নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: চুরি ও ছিনতাইয়ে অভ্যস্ত। এজন্য কয়েকবার জেলও খেটেছে। এবার সেই পথ ছেড়ে ‘ঘোড়া’ ও ‘দানা’ পাচারে নামে দুই যুবক। ‘ঘোড়া’ মানে পিস্তল, আর ‘দানা’ মানে গুলি। অপরাধের পথ বদলেও সফল হল না তারা। শুক্রবার রাতে শিলিগুড়ি ও প্রধাননগর থানার পুলিস পৃথক পৃথক অভিযান চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে। ধৃতদের নাম অঙ্কজ রায় ও মহম্মদ বাপ্পা। একজনের কাছ থেকে সেভেন এমএম পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি, আরএকজনের কাছ থেকে ছোট ইমপ্রোভাইস পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়েছে। শহরে এনিয়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
পুলিসের সন্দেহ, বিভিন্ন সময় ধৃতরা জেলে গিয়েছিল। সম্ভবত সহজে মোটা টাকা কামানোর টোপে জেলে বসেই এরা অস্ত্র পাচারের নামার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। শিলিগুড়ির পুলিস অফিসাররা বলেন, ধৃতদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। দু’টি ঘটনাই গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অন্যান্য দিনের মতো শুক্রবার রাতেও দার্জিলিং মোড়ে টহল দিচ্ছিল প্রধাননগর থানার পুলিস। তারা সেখানে অঙ্কজকে সন্দেহজনকভাবে ঘুরতে দেখে। পুলিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পুলিস ভ্যান কাছে যেতেই অঙ্কজ পালানোর চেষ্টা করে। ধাওয়া করে তাকে আটক করেন পুলিস কর্মীরা। তল্লাশি চালিয়ে অঙ্কজের কোমর থেকে একটি সেভেন এমএম পিস্তল ও এক রাউন্ড গুলি উদ্ধার হয়। এরপর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃতের বাড়ি স্থানীয় দক্ষিণ পলাশ এলাকায়।
ঘটনার প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিসের সন্দেহ, ওই অত্যাধুনিক সেভেন এমএম পিস্তল বিক্রির উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করেছিল ধৃত। তার কাছে পিস্তল ও গুলির সাঙ্কেতিক নাম ‘ঘোড়া’ ও ‘দানা’। শিলিগুড়ির ডেপুটি পুলিস কমিশনার (পশ্চিম) বিশ্বচাঁদ ঠাকুর বলেন, ধৃতের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ওই রাতেই শহরের মিলনপল্লির পিএনটি মোড়ের কাছ থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ আরএকজনকে পাকড়াও করে শিলিগুড়ি থানার পুলিস। ধৃতের নাম মহম্মদ বাপ্পা। ধৃতের কাছ থেকে ছোট ইমপ্রোভাইস পিস্তল ও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। বর্ধমান রোডের কয়লা ডিপো এলাকায় ধৃতের বাড়ি। সেও সেটি বিক্রির উদ্দেশ্যে সংগ্রহ করেছিল বলে পুলিস জানতে পেরেছে। শিলিগুড়ির ডেপুটি পুলিস কমিশনার (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, সোর্স মারফত খবর পেয়ে আগ্নেয়াস্ত্র সহ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে।
প্রসঙ্গত, আগ্নেয়াস্ত্র সহ ধৃত দু’জনের বিরুদ্ধেই পুরনো কিছু অভিযোগ রয়েছে। পুলিস সূত্রে খবর, বিভিন্ন সময় চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে ধৃতরা জেলে গিয়েছিল। সম্ভবত সেখানেই ধৃতদের সঙ্গে অস্ত্র কারবারিদের পরিচয় হয়। এরপর সহজে টাকা কামানোর টোপ গিলে ওরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। সেজন্যই ওরা অস্ত্র কারবারে জড়িয়ে পড়ে। ধৃতদের সঙ্গে বিহারের মদতপুষ্ট বেআইনি অস্ত্র কারবার সিন্ডিকেটের সংস্রব রয়েছে বলেই সন্দেহ।
দুই ডেপুটি পুলিস কমিশনারের বক্তব্য, ধৃতরা ‘হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার’। ধৃতরা অস্ত্রের কনসাইনমেন্ট কোথা থেকে নিয়ে এসেছিল, কাদের কাছে হস্তান্তর করত, তা জানার চেষ্টা চলছে।