সুকান্ত বসু, কলকাতা: ২০২৫ সালে মার্চ মাসে বড়বাজার থানা এলাকার এক ডাকাতির মামলায় দুই অভিযুক্তকে হন্যে হয়ে খুঁজে বেড়াচ্ছিল কলকাতা গোয়েন্দা পুলিশ। জারি হয়েছিল গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ও হুলিয়া। সেই মামলায় ধৃত চারজনের বিরুদ্ধে শুনানি শুরু হওয়ার মুখে পলাতক দুই অভিযুক্ত অখিলেশ কুমার ও গলু কুমার সম্প্রতি কলকাতা নগর দায়রা আদালতে (বিচারভবন) আত্মসমর্পণ করেন। সেই খবর পাওয়া মাত্র লালবাজারের গোয়েন্দারা আদালতে ছুঁটে যান। যাতে কোনও অবস্থাতে তাঁরা জামিন না পান, সেজন্য সবরকম প্রস্তুতিও নেওয়া হয়। শেষে বিচারক শ্রুতিরূপা ঘোষ মাজি তাঁদের জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই ধৃতের ‘গেইট প্যাটার্ন’ (হাঁটা‑চলার নমুনা) সংগ্রহের জন্য আদালতে পুলিশের পক্ষ থেকে আবেদন জাননো হয়। সেই আবেদনও মঞ্জুর হয়েছে। ব্যাঙ্কশাল কোর্টের একজন বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেটের (জেএম) উপস্থিতিতে প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগারে শুক্রবার ওই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। তাতে হাজির করা হয় ওই দুই অভিযুক্তকেও।
গত বছর এপ্রিল মাসে বড়বাজার এলাকায় একটি সংস্থায় আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে বেশ কয়েক লক্ষ টাকা ডাকাতির অভিযোগ ওঠে। পুলিশ তদন্তে নেমে চারজনকে গ্রেপ্তার করে। বাকি দুই অভিযুক্তের খোঁজ না পাওয়ায় তাঁদেরকে ‘ফেরার’ দেখিয়ে চারজনের বিরুদ্ধে ব্যাঙ্কশাল আদালতে চার্জশিট পেশ করা হয়। পরে মামলাটি বিচারের জন্য যায় কলকাতার বিচারভবনের নগর দায়রা আদালতে। সেখানে মূল মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার তোড়জোড় শুরু হয়। আর তখনই বিহারের দানাপুরের বাসিন্দা পলাতক দুই অভিযুক্ত আদালতে হাজিরা দেন। তাঁরা কলকাতার বিচারভবনে সংশ্লিষ্ট কোর্টে হাজির হয়ে বলেন, আমরা ডাকাতির কেসে অভিযুক্ত। আমরা আত্মসমর্পণ করতে চাই। খবর যায় পুলিশে। মামলার নথিপত্র বার করা হয়। বিচারক সমস্ত নথিপত্র খতিয়ে দেখে তাঁদেরকে জেল হেপাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। শীঘ্রই এই দুই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সাপ্লিমেন্টারি চার্জশিট পেশ করার কথা। এদিকে, মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পথে নতুন কোনও অভিযুক্ত ধরা পড়লে ফের শুনানি শুরু হওয়াটাই দস্তুর। এই ক্ষেত্রেও সেই আইনি প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে বলে আদালত সূত্রের খবর। A