতে পারেন তিনি প্রতারণার শিকার। এরপর বিষয়টি জানাজানি হতেই অন্যান্য ব্যবসায়ীরা সতর্ক হয়ে যান।
ঘটনার পরপরই জগৎবল্লভপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে দোকানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে পুলিশ। তাতে দুই অভিযুক্তের মুখ স্পষ্ট ধরা পড়ে। ছবি মিলিয়ে ও স্থানীয় সূত্রের ভিত্তিতে জানা যায়, তিনজনই হুগলির জাঙ্গিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। বুধবার গভীর রাতে সেখানে অভিযানে গিয়ে প্রথমে শেখ মুনতাজকে গ্রেপ্তার করা হয়। পাশাপাশি, জাঙ্গিপাড়া থানার পুলিশও বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র সহ আরেক দুষ্কৃতী শেখ নাসিরুদ্দিনকে পাকড়াও করে। দু’জনকেই নিজেদের হেপাজতে নিয়েছে পুলিশ। হাওড়া গ্রামীণ পুলিশের এক আধিকারিক জানান, এই চক্রের মূল চাঁই কুখ্যাত নুরুল্লা মল্লিক ওরফে ইমতাজ এখনও পলাতক। তার খোঁজে একাধিক জেলায় তল্লাশি চলছে। টাকা উদ্ধারের পাশাপাশি এই চক্রের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার যোগ রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশের দাবি, শীঘ্রই পলাতক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।