নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ব্যাংকক থেকে চোরাই সোনা নিয়ে আসার আগেই কলকাতা বিমানবন্দর থেকে দু’জনকে পাকড়াও করল শুল্ক দপ্তর। তাঁদের কাছ থেকে ৪ লক্ষ ৩৫ হাজার ডলার মিলেছে। এই ডলার কীভাবে তাঁরা পেলেন, সেই সংক্রান্ত কোনও নথি তাঁরা দেখাতে পারেননি। তাই দু’জনকে শুল্ক দপ্তরের অফিসে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় নথি আনার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে তাঁদের। যদিও শুল্ক দপ্তরের পক্ষ থেকে দু’জনকে আটক বা ডলার উদ্ধারের খবর সরকারিভাবে স্বীকার করা হয়নি।
ব্যাংকক থেকে চোরাই সোনা আনতে কলকাতার বেশ কয়েকজন নিয়মিত যাতায়াত করছেন বলে খবর ছিল শুল্ক দপ্তরের কাছে। আরও জানা যায়, উত্তর ২৪ পরগনার কামারহাটির বাসিন্দা জনৈক সিকান্দার এই কারবারের মাথায় রয়েছে। ব্যাংককে চোরাই সোনার কারবারে জড়িত ব্যক্তিদের সঙ্গে তার যোগাযোগ রয়েছে। তাঁর একাধিক এজেন্ট নিয়মিত বিমানে করে ব্যাংকক আসা-যাওয়া করছেন। সেখান থেকে সোনা নিয়ে ফিরে আসছেন। এই সোনা কিনছেন এখানে জুয়েলারি ব্যবসায় জড়িতদের একাংশ। তাঁদের কাছেই পৌঁছে যাচ্ছে চোরাই সোনা। বিনিময়ে যে নগদ আসছে, সেই টাকা বিভিন্ন বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র থেকে অবৈধভাবে ডলারে বদলে নেওয়া হচ্ছে। এই ডলার দিয়ে আবার কেনা হচ্ছে চোরাই সেনা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শুল্ক দপ্তরের এক অফিসার জানিয়েছেন, চোরাই সোনার কারবারে জড়িত দু’জন বিমানবন্দর এলাকায় হাজির হয়েছেন। তাঁরা ব্যাংককের বিমান ধরবেন। সেই মতো সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ একটি শুল্ক দপ্তরের একটি টিম পোঁছে যায়। বিমানবন্দরের বাইরে থেকে দু’জনকে আটক করা হয়। তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, দু’জনের কাছে বিপুল অঙ্কের ডলার রয়েছে। মেলে বিমানের টিকিটও। ডলারের জন্য প্রয়োজনীয় নথি চাওয়া হয়। তাঁরা দাবি করেন, এ সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র অফিসে রয়েছে। এরপরই দু’জনকে আটক করে শুল্ক দপ্তরের অফিসে আনা হয়। সেখানেও দু’জন দাবি করেন, তাঁদের অফিসে গেলেই ডলারের কাগজপত্র দেখাতে পারবেন। সেই মতো কাগজপত্র চেয়ে পাঠানো হয়েছে তাঁদের প্রতিনিধিদের কাছে। ব্লক করে রাখা হয়েছে সমস্ত ডলার। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া নেওয়ার জন্য শুল্ক দপ্তরের একাধিক অফিসারকে ফোন করা হয়েছিল। তাঁরা কেউই সরকারিভাবে এই ঘটনার কথা স্বীকার করেননি।