Bartaman Logo
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ত্রাণ শিবিরে পড়াশোনা দুই এডিএম-এসডিও, ডিআই নিলেন ক্লাস

বাড়ির একতলা ডুবে রয়েছে জলে। স্কুলও জলের তলায়। বাড়ির চেনা আঙিনা আর বিদ্যালয়ের চৌকাঠ ছেড়ে তাই ক্লাস ওয়ানের মেহেনাজ খাতুন থেকে নবম শ্রেণির আজমাইল আলি কিংবা একাদশের ছাত্রী উজলেফা খাতুনের আপাতত ঠাঁই হয়েছে ভূতনি সংলগ্ন মথুরাপুর মডেল স্কুলের ত্রাণ শিবিরে।

ত্রাণ শিবিরে পড়াশোনা দুই এডিএম-এসডিও, ডিআই নিলেন ক্লাস
  • ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সৌম্য দে সরকার, মালদহ (ভূতনি): বাড়ির একতলা ডুবে রয়েছে জলে। স্কুলও জলের তলায়। বাড়ির চেনা আঙিনা আর বিদ্যালয়ের চৌকাঠ ছেড়ে তাই ক্লাস ওয়ানের মেহেনাজ খাতুন থেকে নবম শ্রেণির আজমাইল আলি কিংবা একাদশের ছাত্রী উজলেফা খাতুনের আপাতত ঠাঁই হয়েছে ভূতনি সংলগ্ন মথুরাপুর মডেল স্কুলের ত্রাণ শিবিরে। কিন্তু প্রাথমিক, উচ্চ প্রাথমিক কিংবা হাইস্কুলের এই ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়ার সঙ্গে যেন দূরত্ব তৈরি না হয়, তা নিশ্চিত করতে ময়দানে নেমেছেন মালদহ জেলা প্রশাসন থেকে শিক্ষা বিভাগের আধিকারিকরা। 

Advertisement

বানভাসি পড়ুয়াদের ত্রাণ শিবিরেই ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে শ্রেণিকক্ষের চেনা পরিবেশ। বৃহস্পতিবার দেখা গিয়েছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পাশাপাশি ত্রাণ শিবিরে গিয়ে ওই ছাত্রছাত্রীদের পড়াচ্ছেন অতিরিক্ত জেলাশাসক থেকে মহকুমা শাসক এবং জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শকরাও। 
ত্রাণ শিবিরের আলাদা আলাদা ঘরে শুরু হয়েছে প্রাথমিক এবং উচ্চ প্রাথমিকের পড়ুয়াদের ক্লাস। দেওয়া হয়েছে খাতা, কলম, বই সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীও।
অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা) সপ্তর্ষি নাগ, অতিরিক্ত জেলাশাসক (স্বাস্থ্য) অনিরুদ্ধ নন্দী, মহকুমা শাসক (মালদহ সদর) শম্ভুদীপ সরকার, জেলা বিদ্যালয় পরিদর্শক (প্রাথমিক) মলয় মণ্ডল এবং জেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক মৃণ্ময় রায় ক্লাস নিলেন ছাত্রছাত্রীদের। পিঠ চাপড়ে উৎসাহ দিলেন। ‘ভেঙে পড়বে না’ বলে মনোবলও জোগালেন।
পরে অতিরিক্ত জেলাশাসক (শিক্ষা) বলেন, মালদহের চারটি ব্লকের মোট ১১৯টি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এই মুহূর্তে জলমগ্ন। নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের জন্য অনলাইন ক্লাস চালু হয়েছে। প্রথম থেকে অষ্টম শ্রেণির ছাত্রছাত্রীদের পড়ানো হচ্ছে রিলিফ সেন্টারগুলিতে। এর পিছনে দু’টি উদ্দেশ্য রয়েছে। প্রথমত, বন্যা পরিস্থিতির শিকার এই পড়ুয়াদের লেখাপড়ার সঙ্গে যোগাযোগ যেন বিচ্ছিন্ন না হয়ে যায়। 
দ্বিতীয়ত, পড়াশোনার মাধ্যমে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখা। শিক্ষক শিক্ষিকারা তো পড়াচ্ছেনই। আধিকারিকরাও সুযোগ পেলে এই ছাত্রছাত্রীদের লেখাপড়া শেখাচ্ছেন। 
মলয় মণ্ডল বলেন, মথুরাপুরের ত্রাণ শিবিরে রয়েছে ৭২জন পড়ুয়া। তাদের মধ্যে ৬৩জন প্রাথমিকের ছাত্রছাত্রী। 
এদিন বেশ উত্সাহের সঙ্গে ক্লাসে হাজির হয়েছিল ত্রাণ শিবিরে পরিবারের সঙ্গে থাকা পড়ুয়ারা। প্রথম শ্রেণির ছাত্রী মেহেনাজ দৌড়ে গিয়ে সবুজ কালিতে সাদা বোর্ডে লিখেছে অ থেকে ঔ। মুখে বেশ তৃপ্তির হাসি।
সামিরুদ্দিনটোলার বাড়ি ছেড়ে আসা অষ্টম শ্রেণির নাবিউল হক জানিয়েছে, ক্লাস হচ্ছে। যতটা পারছি পড়াশোনার মাধ্যমে বন্যা পরিস্থিতির ভয় কাটানোর চেষ্টা করছি।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ